• শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:০৩ পূর্বাহ্ন

আরও ৬৫ হাজার পরিবার পাচ্ছে নতুন ঘর

Reporter Name / ২০২ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ৩১ মার্চ, ২০২২

অমরেশ রায়:

মুজিববর্ষে ভূমিহীন ও গৃহহীন অসহায় মানুষের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার হিসেবে আরও ৬৫ হাজার ৪৭৪টি পরিবার নতুন ঘর (একক গৃহ) পাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় তৃতীয় পর্যায়ে এসব ঘর তৈরি করে দেওয়া হচ্ছে। এগুলোর নির্মাণকাজও প্রায় শেষের পথে। নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর সুবিধাজনক সময়ে বিনামূ?লো দুই শতক জমিসহ সে?মিপাকা এসব ঘর পরিবারগুলোর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এদিকে আগের দুই পর্যায়ের কাজের অভিজ্ঞতায় মুজিববর্ষের উপহারের এসব ঘরকে অধিকতর টেকসই করতে নকশায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। জমি নির্বাচনের ক্ষেত্রেও নেওয়া হচ্ছে বিশেষ সতর্কতা। নতুন একক গৃহ নির্মাণের ব্যয়বরাদ্দও বেড়েছে। তৃতীয় পর্যায়ে প্রতিটি ঘরের নির্মাণ খরচ দুই লাখ ৫৯ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আগের দুই পর্যায়ে প্রতিটি ঘরের জন্য বরাদ্দ ছিল প্রথম পর্যায়ে এক লাখ ৭১ হাজার টাকা এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে ১ লাখ ৯৫ হাজার টাকা। তবে এসব ঘর নির্মাণকে ট্যাক্স ও ভ্যাটের আওতামুক্ত রাখার ফলে বাজারদরের চেয়ে সাশ্রয়ী মূল্যে ঘরগুলো নির্মাণ করা সম্ভব হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। রঙিন টিনশেডের প্রতিটি একক গৃহে রয়েছে। ইটের দেয়াল, কংক্রিটের মেঝে এবং টিনের ছাউনি দিয়ে তৈরি দুটি করে শোয়ার ঘর, একটি রান্নাঘর, টয়লেট এবং সামনে খোলা বারান্দা।

মুজিববর্ষে এ নকশায় টেকসই ঘর নির্মাণের ফলে প্রতিটি প্রধানমন্ত্রীর উপহার

“মুজিববর্ষে কেউ গৃহ ও ভূমিহীন থাকবে না’- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই ঘোষণা বাস্তবায়নে প্রায় ৯ লাখ ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে ঘর করে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিল সরকার। গত বছরের গত ২৩ জানুয়ারি কোনো দেশে নেই আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় প্রথম পর্যায়ে সারাদেশের ভূমি ও গৃহহীন ৬৬ হাজার ১৮৯টি পরিবারের হাতে দুই শতাংশ জমি ও ঘর তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই দিনই ৭৪৩টি ব্যারাকে আরও ৩ হাজার ৭১৫ পরিবারকে পুনর্বাসন কার্যক্রমেরও উদ্বোধন করেন তিনি।

পরে একই বছরের ২০ জুন আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ে আরও ৫৩ হাজার ৩৪০টি পরিবারকে জমি ও নতুন ঘর উপহার দেন প্রধানমন্ত্রী। অর্থাৎ আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের প্রথম দুই পর্যায়ে মোট ১ লাখ ১৭ হাজার ৩২৯টি পরিবার ঘর পেয়েছেন। এরই ধারাবাহিকতায় তৃতীয় পর্যায়ে আরও ৬৫ হাজার ৪৭৪টি একক গৃহ নির্মাণের কাজ চলছে।

বদলেছে নকশা, হয়েছে টেকসই : আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আগের দুটি পর্যায়ে নির্মিত ঘরসহ জমি নির্বাচনেও কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতি দেখা দিয়েছিল। কোথাও কোথাও নির্মাণ কাজে অনিয়ম ও নিম্নমানের কাজ করার অভিযোগও উঠেছিল। ফলে কিছু জায়গায় নির্মিত ঘরগুলো ধসে অথবা দেবে যায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে সরকার বেশ কিছু জায়গায় দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তারাসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপও নিয়েছিল।

অনন্য ইতিহাস, অনন্য রেকর্ড : দেশের ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে বিনামূল্যে জমিসহ এসব গৃহ প্রদান কার্যক্রম গোটা বিশ্বের জন্য অনন্য ইতিহাস ও রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। একসঙ্গে এত বেশি পরিবার ও মানুষকে জমিসহ ঘর দেওয়ার রেকর্ড পৃথিবীর অন্য কোনো দেশেই নেই। ফলে বিশ্বের ইতিহাসের সর্ববৃহৎ এই আশ্রয়ণ প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে আরেকটি গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের অংশে পরিণত হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা, যা ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নে শেখ হাসিনা মডেল’ নামে এরই মধ্যে খ্যাতি পেয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়া বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বপ্নই হচ্ছে দেশের ভূমিহীন ও গৃহহীন মানুষের জীবনমানের সার্বিক উন্নয়ন ঘটানো। বিশ্বের সর্ববৃহৎ এই আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে তার সেই স্বপ্নের বাস্তবায়ন ঘটছে। খাসজমি তো বটেই, সরকারি খরচে জমি কিনে মানুষকে ঘর করে দেওয়া এমন রেকর্ড বিশ্বের অন্য

আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ও যুগ্ম সচিব আবু ছালেহ মোহাম্মদ ফেরদৌস খান বলেন, একসঙ্গে এত মানুষকে বিনামূল্যে বাড়ি-ঘর দেওয়ার ঘটনা পৃথিবীর ইতিহাসে প্রথম ও সর্ববৃহৎ। বিশ্বে এটা নতুন মডেল, আগে কখনও কেউ যেটা ভাবেনি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
amazing-link-zeus.ca