চাঁপাইনবাবগঞ্জে যমুনা মানব কল্যাণ সংস্থা নামের একটি অনিবন্ধিত এনজিও’র একটি শাখায় গ্রাহকদের জমা রাখা টাকা ফেরত না দিতে অভিনব কৌশল অবলম্বন করেছেন সংস্থাটির সভাপতি ও নির্বাহী পরিচালক। যমুনা মানব কল্যাণ সংস্থার সভাপতি মো. সেলিম আলী ও নির্বাহী পরিচালক মো. কবির আলী নিজেদেরকে পরিচয় দিচ্ছেন শাখা ব্যবস্থাপক ও এরিয়া ম্যানেজার হিসেবে। অথচ সংস্থাটির বিভিন্ন নথিপত্রে দেখা যাচ্ছে, তারা দুইজনই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন।
সাধারণ গ্রাহক, সংস্থার অন্যান্য কর্মী, সমাজসেবা অধিদপ্তর ও অফিসের বিভিন্ন নথিপত্র থেকে জানা যায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার চককীর্তি ইউনিয়নের চাতরা শাখায় প্রায় এক হাজার গ্রাহকের ২কোটি ৯৯ লাখ টাকা জমা রয়েছে। তবে গ্রাহকদের এসব টাকা ফেরত না দিতে দীর্ঘদিন ধরে নানা টালবাহানা করছে সংস্থাটি। পরে যমুনা মানব কল্যাণ কল্যান সংস্থার কার্যক্রমে অতিষ্ঠ হয়ে গত ১১ অক্টোবর চাতরা শাখার সামনে প্রায় ছয় শতাধিক গ্রাহক জমায়েত হয়ে বিক্ষোভ করে।
এসময় গ্রাহকরা টাকার দাবিতে যমুনা মানব কল্যাণ কল্যান সংস্থার সভাপতি মো. সেলিম আলী ও নির্বাহী পরিচালক মো. কবির আলীকে চাতরা শাখায় অবরুদ্ধ করে। মঙ্গলবার (১৯ অক্টোবর) পর্যন্ত তাদের দুইজনকে সেখানেই অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছিল। প্রতিবেদকের সাথে কথা হলে কবির আলী এনজিও-র’ এরিয়া ম্যানেজার ও সেলিম আলী চাতরা শাখা ব্যবস্থাপক হিসেবে পরিচয় দেন। এসময় তারা বলেন, যমুনা মানব কল্যাণ কল্যান সংস্থার নির্বাহী পরিচালক মঈন আলীর সাথে কোন যোগাযোগ নেই। তার সাথে কথা বলে গ্রাহকদের সমস্ত টাকা ফেরত দেয়া হবে।
অথচ যমুনা মানব কল্যাণ কল্যান সংস্থার সকল নথিপত্র থেকে জানা যায়, কবির আলী সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক। মঈন আলী সাবেক নির্বাহী পরিচালক ও সভাপতি হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করলেও বর্তমানে এনজিও-টির সাথে কোন সম্পর্ক নেই। গত ০২ এপ্রিল যমুনা মানব কল্যাণ কল্যান সংস্থার সাথে এফিডেভিট করে সবরকম সম্পর্ক ছিন্ন ও দায়িত্ব হস্তান্তর করেন মো. মঈন আলী। যা জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তর কার্যালয়ের মাধ্যমে স্বীকৃত।
অনুসন্ধানে জানা যায়, চাতরা শাখায় গ্রাহকদের প্রায় ৩ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে সংস্থাটির সাবেক কর্মকর্তাকে মালিক ঘোষণা করে তারা স্বেচ্ছায় অফিসে অবস্থান নেই। গ্রাহকরা না জেনে বিভ্রান্তিতে পড়ে কার্যালয়ে তাদেরকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে। এমনকি তাদেরকে ভাগিয়ে নিতে দুই দফায় রাতের অন্ধকারে লোকজন গেছিলো বলে জানিয়েছে তাদের দেখভালের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা।
সংশ্লিষ্টরা জানায়, স্থানীয়ভাবে সমাজসেবা অধিদপ্তর, মহিলা সংস্থা ও যুব উন্নয়ন থেকে অনুমোদন প্রাপ্ত হয়ে ১৬টি শাখার মাধ্যমে আর্থিক লেনদেন করছিল যমুনা মানব কল্যান সংস্থা নামের এই এনজিও।