• শুক্রবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৯:৩৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
নাচোলে টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টদের কর্মবিরতি পালন চাঁপাইনবাবগঞ্জে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টদের ১০ম গ্রেড বাস্তবায়নের দাবিতে কর্মবিরতি নাচোলে গনমাধ্যম কর্মীদের সাথে ইউএনও’র মতবিনিময় চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহানন্দা ব্যাটালিয়নের ১০ম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন জঙ্গলবাড়ী চা বাগান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণির বিদায়ী আয়োজন নাচোলে বেগম জিয়ার সুস্থতা কামনায় দোয়া মাহফিল গোমস্তাপুরে সংবাদ সংগ্রহের সময় সাংবাদিকের উপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন কুড়িগ্রামে বাল্যবিবাহের হার ৫১ শতাংশ সবচেয়ে ঝুঁকিতে চরাঞ্চলের মেয়েরা নাচোলে পিঠা উৎসব/২৫ উদযাপিত হয়েছে। মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টদের ১০ম গ্রেড বাস্তবায়নের দাবীতে নাচোলে কর্মবিরতি পালন

বাবার লাশ বাড়িতে রেখে এসএসসি পরীক্ষা দিল সিনথিয়া

Habibulla Sipon / ৩৫৮ Time View
Update : রবিবার, ১৪ নভেম্বর, ২০২১

ভোরের দিকে স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে বাবা হুমায়ুন কবির (৪৮) মারা গেছেন। শোকে বিহ্বল স্বজনেরা নিচ্ছেন লাশ দাফনের প্রস্তুতি। এমন অবস্থায় বাবার লাশ বাড়িতে রেখে সিনথিয়া কবির নামের এক শিক্ষার্থীকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে হলো। পরীক্ষা শেষে বাড়িতে ফিরে বাবার লাশ দাফনে অংশ নেয় সে।

নরসিংদীর পলাশ উপজেলায় আজ রোববার এ ঘটনা ঘটে। সিনথিয়া কবির পলাশের ঘোড়াশালের জনতা আদর্শ বিদ্যাপীঠের শিক্ষার্থী।

সিনথিয়া কবিরের পরীক্ষার কেন্দ্র পড়েছে পলাশের ডা. নজরুল বিন নূর মহসিন বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজে। আজ সকাল ১০টার আগে চোখ মুছতে মুছতে ওই কেন্দ্রে যায় সে। সহপাঠী ও কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকদের সহযোগিতায় প্রথম দিনের পদার্থ বিজ্ঞান পরীক্ষায় অংশ নেয় সে।

সিনথিয়ার পরিবার ও স্থানীয় লোকজন জানান, পলাশের ঘোড়াশাল পৌর এলাকার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কুটিরপাড়া গ্রামের মৃত মোখলেছ সরদারের ছেলে হুমায়ুন কবির (৪৮)। তাঁর মেয়ে সিনথিয়া কবিরের আজ এসএসসি পরীক্ষা শুরু হয়েছে। হঠাৎ ভোরের দিকে হুমায়ুনের মৃত্যু হয়। বাড়িজুড়ে শোকের আবহ, চলছে লাশ দাফনের প্রস্তুতি। বাবার মৃত্যুর পর সিনথিয়া ভেঙে পড়লেও স্বজনদের কথায় এসএসসি পরীক্ষার কেন্দ্রে পরীক্ষা দিতে যায় সে।

পরীক্ষা শেষে সিনথিয়া বাড়ি ফেরার পর বেলা আড়াইটার দিকে কো-অপারেটিভ স্কুল মাঠে বাবা হুমায়ুন কবিরের জানাজা হয়। জানাজায় হুমায়ুন কবিরের আত্মীয়স্বজন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, পাড়া প্রতিবেশী ও আশপাশের এলাকার কয়েক শ মানুষ অংশ নেন। পরে তাঁদের পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।

কেন্দ্রসচিব রিনা নাসরিন বলেন, ‘সিনথিয়ার বাবার মৃত্যুর বিষয়টি আমরা সকালেই জানতে পেরেছিলাম। সবার সঙ্গে বসে পরীক্ষা দিলে তার জন্য ভালো হবে ভেবে তার জন্য বিশেষ কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আমরা চেয়েছিলাম সে সবার সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই পরীক্ষা দিক। সে এক হাতে রুমাল দিয়ে বারবার চোখ মুছছিল। আর অন্য হাতে পরীক্ষার খাতায় লিখেছে।’

পরীক্ষা শেষে সিনথিয়া বলল, ‘বাবা আমাকে অনেক ভালোবাসতেন। বাবা চাইতেন আমি যেন পড়ালেখা করে অনেক বড় হই। তাই এমন অবস্থায়ও আমি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছি। বাবার আত্মাকে আমি কষ্ট দিতে চাই না।’

পলাশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানা আফসানা চৌধুরী বলেন, ‘বাবাকে হারানো যে কারও জন্য খুবই কষ্টদায়ক। তারপরও এসএসসি পরীক্ষার্থী সিনথিয়া বাবা হারানোর কষ্ট নিয়ে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। আমরাও তার পরীক্ষার সময় যতটা সম্ভব পাশে থাকার চেষ্টা করেছি।’

(তথ্যসুত্রঃ দৈনিক প্রথম আলো)


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category