মিথ্যা কথা বলে বিয়াই, বিয়াইনকে ডেকে গণধোলাই দিলেন রাজশাহীর রাজপাড়া থানার বষুয়া মহল্লার আল আমিন এবং তার দুই স্ত্রী নিপা ও পাখিসহ বাড়ির পরিবারগণ।
গতকাল বুধবার দুপুরে রাজশাহীর বসুয়া মহল্লায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানান নাচোল থানার নেজামপুর ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামের বিয়াই তরিকুল, বিয়াইন তাসনারা, বিবাহিত মেয়ে জান্নাতুন ও অবিবাহিত মেয়ে জাহান্নরা।
নাচোলের মেয়ে জান্নাতুনের আব্বা তরিকুল ইসলাম ও আম্মা তাসনারা বলেন প্রায় দুই বছর হলো আমার বড় মেয়ে জান্নাতুন খাতুনের বিবাহ দিয়েছিলাম রাজশাহীর রাজপাড়া থানার বসুয়া মহল্লার আলআমিনের ছেলে মোঃ রানার সাথে।
তাদের সংসার ভালোয় চলে আসছিল। এক বছর যেতে না যেতেই হঠাৎ একদিন বিয়াই ফোন করে বলেন যে আপনার জামাই বেটি কি আপনার বাড়ি পৌঁছেছে। আমি বলি যে না তারা কেও আসেনি। মাঝে একদিন পর রাত সাড়ে ৯টার দিকে নেজামপুর বাজারে আমার মেয়েকে নামিয়ে জামাই চলে যেতে চাইলে মেয়ের মামার সাথে দেখা হয়।তাকে বলেন এতো রাতে রাজশাহী যেতে পারবা না । জামাইকে মেয়েকে আমার বাড়িতে নিয়ে আসে।
সেদিন বিয়াইকে জানিয়ে দেয় যে তারা এসে পৌঁছেছে।
জামাইকে জিজ্ঞাসা করলে কোন উত্তর দেয়না। মেয়েকে জিজ্ঞাসা করলে বলে যে একদিন একরাত আমাকে নিয়ে নওহাঁটাতে তাঁর আঁতিওর বাড়িতে ছিলেন। এবং আমার কানের স্বর্ণের দুল জোড়া বিক্রি করে দিয়েছেন সেজন্য আমাকে বাজার নামিয়ে বাড়ি পালিয়ে যাচ্ছিল। কয়েকদিন পর আমার বিয়াই ফোন দিয়ে বলেন যে আমার ছেলেকে পাঠিয়ে দেন। না হলে যদি কিছু হয় তাহলে বুঝতে পারবেন। জামাইকে বাড়ি চলে যেতে বললে সে বলে আমি আর বাড়ি যাবনা।
কারণ আমার মা হচ্ছেন সত মা। আমাকে মাঝে মাঝে অনেক নির্যাতন করে। আমার সত মা অনেক দিন যাবত বিদেশে থেকে এসেছে। সে খুব খারাপ এবং ভয়ংকর। তখন আমরা নাচোল থানায় গিয়ে বিষয়টি জানায়। ওসি তদন্ত আব্দুল ওহাব বিয়াই এর নাম্বারে ফোন দিয়ে জামাইকে নিয়ে যেতে বললে বিয়াই আলআমিন বলেন আমি যেতে পারবোনা। ওর জামাইকে আমার বাড়িতে রেখে যাক। ওসি সাহেব জামাইকে বলেন তুমি কি করবা। সে বলে আমি আর বাড়ি যাবনা। শশুর বাড়ীতে খেটে খাবো।
এই বলে জামাইকে নিয়ে বাড়ি চলে আসি। প্রায় মাস দেড়েক থাকার পর হঠাৎ একদিন সন্ধ্যার পর আমার বাই সাইকেল নিয়ে নেজামপুর বাজারে গিয়ে সাইকেল মেকারের কাছে সাইকেল বিক্রি করে পালিয়ে যায়। অনেক রাত হয়ে গেলে জামাই বাড়ি না আসলে খুঁজা খুঁজি করে না পেয়ে বিয়াইকে ফোন দিলে বলে আমার বাড়ি আসেনি। আমার ছেলে যদি হারিয়ে যায় তাহলে আপনার উপর মামলা করবো। তখন আবার নাচোল থানায় গিয়ে বিষয়টি জানায়। ওসি আমার বিয়াইকে ফোন করেলে সে বলে আমার ছেলে আসেনি। চারদিন পর যানতে পারি জামাই বাড়ি গিয়েছে।
তারপর প্রায় ৬-৭ মাস পর আবার আমার মেয়েকে বিয়ান এসে নিয়ে যায়। মেয়েকে আনতে যাবার কথা বললে বলে এখন পাঠাবো না। প্রায় চার মাস হয়ে গেলেও আমরা মেয়ে জান্নাতুন কে আর আমার বাড়ি পাঠায়নি। আমার মেজো মেয়ে জোহরা খাতুন কে বিয়াই এর বাড়ি পাঠায় বড় মেয়েকে দেখতে। আজ ৮দিন হয়ে গেলেও তাকেও কৌশলে রেখে গতকাল সকালে আবার ফোন দিয়ে বলে যে আমার মেজো মেয়ে জোহরা সিঁড়ির উপর থেকে পরে গিয়ে মাথা ফেটে ৭টি সেলাই লেগেছে বলে আমাদের ডাক দেয়। তখন আমরা তাড়াতাড়ি করে বিয়াই বাড়ি রাজশাহীর বসুয়া বিয়াই বাড়ি গেলে দেখতে পায় আমার দুই মেয়ে ভালো অবস্থায় বাড়িতে রয়েছে। তখন বিয়ানকে বলি যে আপনি মিথ্যা কথা বলে কেন ডাকলেন। সেই মুহুর্তেই আমার সাথে আচারণ খারাপ করে গাল মন্দ দিতে শুরু করে। তাতে আমি কথার উত্তর দিলে তখন আমার বিয়াই আমাকে মাটিতে ফেলে দিয়ে লাথকিল মারতে শুরু করে। তার মধ্যে সামনে থাকা সবজি কাটা বঁটি দিয়ে এলোপাথাড়ি কোপ মারতে শুরু করে। এতে আমি হাত দিয়ে বানাতে গিয়ে হাতের কয়েক জায়গা কেটে যায়। আমার স্ত্রী এগিয়ে আসলে তাকেও বিয়াই, বিয়ান ও তার পরিবারের লোকজন মারতে লাগে। আমার দুই মেয়ে কাঁন্নাকাটি করে ধরতে আসলে তারাকেও মারধর শুরু করে। পরে বাড়িতে খবর দিলে তারা রাজপাড়া থানার ওসিকে ঘটনার বিষয়টি জানান। পরে আমার কাছ থেকে ফোনটি কেড়ে নিয়ে আমার বাড়ির লোকজনকে হুমকি দিয়ে বলে আমার বাড়ি রাজশাহী তুই ওসি, ভিসি যাকেই ফোন দে না কেন লাভ হবেনা। আর তোর ক্ষমতা থাকলে তুই চলে আয়। ওসি সাহেব আমার ফোনে অনেক বার ফোন দিলেও সে ফোন রিসিভ করেনি। মারধর করে আমরাকে আটকে রেখে কাজি ডেকে একতরফা ভাবে আমার মেয়েকে দিয়ে তালাক ও সহি করিয়েছে। জামাইকে ৬০ হাজার টাকা দেওয়া ছিল সেটাও বাদ। মহর ছিল ৬৫ হাজার সেটাই বাদ। এমনকি তালাক করার দরুন কাজির টাকাও আমার কাছ থাকা ১০০০হাজার ও আমার মেয়ের কাছ থেকে পাঁচশত টাকা জোর করে নিয়ে কাজিকে দিয়েছেন। তরিকুল ইসলাম বলেন আমি মূর্খ এবং গরিব মানুষ। তেমন কিছু বুঝিনা। ভয়ে আমি আর আইনের আশ্রয় নিতে যেতে পারিনি। তখন মণে হচ্ছিলো যে, আল্লাহ কেমন করে জিবীত অবস্থায় বাড়ি যেতে পারবো। কারণ তখন যেভাবে আমাকে মারধর ও ভয়ভীতি দেখিয়েছে আমি সাহস করতে পারিনি। কোন কিছু করতে গেলে আমাকে মেরে ফেলবে হয়তো।
সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরলে ডাঃ ডেকে তাদের সবার ওষুধ ইনজেকশন করা হয়।
এখন তারা কোন পথে এগিয়ে যাবে গেলে সঠিক বিচার পাবে সকলের কাছে পরামর্শ চেয়েছেন।