• বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৫১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
ঠাকুরগাঁওয়ে কখনও আসেননি, সেই আসনেই প্রার্থী আলীম নিজামী নাচোলে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বী নারীদের মাঝে ‘প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ভান্ডার’ হতে বরাদ্দকৃত ১০০টি শাড়ী বিতরণ করা হয়েছে। নাচোলে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু হলো আলভি ট্যুরস এন্ড ট্রাভেলসের নাচোল উপজেলার সনাতন ধর্মালম্বীদের শারদীয় দূর্গাপুজা/২০২৬ উপলক্ষে শুভেচ্ছা  জানিয়েছেন নাচোল পৌর  বিএনপির উপদেষ্টা ও বিএনপি দলীয় ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আব্দুর রহিম। মহাপরিচালক বরাবর পলাশবাড়ী পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তার দূর্ণীতির অভিযোগকারীকে মামলায় ফাঁসিয়ে জেলে পাঠানোর অভিযোগ নাচোলে ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করতে চান তরুণ উদ্দোক্তা এবং ছাত্রনেতা থেকে উঠে আসা মো: আসগার হাসান রোমিও ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের প্রয়োজন নেই: ইসি সানাউল্লাহ ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের প্রয়োজন নেই: ইসি সানাউল্লাহ রহমড আরিফ ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের প্রয়োজন হবে না বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত ভোটের পরিবেশ অত্যন্ত সুন্দর রয়েছে। আগামী ২৯ অক্টোবর একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকাল ১১টায় ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সভাকক্ষে উপনির্বাচন উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেল, ভিজিল্যান্স ও অবজারভেশন টিম এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি। নির্বাচনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে ইসি সানাউল্লাহ বলেন, ‘আমরা এখন পর্যন্ত সেনাবাহিনী মোতায়েনের কথা চিন্তা করছি না। কারণ, জাতীয় নির্বাচনের চেয়েও প্রায় তিন গুণ বেশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে। ফলে অতিরিক্ত নিরাপত্তার প্রয়োজন রয়েছে বলে আমরা মনে করি না। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ভোটকেন্দ্রগুলোতে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে এবং এর ফুটেজ সংরক্ষণ করা হবে, যাতে কেউ অসৎ উদ্দেশ্যে কোনো সুবিধা নিতে না পারে। পাশাপাশি পুলিশ, বিজিবি, র‍্যাব ও আনসার সদস্যদের কাছে বডি-ওর্ন ক্যামেরা এবং ড্রোনের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক নজরদারি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি রয়েছে। নির্বাচনি অভিযোগের বিষয়ে তিনি জানান, অনিয়ম প্রতিরোধ ও অভিযোগ নিষ্পত্তিতে ‘ইলেকটোরাল ইনকোয়ারি অ্যান্ড অ্যাডজুডিকেশন কমিটি’ কাজ করছে। এ ছাড়া মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করছেন বিচারক ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা। ইতোমধ্যে পাওয়া তিনটি অভিযোগের মধ্যে একটি নিষ্পত্তি হয়েছে এবং বাকি দুটি তদন্তাধীন রয়েছে। সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। এতে সভাপতিত্ব করেন ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম। মতবিনিময় সভায় উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, নির্বাচনি পরিবেশ বজায় রাখা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদারের বিষয়ে আলোচনা করা হয়। ঠাকুরগাঁওয়ে তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ, অটোচালক আটক নাচোলে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস ২০২৬ পালিত

সাপাহারে হু হু করে বাড়ছে শিশুশ্রম

Reporter Name / ২৬৭ Time View
Update : সোমবার, ৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২২

মনিরুল ইসলাম, সাপাহার(নওগাঁ) প্রতিনিধি: কতইবা বয়স! ৯ থেকে শুরু করে ১৪ বছরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। যেসময় হাতে বই-কলম থাকার কথা ঠিক সেসময় কেউ চায়ের ফ্লাক্স হাতে নিয়ে চা বিক্রেতা। ইটের বোঝা মাথায় নিয়ে নির্মাণ কাজে সহায়তা করছে কেউ। আবার কেউবা গলায় বাদামের ডালি ঝুলিয়ে ঘুরছে বাজারের এখান থেকে সেখানে। এভাবেই নওগাঁর সাপাহারে ক্রমাগত হু হু করে বেড়ে চলেছে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম। উপজেলা সদরের গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও বিভিন্ন এলাকায় দেখা মিলছে শিশুশ্রমিকদের। রেস্টুরেন্ট, চায়ের দোকান, মোটর সাইকেল গ্যারেজ, স্টিল ও কাঠের ফার্নিচারের দোকান, ভাঙ্গারীর দোকান, কসমেটিকস্ দোকান, বাদামের দোকান, ডিমের দোকান, চপের দোকান, ইমারত নির্মাণ সহ ভ্রাম্যমান চা বিক্রেতা হিসেবে কাজ করছে শিশুশ্রমিকরা। এদের মধ্যে বেশিরভাগ শিশু-কিশোরের বয়স ৯ থেকে ১৪ বছরের মধ্যে।

উপজেলা সদরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সকাল বেলা তীব্র শীতের মাঝে সামান্য একটা শীতবস্ত্র গায়ে দিয়ে বিভিন্ন কাজ করছে ছোট ছোট বাচ্চাগুলো। মোটর সাইকেলের গ্যারেজে তীব্র শীতের মধ্যে ঠান্ডা পানি দিয়ে গাড়ী পরিস্কার করছে তারা। কেউ হোটেলের এঁটো প্লেট পরিস্কার করছে।খোলাবাজারে চায়ের দোকানগুলোতে চা বানানোর কারিগর হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে কমবয়সী বাচ্চাদের। কাস্টমারদের চা দিতে দেরী হলে যথারিতী বকুনিও খেতে হচ্ছে তাদের। এছাড়াও বিভিন্ন কাজের সাথে জড়িয়ে পড়ছে শিশু-কিশোররা।

ভ্রাম্যমান চা বিক্রেতা আরিফুল ইসলাম জানায়, “আমার বয়স ১২ বছর। আমার বাবা নেই। আমি ৪র্থ শ্রেণীতে পড়ি। আমার মা মানুষের বাসায় কাজ করে। স্কুল বন্ধ থাকার জন্য আমি বসে না থেকে চা বিক্রি করি। আমি সকালে ২ফ্লাক্স ও সন্ধার পরে ৩/৪ ফ্লাক্স চা ফেরি করে বিক্রি করি”। এতে তার আয় কত হয় তা জানতে চাইলে বলে “প্রতিদিন ৪/৫শ’ টাকার চা বিক্রি করি। এতে আমার মা ও আমি ভালোভাবে সংসার চালাতে পারি।”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ব্যবসায়ী বলেন, ছোট বাচ্চারা যখন চায়ের ফ্লাক্স হাতে নিয়ে দোকানে আসে তখন অনিচ্ছা স্বত্বেও চা খাই। কারন এতে হয়তো তার পরিবার কিছুটা স্বাচ্ছন্দে থাকতে পারবে। আরিফুল ইসলামের মতো অনেক শিশুরাই সদরের বিভিন্ন দোকান ও কল-কারখানার কাজ করছে।

এলাকার একাধিক সচেতন ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের সাথে কথা হলে তারা জানান, বর্তমান সময়ে করোনার প্রকোপ বেড়ে গেছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ আছে। অনেকের কর্মসংস্থান বন্ধ হয়ে যাবার কারনে দারিদ্রতা অনেকটা বেড়ে গেছে। যার ফলশ্রুতিতে অনেক বাচ্চারা পেটের ক্ষুধা নিবারন, নিজের পকেট খরচ ও অনেকে পরিবারের স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আনার জন্য বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ পেশার সাথে জড়িয়ে পড়ছে। যা জাতির জন্য হমকি স্বরূপ। ভবিষ্যতে অর্থের লোভে পড়ে অনেক শিশু শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন তারা।

বর্তমান সময়ে সারাবিশ্বে শিশুশ্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু এর পরেও এই উপজেলায় থেমে নেই শিশুশ্রম! একটি সূত্র জানায়, উপজেলা সদর সহ বিভিন্ন মোড়ে অবস্থিত দোকান গুলোতে প্রায় দেড় শতাধিক শিশু শ্রমিক কাজ করে। এর মধ্যে বেশিরভাগ কাজ করে হোটেল, চায়ের দোকান, ডিমের দোকান, চপের দোকান সহ নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে।

একজন হোটেল মালিকের সাথে কথা হলে তিনি জানান, আমরা শিশুদের কাজে রাখতে চাইনা। তারপরেও তাদের অবিভাবকরা হাতে পায়ে ধরে রেখে যায়। আমরা তাদের কথা ফেলতে না পেরে এবং দারিদ্রতার দিকে খেয়াল রেখে তাদেরকে কাজে লাগাই। তারা ভালো বেতন পায়। এছাড়াও অনেক কাস্টমার তাদেরকে বখশিশ দেয়। যাতে করে তাদের ভালো আয় হয়। শিশুশ্রম বে-আইনী তারপরেও কেন তাদের কাজে রাখা হয় এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা ভারি কোন কাজ তাদেরকে দিয়ে করাইনা। হয়তো প্লেট পরিস্কার, টেবিল মোছা, পানির গ্লাস দেওয়া এসব কাজ করে। আমরা বে-আইনী কাজ করছিনা বরং একটা পরিবারকে ভালো রাখতে তাদের কাজ দিয়ে সহযোগীতা করছি।

বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল্যাহ আল মামুন জানান, শিশুশ্রমের বিষয়ে অবিভাবকদের সচেতনতা জরুরী। আমরা বিষয়টি নিরসনে জনসচেতনতা মূলক কাজ করবো। এছাড়াও মাইকিং, পোষ্টারের মাধ্যমে জনগনকে শিশুশ্রমে নিরুৎসাহিত করার জন্য কাজ শুরু করবো।

এধরণের ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম থেকে রক্ষা পেতে হলে অবিভাবকদের সচেতন হতে হবে। এছাড়াও মহাজনদের শ্রমিক রাখার বিষয়ে বয়সের দিকে খেয়াল রেখে কাজ দিলে শিশুশ্রম কমতে পারে বলে ধারণা করছেন এলাকার অভিজ্ঞমহল।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের প্রয়োজন নেই: ইসি সানাউল্লাহ রহমড আরিফ ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের প্রয়োজন হবে না বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত ভোটের পরিবেশ অত্যন্ত সুন্দর রয়েছে। আগামী ২৯ অক্টোবর একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকাল ১১টায় ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সভাকক্ষে উপনির্বাচন উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেল, ভিজিল্যান্স ও অবজারভেশন টিম এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি। নির্বাচনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে ইসি সানাউল্লাহ বলেন, ‘আমরা এখন পর্যন্ত সেনাবাহিনী মোতায়েনের কথা চিন্তা করছি না। কারণ, জাতীয় নির্বাচনের চেয়েও প্রায় তিন গুণ বেশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে। ফলে অতিরিক্ত নিরাপত্তার প্রয়োজন রয়েছে বলে আমরা মনে করি না। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ভোটকেন্দ্রগুলোতে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে এবং এর ফুটেজ সংরক্ষণ করা হবে, যাতে কেউ অসৎ উদ্দেশ্যে কোনো সুবিধা নিতে না পারে। পাশাপাশি পুলিশ, বিজিবি, র‍্যাব ও আনসার সদস্যদের কাছে বডি-ওর্ন ক্যামেরা এবং ড্রোনের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক নজরদারি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি রয়েছে। নির্বাচনি অভিযোগের বিষয়ে তিনি জানান, অনিয়ম প্রতিরোধ ও অভিযোগ নিষ্পত্তিতে ‘ইলেকটোরাল ইনকোয়ারি অ্যান্ড অ্যাডজুডিকেশন কমিটি’ কাজ করছে। এ ছাড়া মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করছেন বিচারক ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা। ইতোমধ্যে পাওয়া তিনটি অভিযোগের মধ্যে একটি নিষ্পত্তি হয়েছে এবং বাকি দুটি তদন্তাধীন রয়েছে। সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। এতে সভাপতিত্ব করেন ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম। মতবিনিময় সভায় উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, নির্বাচনি পরিবেশ বজায় রাখা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদারের বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

amazing-link-zeus.ca