রাজশাহীর পদ্মায় সরকারি নীতিমালার তোয়াক্কা না করে চলছে বালু উত্তোলনঃ নিরব প্রশাসন

প্রকাশিত: ৭:৫৭ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ৫, ২০২০

লিয়াকত রাজশাহী ব্যুরোঃ রাজশাহীর গোদাগাড়ি উপজেলার দুটি স্থানে পদ্মা নদীর গতিপথ তথা পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ করে নিয়মবহির্ভূত ভাবে চলছে বালু উত্তোলনের কাজ।

এ নিয়ে সরজমিনে গিয়ে দেখা গেল হতবাক হয়ে যাওয়ার মত চিত্র। এ যেন মগেরমুল্লুক এদের নিয়ন্ত্রণ করার মতো কেউ নাই !

বালুমহাল দুটির একটি উপজেলার ফুলতলা গ্রামে আর অন্যটি সেখেরপাড়া গ্রামে। এই এলাকায় নদীর বুকে ট্রাক চলাচলের রাস্তা করা হলেও বালু তোলা হচ্ছে তীর থেকেই যা সম্পন্ন নিয়মবহির্ভূত । এতে ভরা মৌসুমে ঐ এলাকায় নদীভাঙনের আশঙ্কা দেখা দিতে পারে বলে জানিয়েছে ঐ এলাকার ভুক্তভোগী অসহায় মানুষ গুলো। বালুমহল দুটির কর্মকান্ডে অতিষ্ঠ গ্রামবাসীরা। কিন্তু প্রভাবশালী ইজারাদার বা ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে কথা বলার কোন সাহস পাচ্ছেন না এলাকার অসহায় সাধারন মানুয়।

সরেজমিনে বালুমহাল দুটি ঘুরে দেখা গেছে, বালু উত্তোলন করা হচ্ছে মূল নদীর পাড় থেকে। আর ট্রাক চলাচলের জন্য নদীর বুকে করা হয়েছে রাস্তা। যেখানে বহু কৃষকের ফসলি জমি নষ্ট হচ্ছে। এছাড়াও নদীর পাড় থেকেই বালু তোলার কারণে নদীভাঙনের আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল।

কিন্তু সরকারি নীতিমালায় লেখা রয়েছে নদীর তীর থেকে এক হাজার ৫০০ থেকে দুই হাজার মিটার বা দেড় থেকে দুই কিলোমিটার দূরে নদীর তলদেশ থেকে ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে বালু উত্তোলন করতে হবে। অথচ এই নিয়মের কোন তোয়াক্কা না করে প্রভাব খাটিয়ে চলছে বালু উত্তোলনের কাজ। শুধু তাই নয়, নদীপাড়ের মাটি কেটে তারা ইটভাটাতেও বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ করেছে একাধিক এলাকাবাসি। অথচ বালুমহলের টেন্ডারে মাটি কাটার কথা উল্লেখ নেই ।

স্থানীয়রা জানান, মূল নদী দূরে সরে যাওয়ায় তীরে নদীর একটা অংশে এলাকার নারী পুরুষ গোসলের কাজসহ পরিবারের অনেক কাজ সারেন। কিন্তু বালুঘাটের জন্য বসানো টং ঘরের কারণে এলাকার নারীরা নদীতে নামতে পারেন না। ওই টং ঘরে মাদক সেবন চলে বলেও অভিযোগ গ্রামবাসীর।

আর সারারাত বালুর ট্রাক চলার কারণে তাদের ঘুম হয় না। স্থানীয়রা বলছেন, রাতে বিকট শব্দে পদ্মার তলদেশ থেকে বালুভর্তি ট্রাক সড়কে উঠে আসে। এই শব্দে তাদের ঘুম হয় না। ট্রাকে বালু পরিবহনের সময় ত্রিপাল দিয়েও ঢাকা হয় না।

সেখানে বালুঘাটের লোকজনের সাথে কথা বললে তারা সাংবাদিকদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। এবং সাংবাদিকরা এসব বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ করলে প্রাণে মেরে ফেলা হবে বলেও হুমকি দেন হরহামেশাই।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সেখেরপাড়া এলাকার বালুঘাটটি ইজারা নিয়েছে সানজিদা এন্টার প্রাইজ নামের একটি প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানের সত্বাধিকারি মনোয়ারুল হোসেন ডিপলু নামের এক ব্যক্তি। আর ভাটোপাড়া ফুলতলা এলাকার বালুঘাট ইজারা নিয়েছেন মেসার্স জাহাঙ্গীর অ্যান্ড সন্স। এই প্রতিষ্ঠানের সত্বাধিকারি জাহাঙ্গির আলম নামের আরেক ব্যক্তি।

এই অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ইজারাদার মনোয়ার হোসেন ডিপলু সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এখানে অনিয়মের কিছু নেই। নিয়ম অনুযায়ী বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।

গোদাগাড়ী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোসা: নাজমুন নাহার জানান, পদ্মা নদীর তীর থেকে এক হাজার পাঁচশ’ মিটার থেকে দুই হাজার মিটার দূরত্বে বালু উত্তোলন করতে হবে। এই নিয়ম এখনও বলবৎ রয়েছে। এর অন্যথা হলে সেটা অবৈধ ও বেআইনি হবে। তিনি ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান।
বিষয়টি নিযে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আলমগীর হোসেন বলেন, আমার নিকট স্থানীয়দের বেশ কিছু অভিযোগ এসেছে। নদীর বুকে বালু তোলার রাস্তা করার কোন সুযোগ নেই। আমি নিজেই যাব, অথবা এসিল্যান্ডকে পাঠাব। সরেজমিনে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। নীতিমালার বাইরে গিয়ে কোন কিছুই করার সুযোগ নেই।