• শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:৪৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
‎সুন্দরবনে অবমুক্ত বাঘিনীর রহস্যময় অন্তর্ধান: ৪০টি ক্যামেরায় মিলছে না অস্তিত্ব ‎ ‎ নাচোলে জাতীয় মৎস্য পক্ষ ২০২৬ এর উদ্বোধন নাচোলে জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬ এর বাছাই পর্ব অনুষ্ঠিত নাচোল উপজেলা আ,লীগের সাধারন সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আটক ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগ পেলেন ইউপি সদস্য নাচোলে মাদক, বাল্যবিয়ে ও ইভটিজিং বিষয়ক উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত মোবাইল অ্যাপসে মুরগির খামার নিয়ন্ত্রণ নাচোলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পকেট কমিটি গঠনের অভিযোগ প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে নাচোলে নতুন কুড়ি স্পোর্টস-২০২৬ এর দেশ সেরা শামিমকে সংবর্ধনা নাচোলে ডাসকো’র উদ্যোগে ৩২তম আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস পালিত

ঝিনাইদহে মহেশপুরে এক বিল নিয়ে মামলায় নিস্ব ৫ পরিবার

Reporter Name / ৮২৬ Time View
Update : মঙ্গলবার, ১২ এপ্রিল, ২০২২

ঝিনাইদহ মহেশপুর সংবাদ দাতাঃ-

ঝিনাইদহের মহেশপুরে এক বিল নিয়ে মামলায় পথে বসেছে পাঁচ পরিবার। জমিসহ বাড়ির গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগী বিক্রী করে মামলার খরচ যোগাচ্ছে তার। সব হারিয়ে কেউ রাস্তার হকার ও ইটভাটায় শ্রমিকের কাজ করছেন। প্রতিপক্ষ বিলটি দখলে নিতে এ পর্যন্ত ৭/৮ মামলা দায়ের করেছেন। ২০১০ ইং সাল থেকে এসব মামলা চলে আসছে।
সর্বশেষ চলতি বছরের ১৬ মার্চ ঝিনাইদহের বিজ্ঞ সিনিয়র সহকারী জজ আদালত (মহেশপুর) বিবাদীদের বিরুদ্ধে জমিতে না যাওয়ার জন্য চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার রায় ও ডিক্রী প্রদান করেন। তারপরও চাষ আবাদে বাধা সৃষ্টি করছে ঐ বিবাদীরা। বিবাদীদের সহযোগীতা করছে স্থানীয় কিছু দাদাল চক্র এমন অভিযোগ বাদী পক্ষের।
সর্বশেষ ঝিনাইদহ আদালতের দেওয়া রায় ও ডিক্রী সূত্রে জানা গেছে, জেলার মহেশপুর উপজেলার ২নং ফতেপুর ইউনিয়নের ১০৭ নং যোগীহুদা মৌজার এসএ রেকর্ডীয় মালিক এ্যাড. আবু সালেহ গজনবী ওয়ারেশদের কাছ থেকে ২১/০৯/২০১০ সালে মহেশপুর সাবরেজিষ্ট্রি অফিসে ৮৫০৪ নং কবলা দলিলের মাধ্যমে ৭.৮৭ একর জমি ক্রয় করেন মোঃ আবদুল জলিল, সিরাজুল ইসলাম, জাহিদুল ইসলাম, আবদুস ছালাম ও ইরিনা খাতুন নামের পাঁচজন। যার এসএ খতিয়ান নং ১১৩/১, দাগ নং ৭২৩। যার হাল দাগ নম্বর ২১১৬ ও খতিয়ান ৪২৪।
জমিটি ক্রয়ের এক বছর পর জাল জালিয়াতির মাধ্যমে ওই জমির মালিক দাবী করে আনছার আলী গং বাদি হয়ে ৪/০৭/২০১১ তারিখে মহেশপুর থানায় জেআর ৯৫/১১ একটি ফৌজদারি মামলা করেন। এই মামলায় জমিটির ক্রয়সূত্রে মালিকদের বিবাদী করা হয়। ঐ মামলায় অভিযোগের প্রকৃত তথ্য প্রমাণ উপস্থাপন করতে না পারায় আদালত মামলাটি খারিজ করে দেন। মামলার বাদী আনছার আলী গং ছলেনামার মাধ্যমে জমিটির মালিক বলে দাবী করে আসছেন।
তবে, ২৩০/২০১০ মামলার বিবাদী আনছার গং জাল জালিয়াতির মাধ্যমে জমিটির মালিক দাবী করছেন এবং তাদের উত্থাপিত ছলেনামাটি অসৎ উদ্দেশ্যে সৃষ্টি বলে আদালত উল্লেখ করে। এ ছাড়া ঝিনাইদহের বিজ্ঞ ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইবুনাল আদালত ৪২৩/১৫ মামলায়ও তাদের স্বপক্ষে উত্থাপিত কাগজপত্র পরস্পর সাংঘর্ষিক ও জাল জালিয়াতি বলে উল্লেখ করেন।
মামলায় পরিাজিত হয়ে আনছার গং একের পর এক মামলা দিয়ে প্রকৃত ক্রয়সূত্রে মালিক মোঃ আবদুল জলিল, সিরাজুল ইসলাম, জাহিদুল ইসলাম, আবদুস ছালাম ও ইরিনা খাতুনকে গত ১২ বছর ধরে হয়রানি করে আসছে। মামলার খরচ যাগাতে গিয়ে পরিবারগুলো সর্বশান্ত হয়ে গেছে। মামলার খরচ যোগাতে জমি, বাড়ির হাঁস মুরগী, গরু ছাগলসহ সব কিছু বিক্রি করে দিয়েছেন। এখন শুধু ভিটেমাটি ছাড়া আর কিছুই নেই। জমি ক্রয় করে ঐ পাঁচ পরিবার প্রত্যেকেই ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা ঋণী।

জামির মালিক আবদুল জলিল জানান, জমিটি আমিসহ আমার আরো আপন দুই ভাই, একজন চাচাতো ভাই ও এক ভাবি এ্যাড. আবু সালেহ গজনবীর ওয়ারেশদের কাছ থেকে জমিটি ক্রয় করেন। জমি ক্রয়ের এক বছর পর থেকে আমার প্রতিপক্ষ আনছার গং ঐ জমির মালিক দাবী করে আদালতে ৭/৮টি মামলা করেন। ঐ মামলার খরচ চালাতে গিয়ে আমরা পাঁচ পরিবার সর্বশান্ত হয়ে গেছি। জমাজমি, গরু ছাগলসহ সম্পদ যা ছিল সবই বিক্রি করেছি। একটি সময় বাড়ির কাজের জন্য আনা ইট ও বালিও বিক্রি করে দিয়ে মামলার খরচ চালায়। সব হারিয়ে এক ভাই ইটভাটায় এবং এক ভাই রাজমিস্ত্রি যোগালের কাজ করছেন। চাচাতো ভাই আবদুস ছালাম কুমিল্লায় গিয়ে হকারি করছেন। এখন আদালত সব মামলাও রায় ও ডিক্রী আমাদের পক্ষে দিয়েছে। জমি আমাদের দখলে রয়েছে কিন্তু চাষ করতে গেলে প্রাণনাশের হুমকি ধামকি দেওয়া হচ্ছে। আমরা এখন নিরাপত্তহীনতায় দিন পার করছি।
মামলার বিবাদী আনছার আলী সর্বশেষ রায়ের কথা উল্লেখ করে জানান, আমরা ইতোমধ্যে আপিল করেছি। ফলে পরবর্তী আদেশ না হওয়া পর্যন্ত জমি কেউ ভোগদখল করতে পারবে না। তবে আপিলের পক্ষে তারা কোন কাগজপত্র দেখাতে পারেনি।
মহেশপুর থানার ওসি আব্দুস সেলিম রেজা বলেন, আমি সদ্য এ থানায় যোগদান করেছি। জমির বাদী-বিবাদী থানায় এসেছিল। দু’পক্ষই জমিটি তাদের বলে দাবি করছে। দাবির স্বপক্ষে উভয় পক্ষই আদালতের কাগজপত্রও দেখাচ্ছে। তাই আইনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে উভয় পক্ষকে আগামী ১৫ এপ্রিল বিজ্ঞ আইনজীবিসহ থানায় এসে কাগজপত্র দেখাতে বলা হয়েছে। যাদের কাগজপত্র সঠিক থাকবে পুলিশ তাকে আইনি সহযোগীতা করবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
amazing-link-zeus.ca