• বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৪৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
রামপাল থানা পুলিশের অভিযানে চোরাই মাল সহ আসামি গ্রেফতার ভোটার স্থানান্তরের আবেদনের সময় বাড়ল, শেষ তারিখ কবে জানুন কঠিন সময়ে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী কোচ লিওনেল স্কালোনি বরগুনায় জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস পালিত, ১৫ জন পেলেন ৫১ লাখ টাকার চেক কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে আন্তঃজেলা মোবাইল চোরাকারবারি চক্রের হোতা গ্রেফতার কুমিল্লায় হাসপাতালে অনুপস্থিত ৫ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার নির্দেশ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর তাহেরপুরে মাদকবিরোধী স্লোগানে এক দিনব্যাপী ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত আনোয়ারায় চায়না ইকোনমিক জোনের প্রথম কারখানা চালু হবে ১৮ মাসের মধ্যেই নাচোলে নজরুল বর্ষ উপলক্ষে  সেমিনার ও পুরস্কার বিতরণ ইসরায়েলে নির্বাচনের দিন দাবানল, বন্ধ তিন মহাসড়ক

সাইবার হামলার আশঙ্কায় বন্ধ এনআইডি সার্ভার, কী জানা যাচ্ছে?

Reporter Name / ২৭ Time View
Update : বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬

জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) অনলাইন সার্ভার সাময়িকভাবে বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন সেবাপ্রত্যাশীরা। সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে বুধবার (২৮ অক্টোবর) নির্বাচন কমিশনের (ইসি) এনআইডি সেবা ব্যবস্থায় এই বিঘ্ন দেখা দেয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সার্ভার সচল করতে কারিগরি দল কাজ করছে। তবে এ ঘটনায় এনআইডির তথ্য চুরি হয়েছে বা সার্ভারে সাইবার হামলা সফল হয়েছে—এমন কোনো নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

জাতীয় পরিচয়পত্র বাংলাদেশের নাগরিকদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিচয়পত্র। ব্যাংক হিসাব খোলা, বিভিন্ন সরকারি সেবা গ্রহণ, সিম নিবন্ধন, আর্থিক লেনদেনসহ নানা কাজে এনআইডির তথ্য প্রয়োজন হয়। ফলে এনআইডির অনলাইন সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ থাকলেও নাগরিকদের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সেবাপ্রদানকারী সংস্থার কাজেও সমস্যা তৈরি হতে পারে।

বুধবার নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের এনআইডি শাখার কর্মকর্তারা সার্ভার বন্ধ থাকার বিষয়টি জানান। এনআইডি অনুবিভাগের সিস্টেম ম্যানেজার মুহাম্মদ আশরাফ হোসেন বলেন, কারিগরি দল কাজ করছে এবং কাজ শেষ হলে দ্রুত সার্ভার চালু করা হবে। তবে সেবা পুরোপুরি কখন স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সময় জানানো হয়নি।

এনআইডি সার্ভার বন্ধের খবর এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন বাংলাদেশে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অনলাইন ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ে সতর্কতা জারি করেছে সরকারের সাইবার নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট সংস্থা বিজিডি ই-গভ সিআইআরটি। সংস্থাটির সতর্কবার্তায় ইন্টারনেটে উন্মুক্ত কিছু সরকারি, বেসরকারি ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের ওয়েব অ্যাপ্লিকেশনে পুরোনো, ঝুঁকিপূর্ণ অথবা মেয়াদোত্তীর্ণ পিএইচপি সংস্করণ ব্যবহারের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। এসব ব্যবস্থায় নিরাপত্তা হালনাগাদ না থাকলে সাইবার হামলার ঝুঁকি বাড়তে পারে।

পিএইচপি একটি বহুল ব্যবহৃত প্রোগ্রামিং ভাষা, যা দিয়ে অনেক ওয়েবসাইট ও অনলাইন সেবা পরিচালিত হয়। এ ভাষার দুটি গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্ত হওয়ার পর বিজিডি ই-গভ সিআইআরটি ২২ অক্টোবর ‘PHP2Shell’ নামে পরিচিত ঝুঁকি নিয়ে সতর্কতা জারি করে। পরবর্তী সময়ে ২৫ অক্টোবরের আরেকটি সতর্কবার্তায় সংস্থাটি জানায়, বাংলাদেশে কিছু প্রতিষ্ঠান এখনো ঝুঁকিপূর্ণ ওয়েব ব্যবস্থা ব্যবহার করছে এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।

এ ধরনের দুর্বলতা কাজে লাগাতে পারলে আক্রমণকারী অনুমতি ছাড়াই কোনো ঝুঁকিপূর্ণ সার্ভারে ক্ষতিকর কোড চালাতে পারে। এর ফলে অননুমোদিত প্রবেশ, তথ্য ফাঁস, সার্ভারের নিয়ন্ত্রণ হারানো কিংবা অনলাইন সেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। তবে কোনো ওয়েবসাইটে পুরোনো পিএইচপি সংস্করণ পাওয়া গেলেই সেটি হ্যাক হয়েছে, এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। প্রকৃত ঝুঁকি নির্ভর করে ব্যবহৃত সংস্করণ, নিরাপত্তা হালনাগাদ, সার্ভারের কনফিগারেশন এবং অন্যান্য সুরক্ষাব্যবস্থার ওপর।

এই বৈশ্বিক সাইবার নিরাপত্তা সতর্কতার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল। বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট ২২ অক্টোবর থেকে বন্ধ থাকার পর ২৫ অক্টোবর সকাল ৮টার দিকে আবার সচল হয় বলে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) জানিয়েছে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য সাইবার ঝুঁকি এড়াতে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ওয়েবসাইট বন্ধ রাখা হয়েছিল। অর্থাৎ ওয়েবসাইট সাময়িকভাবে বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিজেই সাইবার হামলা সফল হওয়ার প্রমাণ নয়।

এনআইডি সার্ভারের ক্ষেত্রেও তাই সতর্কতার সঙ্গে তথ্য বোঝা প্রয়োজন। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে সার্ভার বন্ধের কারণ হিসেবে সাইবার হামলার আশঙ্কার কথা বলা হলেও, প্রথম আলোতে প্রকাশিত আরেক প্রতিবেদনে এনআইডি সেবা বন্ধ থাকাকে রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, সার্ভার বন্ধ থাকার সময় হ্যাকিংয়ের কোনো নিশ্চিত লক্ষণ পাওয়া যায়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। ফলে সার্ভার বন্ধের সুনির্দিষ্ট প্রযুক্তিগত কারণ এবং কোনো অনুপ্রবেশ ঘটেছে কি না, সে বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা গুরুত্বপূর্ণ।

এনআইডি ডেটাবেজে বিপুলসংখ্যক নাগরিকের ব্যক্তিগত তথ্য সংরক্ষিত রয়েছে। এ কারণে এ ধরনের ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নাম, জন্মতারিখ, ঠিকানা, পরিচয়পত্র নম্বরসহ ব্যক্তিগত তথ্য অননুমোদিত কারও হাতে চলে গেলে পরিচয় জালিয়াতি বা প্রতারণার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তবে বর্তমান ঘটনায় নাগরিকদের তথ্য ফাঁস হয়েছে বলে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তাই অযথা আতঙ্কিত না হয়ে নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট সাইবার নিরাপত্তা সংস্থার আনুষ্ঠানিক ঘোষণার দিকে নজর রাখা উচিত।

এনআইডি সার্ভার সাময়িকভাবে বন্ধ থাকলে অনলাইনে পরিচয়পত্রের তথ্য যাচাই, সংশোধনসংক্রান্ত কাজ কিংবা সংশ্লিষ্ট কিছু সেবা গ্রহণে বিলম্ব হতে পারে। তবে সব সেবা বন্ধ রয়েছে কি না, তা নির্ভর করবে কোন সিস্টেম ও কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটেছে তার ওপর। জরুরি প্রয়োজনে নাগরিকরা নির্বাচন কমিশনের এনআইডি সেবা পোর্টাল https://services.nidw.gov.bd/ অথবা নির্বাচন কমিশনের সরকারি ওয়েবসাইট https://ecs.gov.bd/ থেকে সর্বশেষ তথ্য যাচাই করতে পারেন। সেবা চালু না থাকলে বারবার অজানা লিংকে প্রবেশ না করে পরে আবার চেষ্টা করা কিংবা সংশ্লিষ্ট অফিসের নির্দেশনা অনুসরণ করা ভালো।

এ সময় নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তার বিষয়েও সতর্ক থাকা জরুরি। এনআইডি সার্ভার বন্ধ থাকার সুযোগ নিয়ে কেউ ফোন, মেসেজ বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়পত্রের তথ্য, পাসওয়ার্ড, ওটিপি কিংবা অর্থ চাইলে যাচাই না করে সাড়া দেওয়া উচিত নয়। কোনো ব্যক্তি বা ওয়েবসাইট এনআইডির তথ্য ফাঁস হয়েছে বলে দাবি করলেই তা বিশ্বাস করা ঠিক হবে না। এমন দাবি যাচাইয়ের জন্য সরকারি সূত্র অনুসরণ করা এবং সন্দেহজনক লিংকে ব্যক্তিগত তথ্য না দেওয়াই নিরাপদ।

অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব হলো সার্ভারের নিরাপত্তা পরীক্ষা, প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার হালনাগাদ এবং সেবা পুনরায় চালুর আগে যথাযথ যাচাই সম্পন্ন করা। একই সঙ্গে সেবা বন্ধ থাকার কারণ, নাগরিকদের ওপর এর সম্ভাব্য প্রভাব এবং পুনরায় চালুর সময় সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য প্রকাশ করলে বিভ্রান্তি কমবে। গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক তথ্য সংরক্ষণকারী ব্যবস্থার ক্ষেত্রে নিয়মিত নিরাপত্তা পরীক্ষা, ব্যাকআপ ব্যবস্থা এবং দুর্যোগের সময় সেবা পুনরুদ্ধারের প্রস্তুতিও গুরুত্বপূর্ণ।

সব মিলিয়ে, সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে এনআইডি সার্ভার সাময়িকভাবে বন্ধ থাকার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হলেও এখন পর্যন্ত নাগরিকদের তথ্য চুরি বা সফল সাইবার হামলার কোনো নিশ্চিত প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি। নির্বাচন কমিশনের কারিগরি দল সার্ভার সচল করতে কাজ করছে বলে জানিয়েছে। তাই গুজবে আতঙ্কিত না হয়ে সরকারি ঘোষণা অনুসরণ করুন, ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষিত রাখুন এবং সেবা স্বাভাবিক হওয়ার বিষয়ে নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে আপডেট নিন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
amazing-link-zeus.ca