• বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:৫৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
তিতাসে ৫৯২ কোটি টাকার নতুন প্রকল্প, গ্যাস নিয়ে মিলতে পারে বড় সুখবর একনেকে ৫৮ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন, বড় চমক কোন খাতে? সেন্টমার্টিন ভ্রমণে সুখবর, কাল থেকে কোন জাহাজ কখন ছাড়বে? পোরশায় দুই অবৈধ ইটভাটাকে ৪ লাখ টাকা জরিমানা। ব্যবসায়ী মানিক হত্যা মামলায় বাবা ও দুই ছেলের যাবজ্জীবন এআইয়ের চাপে ক্যানভায় বড় ছাঁটাই, ১২০০ কর্মীর সামনে অনিশ্চয়তা সেন্টমার্টিনে অগ্নিনিরাপত্তায় কোস্ট গার্ডের যৌথ মহড়া নতুন এনআইডি পেয়েই বিপাকে প্রবাসী, তাঁর নামে ১৮টি সিম নিবন্ধন ঢাবিতে ৯ মাসের বিনা মূল্যের রুশ ভাষা কোর্স চালুর উদ্যোগ দৌলতপুর খাদ্যগুদামে দুদকের অভিযান, নথিতে মিলল অসংগতি

দেশের বৃহত্তম ডেটা সেন্টারে সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু করল গ্রামীণফোন

Reporter Name / ২ Time View
Update : বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬

দেশের বৃহত্তম ডেটা সেন্টার হিসেবে পরিচিত গ্রামীণফোনের সিলেট ডেটা সেন্টারে ৩২৫ কিলোওয়াট-পিক (কেডব্লিউপি) সক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালিত অবকাঠামোয় নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর অংশ হিসেবে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গ্রামীণফোনের সঙ্গে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে কাজ করেছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান জেডটিই।

প্রকল্পের আওতায় ডেটা সেন্টারটিতে ৪৫০টি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন সোলার প্যানেল স্থাপন করা হয়েছে। গ্রামীণফোনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এটি বাংলাদেশের কোনো ডেটা সেন্টারে স্থাপিত সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর মধ্যে সর্ববৃহৎ। নতুন এই কেন্দ্র থেকে বছরে ৩০০ মেগাওয়াট-ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের আশা করছে প্রতিষ্ঠানটি। এর ফলে প্রতিবছর প্রায় ১৮৮ টন কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গমন কমানো সম্ভব হবে বলে জানানো হয়েছে।

সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি বাস্তবায়নে জেডটিই ইঞ্জিনিয়ারিং, প্রকিউরমেন্ট অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন (ইপিসি) সেবা প্রদান করেছে। ডেটা সেন্টারের পরিচালন কার্যক্রমে নবায়নযোগ্য শক্তি যুক্ত করার মাধ্যমে পরিবেশের ওপর প্রভাব কমানো এবং ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল সেবার চাহিদা পূরণে টেকসই অবকাঠামো গড়ে তোলাই এ উদ্যোগের লক্ষ্য।

সিলেট ডেটা সেন্টারে সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রটির উদ্বোধন করেন গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইয়াসির আজমান। অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানটির চিফ টেকনোলজি অফিসার আবুল কাসেম মহিউদ্দিন আল-আমিন, চিফ ফিন্যান্সিয়াল অফিসার অটো মাগনে রিসব্যাক, চিফ মার্কেটিং অফিসার ফারহা নাজ জামান এবং জেডটিই বাংলাদেশের চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার মাও জুন্যং উপস্থিত ছিলেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ইয়াসির আজমান বলেন, বাংলাদেশের ডিজিটাল রূপান্তরের ধারাবাহিকতায় এমন অবকাঠামো গড়ে তোলা প্রয়োজন, যা নির্ভরযোগ্য ও ভবিষ্যৎ-উপযোগী হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশের প্রতিও দায়বদ্ধ থাকবে। ২০১৯ সালের ভিত্তিবছরের তুলনায় ২০৩০ সালের মধ্যে গ্রামীণফোনের কার্বন নির্গমন ৫০ শতাংশ কমানোর লক্ষ্য রয়েছে বলে জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, এ লক্ষ্য অর্জনে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো এবং প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমজুড়ে পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি। সিলেট ডেটা সেন্টারের সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র সেই প্রচেষ্টার একটি বাস্তব পদক্ষেপ। এর মাধ্যমে গ্রাহকদের ডিজিটাল সেবা সচল রাখার অবকাঠামোকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি পরিবেশগত প্রভাব কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। গ্রাহক, সমাজ ও পরিবেশের দীর্ঘমেয়াদি সুফল নিশ্চিত করতে টেকসই ও উদ্ভাবনী প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ অব্যাহত রাখার কথাও জানান তিনি।

জেডটিই বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাও জুন্যং বলেন, বাংলাদেশের কোনো ডেটা সেন্টারে বৃহত্তম সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগে গ্রামীণফোনের অংশীদার হতে পেরে তাঁরা গর্বিত। উন্নত প্রযুক্তি ও নবায়নযোগ্য শক্তির সমন্বয়ে জ্বালানিসাশ্রয়ী এবং পরিবেশবান্ধব ডিজিটাল অবকাঠামো গড়ে তোলা সম্ভব বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, ডেটা সেন্টারের কার্যক্রমে উচ্চদক্ষতাসম্পন্ন সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা যুক্ত করার মাধ্যমে কার্বন নির্গমন কমাতে সহায়তা করা হচ্ছে। এ ধরনের যৌথ উদ্যোগ বাংলাদেশের প্রযুক্তি খাতে টেকসই অবকাঠামো গড়ে তোলার ক্ষেত্রে উদাহরণ তৈরি করতে পারে।

গ্রামীণফোনের এ উদ্যোগ প্রতিষ্ঠানটির ২০৩০ সালের মধ্যে কার্বন নির্গমন ৫০ শতাংশ কমানোর লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার, জ্বালানিসাশ্রয়ী প্রযুক্তি এবং দায়িত্বশীল সম্পদ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দেশের ডিজিটাল অবকাঠামোকে আরও পরিবেশবান্ধব করার প্রচেষ্টা হিসেবে সিলেটের এই সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রকে দেখা হচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
amazing-link-zeus.ca