• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:২৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম
ধৈর্যের পরীক্ষায় সফল সাদমান, বাংলাদেশের লড়াকু শুরু মেট্রোরেল প্রকল্পে আড়াই লাখ কোটি টাকার মহাপরিকল্পনা, কাজ পেল ভারতীয় প্রতিষ্ঠান ভারতীয় গোয়েন্দার সঙ্গে গোলাম পরওয়ারের গোপন বৈঠকের অভিযোগ, ভিডিও প্রকাশ করলেন রাশেদ খাঁন রংপুরে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কা, নিহত ৩ নতুন মোটরসাইকেল ও ড্রাইভিং লাইসেন্স করলে কী কী সুবিধা? আসিফ আকবরের গাড়িতে গুলি,সিএনজির নম্বরই শনাক্ত করতে পারছে না এআই ক্যামেরা! আত্রাইয়ে ৬৮ গ্রাম পুলিশ পেলেন বাইসাইকেল, বাড়বে মাঠপর্যায়ের তৎপরতা ভোট গণনায় এগিয়ে নেতানিয়াহুর দল, বিরোধী জোটের সামনে কঠিন সমীকরণ নবম পে স্কেলে সিনিয়রদের টপকে বড় অঙ্কের বেতন জুনিয়রদের স্টার সিনেপ্লেক্স অনলাইনে টিকিট কাটার নিয়ম, মূল্য, শো টাইম ও বুকিং

২৯ অক্টোবর মধ্যরাত থেকে উঠে যাচ্ছে ইলিশ ধরার নিষেধাজ্ঞা

Reporter Name / ২১ Time View
Update : বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬

ইলিশের প্রজনন ও উৎপাদন বাড়াতে মেঘনা নদীতে জারি করা ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা ২৯ অক্টোবর মধ্যরাতে উঠে যাচ্ছে। নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পর নদীতে মাছ ধরতে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন লক্ষ্মীপুরের ৫৪ হাজার নিবন্ধিত জেলে। এ জন্য মাছঘাটগুলোতে জাল ও নৌকা মেরামতসহ প্রয়োজনীয় কাজ সারতে ব্যস্ত সময় পার করছেন তাঁরা।

মৎস্য বিভাগ ও জেলেদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জাটকা সংরক্ষণ ও মা ইলিশ রক্ষায় ৮ অক্টোবর মধ্যরাত থেকে ২৯ অক্টোবর মধ্যরাত পর্যন্ত মেঘনা নদীতে মাছ ধরা নিষিদ্ধ ছিল। এ সময়ে ইলিশ আহরণ, পরিবহন, বাজারজাতকরণ ও মজুতের ওপরও নিষেধাজ্ঞা কার্যকর ছিল।

লক্ষ্মীপুরের রামগতির আলেকজান্ডার থেকে চাঁদপুরের ষাটনল পর্যন্ত মেঘনা নদীর প্রায় ১০০ কিলোমিটার এলাকায় এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়। নিষেধাজ্ঞা চলাকালে আইন বাস্তবায়নে মৎস্য বিভাগ, নৌ-পুলিশ, কোস্ট গার্ড ও স্থানীয় প্রশাসন যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করে।

মৎস্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞার প্রথম ২০ দিনে ২২৯টি অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। এ সময় ১৫০ জেলেকে আটক করা হয়। তাঁদের মধ্যে ৭৩ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড এবং ৭৭ জনকে মোট ১ লাখ ৯৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ ছাড়া ১০০টি মামলা করা হয়েছে। অভিযানে সাড়ে চার টন ইলিশ, ২০টি নৌকা ও ৩৭ লাখ মিটার কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়। জব্দ করা ইলিশ পরে বিভিন্ন এতিমখানায় বিতরণ করা হয়।

নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার সময় ঘনিয়ে আসায় মাছঘাটগুলোতে জেলেদের ব্যস্ততা বেড়েছে। মতিরহাট ঘাটের জেলে সফিক উল্যা ও মানা মাঝি বলেন, তাঁরা সরকারের নিষেধাজ্ঞা মেনে নদীতে মাছ ধরতে যাননি। তাঁদের ভাষ্য, এবার অভিযান ছিল বেশি কড়াকড়ি। এখন জাল ও নৌকা মেরামত করে নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন তাঁরা।

মজুচৌধুরীরহাট ঘাটের জেলে আবুল কালাম ও তোফায়েল আহমদ বলেন, নিষেধাজ্ঞা শেষ হলে তাঁরা আবার মাছ ধরতে নদীতে নামবেন। এ জন্য নৌকা ও জালসহ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাঁদের আশা, মাছ শিকার শুরু হলে পরিবারের খরচ ও সন্তানদের পড়াশোনার ব্যয় মেটানো সহজ হবে।

এদিকে নিষেধাজ্ঞাকালে জেলেদের সহায়তায় প্রত্যেকের জন্য ২৫ কেজি করে ভিজিএফের চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে অনেক জেলে বরাদ্দের চাল না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন। অন্যদিকে, মতিরহাট ঘাটের এক জেলে জানিয়েছেন, তাঁরা এবার সময়মতো চাল পেয়েছেন।

মজুচৌধুরীরহাট ঘাটের আড়তদার মিন্টু বলেন, নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার আগে আড়তের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। নিষেধাজ্ঞার পর নদীতে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়বে বলে আশা করছেন তিনি।

মজুচৌধুরীরহাট নৌ-পুলিশের উপপরিদর্শক মো. আবদুর রহমান বলেন, নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে দিনরাত নদীতে অভিযান চালানো হয়েছে। বিভিন্ন বাধার মুখেও অভিযান অব্যাহত ছিল। নৌ-পুলিশ, মৎস্য বিভাগ, কোস্ট গার্ড ও স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় অভিযান প্রায় সফলভাবে বাস্তবায়ন করা গেছে বলে তিনি দাবি করেন।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন বলেন, গত দুই বছর মাছের উৎপাদন কম ছিল। তবে এবারের অভিযান সফল হওয়ায় গত বছরের তুলনায় উৎপাদন বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। এবার মাছের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২৫ হাজার মেট্রিক টন, যা গত বছরের তুলনায় ২ হাজার মেট্রিক টন বেশি। ভবিষ্যতেও নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
amazing-link-zeus.ca