নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রতি বছর ইয়ুথ পার্লামেন্ট যুব ছায়া সংসদ জাতীয় অধিবেশনের আয়োজন করে থাকে। এবছর ১৮ এবং ১৯ জুন দুই দিনব্যাপি অনুষ্ঠিত হয়েছে যুব ছায়া সংসদের জাতীয় অধিবেশন-২০২১। ১৮ জুন প্রথম কর্মশালা এবং ১৯ জুন দ্বিতীয় কর্মশালার অনুষ্ঠানিক অধিবেশনের আয়োজন হয়।
২০১৮ সাল থেকেই দেশ এবং বিদেশের যুবকদের নিয়ে কাজ আসছে ইয়ুথ পার্লামেন্ট। বাংলাদেশী যুবকদের সংসদ, সংবিধান সম্পর্কে শিক্ষা দেওয়া এবং সংসদীয় গণতন্ত্র চর্চার সুযোগ করে দেওয়ার মাধ্যমে জাতিসংঘের টেকশই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা-১৬ অবদান রাখতে ইয়ুথ পার্লামেন্ট প্রতি বছর আয়োজন করে আসছে তাদের এ অধিবেশনটি ।

প্রতি বছর মত এই বছরও সংসদীয় অধিবেশন হয়েছে । কিন্তু বর্তমানে করোনা ভাইরাসের জন্য এ যুব প্ল্যাটফর্মটি পথিকৃৎ হয়েছে। তাই বাংলাদেশের অনলাইন এই অধিবেশন আয়োজনের একমাত্র মাধ্যমে। দেশে চলমান পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে এ বছর সম্পূর্ণ আয়োজন ছিলো অনলাইনে।
ইয়ুথ পালামেন্ট অধিবেশনে দেশের ৬৪ জেলা থেকে যুব প্রতিনিধিরা যুব সংসদ হিসেবে অংশগ্রহণ করে পাশাপাশি আমন্ত্রিত ১৫ সদস্যবিশিষ্ট প্রতিনিধি দল অধিবেশন জুড়ে ছিলো ভারতীয় প্রজাতন্ত্র থেকে। এছাড়াও দুই দিনের এ অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন দেশ বরেণ্য নানা ব্যক্তিবর্গ যা যুবকদের অনুপ্রাণীত করেছে। উক্ত আয়োজনের মিডিয়া পার্টনার হিসেবে যুক্ত ছিলো পবিপ্রবি রিপোর্টার্স ইউনিটি।
১৮ জুন কর্মশালায় রাজশাহীর জেলা এবং সেশন বিচারক, সাইবার ট্রাইবুনাল জনাব মোঃ জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের সংবিধান ও সংসদ বিষয়ে বিস্তর আলোচনা করেন এবং যুবকদের নানা প্রশ্নের উত্তর দেন। এছাড়াও তিনি অনলাইনের ডিভাইস ব্যবহার ও তথ্য আদান প্রদানে যুবকদের সচেতন হতে পরামর্শ দেন।
১৯ জুন দুই পর্বে বিভক্ত অধিবেশনে ১ম পর্বে আনুষ্ঠানিক সূচনার পর্বে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের প্রাক্তন সংসদ সদস্য বেগম আক্তার জাহান, বিশিষ্ট লেখক ও কূটনীতিক ভূটানে বাংলাদেশ দূতাবাসে নিযুক্ত সম্মানীত কাউন্সিলর (রাজনৈতিক) ও প্রাক্তন কূটনৈতিক এথেন্স, গ্রীস জনাব সুজন দেবনাথ, উক্ত অধিবেশনে শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন ইয়ুথ পার্লামেন্টের সাধারণ সম্পাদক জনাব বিবেক মোর এবং সভাপতিত্ব করেন ইয়ুথ পার্লামেন্টের সভাপতি জনাব সরকার তানভীর আহমেদ তানিম ।
এছাড়া বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের প্রাক্তন সংসদ সদস্য বেগম আক্তার জাহান তার বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশের সামগ্রিক চেতনার কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ। যুবকরা আমাদের দেশের শক্তি । সংসদের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব ও চেতনা গড়তে আমাদের যুবক সমাজের মধ্যে যুব সংসদের অংশিকতা রয়েছে ।
এ সময় বিশিষ্ট লেখক ও কূটনীতিক ভূটানে বাংলাদেশ দূতাবাসে নিযুক্ত সম্মানীত কাউন্সিলর (রাজনৈতিক) ও প্রাক্তন কূটনৈতিক এথেন্স, গ্রীস জনাব সুজন দেবনাথ তার বক্তব্যে সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রাচীন ইতিহাস সম্পর্কে ও সাধারণ প্রস্তাব “রেমিটেন্স নয় দেশেই মেধার মূল্যায়ণ হোক আগামী পরিকল্পনার অংশ” সম্পর্কে আলোচনা করেন।
ইয়ুথ পার্লামেন্ট অধিবেশনটি পরিচালিত হয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সকল কার্যপ্রণালী বিধি মোতাবেক। রাজশাহী-০২ আসনের যুব সংসদ সদস্য খ.সুমাইয়া তারান্নুমের করা নিন্দা প্রস্তাব এবং “ফিলিস্তিনের প্রতি ইসরাইলি আগ্রাসন”- এর ওপর আলোচনা অনুষ্ঠিত হয় এবং কণ্ঠ ভোটে সর্বসম্মতিক্রমে নিন্দা প্রস্তাবটি গৃহীত হয়। সকাল ১১.৩০ থেকে চলা এই অনুষ্ঠান যা সরাসরি ফেসবুক লাইভের মাধ্যমে প্রচারিত হয় প্রায় ২ ঘন্টারও বেশি সময় ধরে চলে।
এই অধিবেশনের ২য় পর্বে (বিকেল ৪.৩০) পুনরায় শুরুতে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ কম্পিউটার সোসাইটির কাউন্সিলর জনাব শরিফুল আনোয়ার, বাংলাদেশ পাবলিক কর্ম কমিশন সচিবালয়ের উপ-পরিচালক জনাব মোঃ আনিসুর রহমান, এছাড়াও বক্তব্য রাখেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড.শাহ আজম শান্তনু। সাধারণ প্রস্তাব পর্বে মাননীয় পরিকল্পনা মন্ত্রী মোঃআরিফ বিল্লাহ কর্তৃক উপস্থাপিত প্রস্তাব “রেমিটেন্স নয়, দেশেই মেধার মূল্যায়ন হোক আগামী পরিকল্পনার অংশ” প্রস্তাবণাটি সংসদে উপস্থাপিত হয় এবং সাধারণত আলোচনায় অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শাপলা সুলতানা বর্তমান সরাকারের গৃহীত পদক্ষেপ ও মেধার মূল্যায়নে সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন এবং মাননীয় বিরোধী দলীয় নেতা তানজিল আহম্মেদ যুক্তগতভাবে সরকারকে পরামর্শ প্রদান করেন।
যুব সাংসদদের ব্যাপক হাড্ডাহাড্ডি যুক্তিতর্ক শেষে কন্ঠ ভোটে হ্যাঁ জয়যুক্ত হয়। অতঃপর বিরোধী দল বিভক্তি ভোট চাইলে উক্ত প্রস্তাবনাটি ৫৬% ভোটে চূড়ান্ত ভাবে সংসদে গৃহীত হয়।
ইয়ুথ পার্লামেন্ট চর্চা সংসদ এবং সংবিধান মেনে আগামী দিনের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম, সংসদ এবং সংবিধান চর্চায় যেমন সচেতন হবেন, তেমনি উপলদ্ধি করতে সক্ষম হবেন বাংলাদেশের মহান জাতীয় সংসদ।