• বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:২৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম
নরসিংদীতে রাস্তায় পড়ে থাকা এসএসসি পরীক্ষার ২৬৮ খাতা উদ্ধার রামুতে বন্য হাতির আক্রমণে মা মেয়ের মর্মান্তিক মৃত্যু বাহুবলে বন্যাদুর্গত হাওরাঞ্চল পরিদর্শন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তার আশ্বাস মহানন্দা সেতুতে টোল আদায় বন্ধে চাঁপাইনবাবগঞ্জে মানববন্ধন নাচোলে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহের সমাপনি ও পুরস্কার বিতরণ বেলগাছি রেলওয়ে স্টেশন অবহেলায় জর্জরিত, চরম দুর্ভোগে যাত্রীরা টাঙ্গাইলে পরিমাপে জ্বালানি তেল কম: ৫০ হাজার টাকা জরিমানা চিতলমারীতে হতদরিদ্র রিনা বেগম পেলেন নতুন গৃহ বেনাপোলে পণ্য পরিবহন বন্ধ রেখে বন্দর চেয়ারম্যানের পদত্যাগ দাবি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় রাজস্ব আদায় ও ভূমি সেবায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসকের কঠোর নির্দেশনা

রাজশাহীর বাঘায় রক্ষক যখন ভক্ষকঃআইনি সহায়তা নিয়ে প্রশাসন

Reporter Name / ২৫১ Time View
Update : শুক্রবার, ২৯ জানুয়ারী, ২০২১

বাঘা প্রতিনিধিঃ
রাজশাহীর বাঘা উপজেলার পদ্মা নদীতে এলাকাবাসী ও কৃষকের অভিযোগে অবশেষে বালু উত্তোলন বন্ধ করলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিন রেজা। বৃহস্পতিবার (২৮ জানুয়ারী) দুপুরে নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানা পুলিশ পদ্মায় সরেজমিনে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া বালু উত্তোলন বন্ধ করে দেন। একই সাথে আগামি এক দিনের মধ্যে ইজারাদারকে স্থাপনকৃত পাইপ তুলে নেয়ার নির্দেশ প্রদান করেন।

অভিযোগে জান যায়, পাকুড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান মেরাজুল ইসলাম রাজশাহী জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে বাঘা উপজেলার চকরাজাপুর ইউনিয়নের লক্ষী নগর পদ্মা নদী এবং কিশোরপুর নদী থেকে বালু উত্তোলনের ইজারা নিলেও বর্তমানে তিনি অবৈধ ভাবে পাকুড়িয়া এলাকার কামাল দিয়ার মৌজা থেকে বালু তুলছিলেন। এতে করে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্থ হয় এবং প্রতিকার চেয়ে অভিযোগ করেন।

অথচ এক সময় রাজশাহীর বাঘা উপজেলার পাকুড়িয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ পাশদিয়ে বয়ে যাওয়া পদ্মা নদী থেকে অবৈধ বালু ও ভরাট উত্তলন এবং জোর পূর্বক ভাবে সরকারী রাস্তার উপর দিয়ে পাইপ দেওয়ার প্রতিবাদে “মানববন্ধন” করেছিলেন রাজশাহী জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও পাকুড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ এর চেয়ারম্যান মেরাজুল ইসলাম মেরাজ। এলাকাবাসীদের সাথে নিয়ে এই মানব বন্ধন করাতে বাহবা পেয়েছিলেন তিনি। হয়েছিলেন এলাকাবাসীর সুখে দুঃখের সাথী।

সেই বাহবাপাওয়া চেয়ারম্যান এখন নিজেই বালু মহলের ইজারাদার। তিনি ভাবছেন না কৃষক ও এলাকাবাসীর ক্ষতির কথা। জেলা প্রশাসক ও খনিজ মন্ত্রণালয় থেকে বালু উত্তোলনের অনুমতি পেয়েছেন রাজাপুর লক্ষী নগর ও পাকুড়িয়া ইউনিয়নের কিশোরপুর। কিন্তু অবৈধ ভাবে বালি উত্তোলন করছিলো কালিদাসখালি এলাকার কামাল দিয়ার মৌজায়।

স্থানীয় কৃষক ও এলাকাবাসীরা বলেন, পাকুড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান মেরাজুল ইসলাম (মেরাজ) সম্প্রতি কৃষি ফসলী জমি ক্ষতি করে অবৈধ ভাবে বালি উত্তোলন করে আসছিল। কালিদাসখালি এলাকায় অবৈধ ভাবে বালি উত্তোলনের ফলে নষ্ট হচ্ছে এলাকার পরিবেশ অন্য দিকে শত শত বিঘা ফসলী জমি সহ এলাকার ঘর-বাড়ি ও গাছপালা ভেঙ্গে নদী গর্ভে বিলিন হওয়ার সম্ভাবনা ।

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এক কৃষক বলেন, আমরা সাধারণ অসহায় কৃষক আর সে প্রভাবশালী নেতা আবার চেয়ারম্যান। তার সাথে আমরা কি পেরে উঠতে পারবো ? এর আগে তার বাবা রাকিব সরকার এই বালু মহল ইজারা নিতো। সে মারা যাবার পর একবার জাতীয় পার্টির রিন্টু সরকার, মহিদুল সরকার ও মামুন হোসেন নিয়েছিলেন। তখন চেয়ারম্যান মেরাজ এলাকা বাসীদের নিয়ে মানব বন্ধন করেছিল। এবার সে ইজারা পেয়েছে তাই কোন মানব বন্ধন নেই। এখন নিজের টা নিয়ে সবাই ব্যস্ত, কেউ সাধারণ অসহায় মানুষের কথা ভাবে না। আর ভাবলে এই ভাবে আমাদের ক্ষতি করে বালু উত্তলন করতে পারতো না। আর তাই এখন তাদের চলমান ও আগামীদিনের ক্ষতির হাত থেকে বাঁচাতে পররাষ্ট্র প্রতিমুন্ত্রী বাঘা চারঘাটের মাননীয় সাংসদ আলহাজ্ব মোহাম্মদ শাহরিয়ার আলমের কাছে আকুল আবেদন জানান এলাকাবাসীরা।

এলাকাবাসী ও স্থানীয় কৃষক মৌখিক ভাবে একাধিক বার অভিযোগ করেছিলেন বালি মহলের ইজারাদার ও পাকুড়িয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মেরাজুল ইসলাম মেরাজ এর কাছে। মৌখিক অভিযোগে কোন ফল পাননি কৃষকেরা। রক্ষক যখন ভক্ষক হয় তখন আইনের আশ্রয় ছাড়া কি আর করার আছে এইসকল অসহায় এলাকাবাসীর।

এ জন্য প্রতিকার চেয়ে তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ স্থানীয় সাংসদ সদস্যের নিকট একটি অভিযোগ করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিন রেজা বৃহস্পতিবার (২৮ জানুয়ারী)দুপুরে সরেজমিন বাঘা থানা পুলিশকে সাথে করে ঘটনা স্থালে যান এবং বালু উত্তোলন বন্ধ করেদেন। একই সাথে আগামি এক দিনের মধ্যে ড্রেজার সহ পাইপ সরিয়ে ফেলারও নির্দেশ প্রদান করেন।

নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিন রেজা বলেন, বাঘার পদ্মায় জেলা প্রশাসক ও খনিজ মন্ত্রণালয় থেকে যে স্থানে বালু উত্তোলনের নির্দেশ রয়েছে সেই স্থানটির নাম চক রাজাপুর ইউনিয়নের লক্ষী নগর ও পাকুড়িয়া ইউনিয়নের কিশোরপুর। অথচ বালু উত্তোলন করা হচ্ছিল কালিদাসখালি এলাকার কামাল দিয়ার মৌজায়। এ কারণে বালু উত্তোলন বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। একই সাথে পাইপসহ ড্রেজার সরিয়ে নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে

এ প্রসঙ্গে চেয়ারম্যান মেরাজুল ইসলাম মেরাজের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন সহ ঘর-বাড়ী নির্মাণের ক্ষেত্রে বালির প্রয়োজন আছে। এলাকারবাসীর স্বার্থে ইজারাকৃত স্থানে এই মূহুর্তে ভালো বালি না পাওয়ায় অন্য স্থানে তুলছিলাম। বাধা এসেছে এখন থেকে বন্ধ রাখবো।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category