মোবাইল কোর্ট: বিশ্লেষন

প্রকাশিত: ৮:৩২ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ৩, ২০২১

অ্যাডভোকেট মোতাহার হোসেন সাজু:

আইন শৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ প্রতিরোধ কার্যক্রমকে দক্ষতার সঙ্গে সম্পাদন করার স্বার্থে দরকারি ক্ষেত্রে কতিপয় অপরাধ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে আমলে নিয়ে দণ্ডারোপের সীমিত ক্ষমতা প্রয়োগের উদ্দেশ্যে গোটা দেশে কিংবা যে কোন জেলা বা মেট্রেপলিটন এলাকায়, ভ্রাম্যমান কার্যক্রম পরিচালিত হবে যা “মোবাইল কোর্ট” নামে অভিহিত হবে। মোবাইল কোর্ট হচ্ছে ভ্রাম্যমান কার্যক্রম, যা কখনোই বিচার নয় বরং সংগঠিত দৃশ্যমান তুচ্ছ অপরাধের তাৎক্ষণিক সামাজিক শান্তিরক্ষার সঠিক পদক্ষেপ। মোবাইল কোর্টের কার্যক্রম মূলত Quasi-judicial প্রকৃতির যখন কোন ব্যক্তি স্বেচ্ছায় নিজের দোষ স্বীকার করেন অর্থাৎ নিজের দ্বারা সৃষ্ট দৃশ্যমান অপরাধের অনুতপ্ত প্রকাশের মধ্য দিয়ে দোষ স্বীকার করেন তখন মোবাইল কোর্ট সঠিক দণ্ড দিয়ে থাকে। এতে ন্যায় বিচারের মূলনীতির কোন ব্যত্যয় ঘটে না। জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্র্রেটও মামলার যে কোন স্তরে অপরাধী তাঁর দোষ স্বীকার করলে সাক্ষ্য প্রমাণ গ্রহণের আগেই তাকে সঠিক দণ্ড দিয়ে থাকেন। যেসব দৃশ্যমান অপরাধে মোবাইল কোর্ট তাৎক্ষণিক জরিমানা বা দণ্ড দিয়ে থাকেন ওই সময়ে, ওই দণ্ড বা জরিমানা না দিলে দ্রুত জীবন আশঙ্কা বা সামাজিক ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। যার কারণে মোবাইল কোর্টের সৃষ্টি। বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ সংক্রান্ত মাসদার হোসেন মামলার রায় ১৯৯৮ সালে হাইকোর্টে হয়েছিল। তখনকার সামাজিক অবস্থা ও বর্তমান সামাজিক অবস্থা এক নয়। ২০০০ সালে মাসদার হোসেন মামলায় আপীল বিভাগ যেসব নির্দেশনা দিয়েছিল সদ্য ঘোষিত মোবাইল কোর্ট বাতিল করার রায় তাঁর সুস্পষ্ট প্রতিফলন নয়। কারণ মাসদার হোসেন মামলায় আপীল বিভাগের রায়ের ৪৪-সি প্যারায় বলা হয়েছে, তাঁর অর্থ দাঁড়ায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্র্রেট সরকারের অনুমতিক্রমে নির্ধারিত সময় পর্যন্ত বিচারিক কার্যক্রম চালাতে পারবে কিন্তু Purely Judicial function করতে পারবে না। ওই ব্যাখ্যার আলোকেই তা পরিচালিত হয়ে থাকে।

গত ১১ মে হাইকোর্ট বিভাগ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে দ্বারা মোবাইল কোর্ট পরিচালনা অবৈধ ঘোষণা করে। হাইকোর্টের আদেশের প্রেক্ষিতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণ ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা থেকে বিরত থাকার কারণে মাঠপর্যায়ে তাৎক্ষণিকভাবে অপরাধের প্রতিকার না পাওয়ায় জনমনে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। হাইকোর্টে রায়ের পর এক সপ্তাহ মোবাইল কোর্টের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় অর্থাৎ ওই সময় ছিল পবিত্র রমজান মাস। এতে করে উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় ও জনদুর্ভোগ আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ে। উদ্ভূত পরিস্থিতির একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র নীচে দেয়া হলো :-

(০১) পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে বাজারের দ্রব্যমূল্য লাগামহীনভাবে বাড়তে শুরু করে। আগের বছরগুলোতে রমজান ও ঈদের সময় বাজারের দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণ দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হন। হাইকোর্ট বিভাগের আদেশের প্রেক্ষিতে বাজার নিয়ন্ত্রণে শক্তিশালী পদক্ষেপ নেয়ার সম্ভাবনা না থাকায় অসাধু ব্যবসায়ীরা দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিতে উৎসাহিত হয়।

(০২) পাবলিক পরীক্ষা কেন্দ্রে পরীক্ষা চলার সময় বহিরাগতদের নকলে সহায়তা করার জন্য অবাধে প্রবেশের প্রবণতা বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। পরীক্ষা পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদেরকে ভয়-ভীতি প্রর্দশন করা হয়। এর ফলে শিক্ষকরা অসহায় হয়ে পড়েন। বিগত পাবলিক পরীক্ষা চলার সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণ এ ধরণের অপরাধ নিরসনে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে পাবলিক পরীক্ষাগুলোতে নকলমুক্ত পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছেন। হাইকোর্ট বিভাগের আদেশের ফলশ্রুতিতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণ নকলমুক্ত পরিবেশ বজায় রাখার জন্য কোন পদক্ষেপ নিতে পারেন না। এ জন্য শিক্ষার গুনগতমান অধ:পতিত হবার আশঙ্কা দেখা দেয়।

(০৩) ইভটিজিং একটি সামাজিক সমস্যা। ইভটিজিং এর কারণে মহিলা ও ছাত্রীদের শালীনভাবে চলাচল প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণ ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনার মাধ্যমে ইভটিজিং এর প্রবণতা কমিয়ে শূণ্যের কোটায় নামিয়ে আনতে সক্ষম হন। হাইকোর্ট বিভাগের আদেশের প্রেক্ষিতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণ কর্তৃক ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা বন্ধ থাকায় ইভটিজিং এর প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেতে শুরু করে।

(০৪) বাংলাদেশে বাল্যবিবাহ একটি সামাজিক সমস্যা। বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সরকারিভাবে নানা পদক্ষেপ নেয়া হয়েছিল। হাইকোর্টের রায়ের পর এক সপ্তাহের মধ্যে দ্রুত বাল্য বিবাহ হতে থাকে।

(০৫) মেয়াদ উত্তীর্ণ ও ভেজাল ঔষধ এবং নকল ঔষধ বিক্রি বন্ধ করার জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে পদক্ষেপ নেয়ার কারণে অপরাধটি কমতে শুরু করে কিন্তু হাইকোর্টের রায়ের এক সপ্তাহের মধ্যে মেয়াদ উত্তীর্র্ণ, ভেজাল ঔষধ ও নকল ঔষধে বাজার সয়লাব হতে থাকে।

(০৬) হাইকোর্টের রায়ের পর নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, সরকারি খাস জমি, হাট-বাজারের ও রাস্তা-ঘাটের খাসজমি, অর্পিত সম্পত্তি অবৈধভাবে দখল দ্রুত বাড়তে থাকে।

(৭) মাদক সেবন, পরিবহন ও সংরক্ষণ প্রতিরোধে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে ব্যাপক সফলতা পাওয়া গিয়েছিল। হাইকোর্ট বিভাগের আদেশের কারণে ভ্রাম্যমান আদালতের কাজ বন্ধ থাকায় মাদক সেবন, পরিবহন ও সংরক্ষণ প্রবণতা মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেতে শুরু করে।

(৮) গণপরিবহনে অরাজকতা বন্ধে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনার মাধ্যমে ব্যাপক সফলতা পাওয়া গিয়েছিল। ফিটনেস বিহীন যানবাহন চলাচল, বেপরোয়াভাবে যানবাহন চলাচল, ট্রাফিক আইন অমান্যকারী যানবাহন চলাচল বন্ধে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করার জন্য সড়ক দুর্ঘটনা কমতে এবং সড়ক দুর্ঘটনা আগের তুলনায় কমতে শুরু করেছিল। কিন্তু হাইকোর্টের রায়ের পর এক সপ্তাহের মধ্যে তা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যায়।

মোবাইল কোর্ট বন্ধের প্রভাব: মোবাইল কোর্ট ছাড়া নির্বাহী ম্যাজিস্টেটের সকল দায়িত্ব পালন, ভূমি ব্যবস্থাপনা ও ভুমি রাজস্ব প্রশাসন, ভূমি উন্নয়ন কর আদায়, খাসজমি ও সরকারি সম্পত্তি রক্ষা, সরকারি পাওনা আদায় আইন, ১৯১৩ এর অধীনে সার্টিফিকেট অফিসারের দায়িত্ব পালন, আইন-শৃংখলা রক্ষা বিষয়ক কার্যাবলী সম্পাদন, প্রটৌকল দায়িত্ব, পাবলিক পরীক্ষা সংক্রান্ত কাজ, নির্বাচন সংক্রান্ত কার্যাবলী সম্পাদনে বিপর্যয় ও বিশৃঙ্খলা নেমে আসবে। স্থিতিশীল প্রশাসনিক কাঠামো ভেঙ্গে অরাজকতা সৃষ্টি হবে, যা সরকারের পক্ষে প্রশাসন ক্যাডারের সদস্যরা মোকাবেলা করতে বাধার সম্মুখীন হবেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার দায়িত্ব না থাকার ফলে জনগণের অধিকার লুন্ঠিত হচ্ছে, জনগণ ন্যায় বিচার পাচ্ছে না, মাদক ইয়াবা ইভ টিজার, বাল্য বিবাহ বেড়ে গেছে, সরকারি সম্পত্তি বেদখল হয়ে যাচ্ছে। জেলা প্রশাসকের কাছে প্রতিনিয়ত সাধারণ নাগরিকরা বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগ নিয়ে আসছে কিন্তু কোন প্রতিকার দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। উপজেলা পর্যায়ে সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্প ও দেশের উন্নয়ন কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

ভ্রাম্যমান আদালত থাকার প্রয়োজনীয়তা : The Code of Criminal Procedure, 1898 এর ১০ (১) ধারা অনুসারে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগপ্রাপ্ত হন। মাঠপর্যায়ে আইন-শৃংখলা রক্ষার মনিটরিং, সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা গ্রহণ, অবাধ নির্বাচন, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, মাদক চোরাচালান নিয়ন্ত্রণ, ন্যায্য মূল্যে ভেজালমুক্ত পণ্য ও সেবাপ্রাপ্তি নিশ্চিততকরণ, জুয়া প্রতিরোধ, মৎস্যসম্পদ রক্ষা, পরিকল্পিত নগরায়ন, মাংসের মান নিয়ন্ত্রণ, সরকারি জমি রক্ষা, নোটবই প্রতিরোধ, ভেজাল ঔষধ ও ভুয়া চিকিৎসক প্রতিরোধ, ওজনে কম দেওয়া প্রতিরোধ, সরকারি প্রয়োজনে ভূমি হুকুম দখল, নিরাপদ পানি সরবরাহ, ফরমালিন নিয়ন্ত্রণ, এসিড নিয়ন্ত্রণ, ধুমপান প্রতিরোধ, সুষ্ঠু সার ব্যবস্থাপনা, কৃষি জমি রক্ষা, শিশুশ্রম প্রতিরোধ, খেলার মাঠ উন্মুক্ত স্থান, উদ্যান ও প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ, রিয়েল এস্টেট উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা, নিরাপদ রক্ত পরিসঞ্চালন, জনগনের সেবক সরকারি অফিসের কর্মকর্তারা সনদ অনুযায়ী সেবা দিতে সঠিক দায়িত্ব পালন করেছেন কি না তার দায়বদ্ধতা, অসাধু ব্যক্তি সরকারি কাজে বাধা দিচ্ছে কি না, সুষ্ঠু দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় অন্য কেউ অনিয়ম করলেও তার জন্য দায়ী থাকা ইত্যাদি নির্বাহী বিভাগের কাজের জন্য Accountable ও Responsible কর্মকর্তাদের (AC Land), UNO, DC/DM) প্রশাসনিক কাজের সুবিধার্থে ভ্রাম্যমান আদালতের ক্ষমতা থাকা বাঞ্চনীয়।

মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯ এর আওতায় যেসব অপরাধ আমলে নেয়ার ও বিচার করার জন্য নির্দিষ্ট তা কোন না কোনভাবে কোন মন্ত্রণালয়/বিভাগ বা অধিদপ্তর/পরিদপ্তরের কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট, যা নির্বাহী বিভাগের অঙ্গ। তাঁরা এই কাজগুলি নিয়মিত মনিটরিং করে থাকেন। তাছাড়াও বিভাগীয় কমিশনার, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের কার্যক্রম মনিটরিং করে থাকে এবং তাদেরকে এসব প্রতিষ্ঠানে জবাবদিহি করতে হয়।

সে প্রেক্ষাপটে এসব কাজ বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটদের দেয়া হলে তাদেরকেও নির্বাহী বিভাগের আওতায় আনতে হবে যা বর্তমানে সম্ভব নয়। এরপরও, ২০০৭ সালের তুলনায় মামলার সংখ্যা অনেক বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ৩০ (ত্রিশ) লাখের কাছাকাছি যার নিষ্পত্তি ও বিচার প্রায় কঠিন হয়ে পড়েছে। বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটদের মাধ্যমে ভ্রাম্যমান আদালতের মামলা পরিচালনা করা হলে বিদ্যমান বিচারাধীন মামলা নিষ্পত্তি করা আরো দুরূহ হয়ে পড়বে। বহুল আলোচিত মাসদার হোসেন মামলার ১৯৯৮ সালে রায়ের সময় মামলা জটের লক্ষ্যমাত্রা অনেক কম ছিল। সময় ও সমাজের চাহিদার প্রেক্ষিতে ভ্রাম্যমান আদালতের সৃষ্টি, যা দৃশ্যমান অপরাধের তাৎক্ষণিক স্বীকার করতে সক্ষম এবং এতে সামাজিক সুবিচার প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে।

মানসম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিত করতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কর্মরত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রটদের সাফল্য ও কর্মস্পৃহা সর্বজন স্বীকৃত। নকল প্রতিরোধ, নোট বই নিষিদ্ধকরণ ও কোচিং বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ। লিঙ্গ সমতা তথা নারীর ক্ষমতায়ন ও নারীর প্রতি বৈষম্য রোধ করতে ইভ টিজিং প্রতিরোধে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রটদের প্রো-একটিভ ভূমিকার কারণে এখন ইভ টিজিং এর শিকার হয়ে ক্ষতির শিকার হবার খবর আমরা খুব কমই দেখি যা মোবাইল কোর্ট চালু হবার আগে একটি নৈমিত্তিক ব্যাপার ছিলো। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রটরা অপরাধের খবর পাওয়া মাত্র স্থান কাল পাত্র বিবেচনা না করে অপরাধীকে শাস্তির আওতায় আনেন। গ্রাম-শহর নির্বিশেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রটদের ২৪ ঘন্টা বিচরণ থাকায় গ্রাম ও শহরে বিচারপ্রাপ্তির বৈষম্য ছিলো অনেক কমেছে। গ্রাম ও শহরাঞ্চলের মধ্যে উন্নয়ন ও বিচারপ্রাপ্তির বৈষম্য দূর করতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রটদের ভূমিকা প্রশংসনীয়। পরিবেশ ও জলবায়ূ সংরক্ষণ ও উন্নয়নে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রটদের ভূমিকা প্রথম দিক থেকেই প্রশংসনীয়। জলযানে মোবাইল কোর্ট, পলিথিন বিরোধী অভিযানের ফলে বাজার থেকে পলিথিন উঠে যাওয়া, ইট ভাটার বিরুদ্ধে অভিযান এবং পরিবেশ আইনের বিভিন্ন ধারায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রটরা চমৎকার সাফল্য দেখিয়েছেন। মা ইলিশ রক্ষার মাধ্যমে দেশের অন্যতম গর্ব ইলিশ মাছের উৎপাদন বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ১০ বছরের ইলিশ উৎপাদন প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে, যার অন্যতম প্রধান সহায়ক ছিলো দিন-রাত নির্বিশেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রটরা মা ইলিশ রক্ষা অভিযান। এছাড়া, অবৈধ কারেন্ট জাল ও ডিম ও রেণু ধ্বংসকারী হাজার হাজার কিলোমিটার বেহুন্দি জাল ধ্বংস করে জলজ জীব তথা মাছ রক্ষায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রটরা কার্যকর ভূমিকা রেখেছেন। শুধু দৃশ্যমান অপরাধের ক্ষেত্রে অপরাধীর স্বেচ্ছায় দোষ স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে মোবাইল কোর্ট তাক্ষণিক সাজা বা অর্থ দ- দিয়ে থাকেন কিন্তু যে অপরাধের দোষ স্বীকার স্বেচ্ছায় না করে বা মোবাইল কোর্টের এখতিয়ার বহির্ভূত। তাঁদের পুরো নথিই অত্র আইনের ৬(৩)(৪)(৫) ধারার আলোকে বিচারক আদালতে পাঠিয়ে দেন যাতে প্রতিটি স্তরে সেই ব্যক্তি এককভাবে নিজে বা আইনজীবীর মাধ্যমে পরিচায়ক কার্যক্রমে অংশ গ্রহণ করতে পারেন।

সর্বোপরি মোবাইল কোর্ট আইনে সিডিউলে বর্ণিত ১০৯টি আইনের ছোট অপরাধ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে সমাজে অপরাধ নিয়ন্ত্রণের সাথে সাথে জনসাধারণের ন্যায়বিচার প্রাপ্তির যে মৌলিক অধিকারের কথা এসডিজির লক্ষ্যমাত্রা ১৬ তে বর্ণিত হয়েছে তা নিশ্চিত করতে সর্বত্র কার্যকর ভুমিকা রাখতে সক্ষম হয়েছে।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রট ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারগণ জাতীয় নির্বাচন চলাকালীন বিশেষ প্রয়োজনীয় মুহুর্তে এবং অন্যান্য সময়ে উপজেলায় দায়িত্বপ্রাপ্ত সেনাবাহিনীর সদস্য, বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড, র‌্যাপিড একশন ব্যাটালিয়ন, আনসার ভিডিপি ও পুলিশ সদস্যদের মধ্যে সমন্বয় ও দায়িত্ব বন্টনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। নির্বাহী অফিসারকে মোবাইল কোর্টের ক্ষমতা না থাকার ফলে তারা নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন সম্পন্নের ক্ষেত্রে সমস্যার সম্মুখীন হবেন। জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ দমনে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটনগণকে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করতে হয়। জঙ্গিবাদ চরমপন্থী বাহিনী ও সন্ত্রাসবাদ বর্তমানে ক্রমান্বয়ে একট বড় ধরণের চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদেরকে এ সকল সমস্যা সমাধানে স্থানীয় পুলিশকে গুরুত্বপূর্ণ দিক নির্দেশনা ও পরামর্শ প্রদান করেন। জরুরি ও বিভিন্ন প্রয়োজনীয় সময়ে যৌথ বাহিনীর অভিযানে নেতৃত্ব দিয়ে থাকেন। সুতরাং, শত বছরের ঐতিহ্যবাহী সুপ্রতিষ্ঠিত প্রশাসনিক কাঠামো সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য দ্রুত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের মোবাইল কোর্ট পরিচালনা ও অপরাধ আমলে নেয়ার ক্ষমতা অর্পণের কোন বিকল্প নাই। এই আইন সৃষ্টির ফলে জেলা প্রশাসনকে আরো শক্তিশালী করেছে অপরদিকে দৃশ্যমান নির্দিষ্ট অপরাধ সমূহের বিচার তরান্বিত ও অপরাধের দ্রুত শাস্তির বিধান করেছে। দেশের তৃণমূল পর্যায়ে বিভিন্ন প্রতিকারমূলক আইনের সুফল দ্রুত পৌঁছিয়ে দেওয়া ও বিভিন্ন অপরাধ প্রবণতা এবং আইন ভঙ্গের কারণে জনদূর্ভোগ লাগবের মাধ্যমে জনজীবনের নিরাপত্তা, শৃংঙ্খলা, সুশাসন প্রতিষ্ঠায় মোবাইল কোর্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

মোবাইল কোর্ট এর প্রয়োগ : বর্তমান বাস্তবতায়, বিচারিক ম্যাজিস্ট্রটদের স্বল্পতা, লজিস্টিক সাপোর্টের অভাব, উপজেলা পর্যায়ে বিচারিক হাকিম না থাকায় বিচারিক আদালতে দিন দিন মামলাজট ঘনীভূত হচ্ছে। দেশে বিদ্যমান মামলাজট কমাতে ও উপজেলা পর্যায়ে বিচারিক হাকিমের মাধ্যমে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করে উন্নয়নের অগ্রযাত্রা ঠিক রাখতে যে সংখ্যক বিচারিক হাকিম নিয়োগ করতে হবে, বাস্তবিক বিবেচনায়, মানসম্পন্ন হাকিম নিয়োগ করতে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন হবে। এছাড়া, বিপুল সংখ্যক নিয়োগের ফলে বিপুল পরিমাণ অতিরিক্ত অর্থ সরকারি কোষাগার থেকে ব্যয় করতে হবে। অথচ, বর্তমান ব্যবস্থায়, সীমিত ক্ষমতা প্রয়োগের মাধ্যমে উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এসি ল্যান্ডগণ সুন্দরভাবে এ কার্র্যক্রম সম্পন্ন করছেন।

বিচারবিভাগ পৃথকীকরনের মাসদার হোসেন মামলায় রায়ের পর ২০০৯ সালে মোবাইল কোর্টের আইন সৃষ্টি হয়। ২০০৯ সালে পরিচালিত মোবাইল কোর্টের সংখ্যা ১৪০০২ নিষ্পত্তিকৃত মামলার সংখ্যা ৪৬,২০১। আদায়কৃত জরিমানা ১৫,১৭,৪৩,০৩০ টাকা এবং ২০১৬ সালে পরিচালিত মোবাইল কোর্টের সংখ্যা ৫৮,৮২০। নিষ্পত্তিকৃত মামলার সংখ্যা ১,৩০,২৯৪ এবং আদায়কৃত জরিমানা ৫৫,৪৯,৯৩,০১৩ টাকা। গত ২৯.০৬.২০১৭ খ্রিঃ তারিখে দেশের কারাগার সমূহে আটক সর্বমোট বন্দি সংখ্যা ৬৫৯৩৯ জন, মোবাইল কোর্ট কর্তৃক সাজাপ্রাপ্ত বন্দির সংখ্যা ৩১৪১ জন এবং মোবাইল কোর্ট মামলার সংখ্যা ৩০৯৭টি ।

মোবাইল কোর্ট অধিকতর কার্যকরী করার জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধি যেমন বিএসটিআই প্রতিনিধি, সিটি কর্পোরেশনের স্যানিটারী ইন্সপেক্টর, জনপ্রতিনিধি ঐক্যবদ্ধভাবে অভিযান পরিচালনা করেন। এর উদ্দেশ্য যে কোন অনাকাঙ্খিত ঘটনা প্রতিরোধ করে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা। বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটগণ যখন মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করবেন তখন জনপ্রতিনিধিসহ এসব অংশীজনের সঙ্গে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করলে তাদের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হবে যেহেতু বিচারিক কার্যক্রমের অন্যতম স্পিরিট হল বিচারিক প্রক্রিয়ায় নিরপেক্ষতা বজায় রাখার জন্য ব্যবসায়ী শ্রেণী, জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ জনগণের সব সময় ওঠাবসা না করা।

মোবাইল কোর্ট একটি অপরাধ প্রতিরোধকল্পে গৃহীত বিকল্প ব্যবস্থা। সরকার দেশের এই মামলা জট কমাতে শুধু নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে পরিচালিত মোবাইল কোর্টকেই গুরুত্ব দিচ্ছে না। গ্রাম আদালত আইন, ২০০৬ দ্বারা প্রতিষ্ঠিত জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত গ্রাম আদালতকেও কার্যকর করার চেষ্টা করে যাচ্ছে। দেশে বর্তমানে তিন ধরণের বিচার ব্যবস্থা চালু রয়েছে। একটি নিয়মিত আদালত বা বিচার ব্যবস্থা, আরেকটি প্রশাসন ক্যাডারের সদস্যদের মাধ্যমে ঘটনাস্থলে অপরাধ আমলে গ্রহণ করে দোষ স্বীকারের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক বিচারের ব্যাবস্থা এবং সর্বশেষ জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে ছোটখাট অপরাধের বিচার করা। এর উদ্দেশ্য মূলতঃ একটিই। মুল কথা হলো-বিচারিক আদালতকে সহায়তা করা, বিচারিক আদালতের বোঝা কমানো। বলাই বাহুল্য যে, এর প্রতিটি মামলার রায়ের বিরুদ্ধে আপীল করা যায়। ধাপ পেরিয়ে বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটরাই এই আপীল শুনে থাকেন।

আদালতকে সহায়তার এ বিষযটি শুধু এদেশেই নয়। খোদ বৃটেনে ‘লে ম্যাজিস্ট্রেট’ নিয়োগ করা হয়। বৃটেনের ‘লে ম্যাজিস্ট্রেট’ হতে গেলে আইন পড়তেই হবে এরকম কোন বাধ্য বাধকতা নাই। ‘লে ম্যাজিস্ট্রেট’রা ছোটখাটো অপরাধের বিচার করে থাকেন। যেমন, অ্যাসল্ট, মটর গাড়ি সংক্রান্ত অপরাধ, চুরি ও চুরির মালামাল বহনের জন্য তারা শাস্তি দিতে পারেন। এক্ষেত্রে জরিমানা, কমিউনিটি সার্ভিস প্রদানের আদেশ এবং ক্ষেত্র বিশেষে ৬ মাস থেকে এক বছরের কারাদ- দিতে পারেন। সেখানে কেউ বিচার বিভাগের সম্মান ক্ষুন্ন হওয়ার কথা বলেন না। আসলে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বাস্তবতার নিরিখে কিছু ব্যবস্থা নিতে হয়। তা অন্য দেশের ব্যবস্থার সঙ্গে মেলানো যায় না। ভারতে The maintenance and welfare of parents and senior citizens Act, 2007 এর ৭ ধারাতে Constitution of maintenance Tribunal এর কথা বলা হয়েছে অর্থাৎ রাষ্ট্রের সাব-ডিভিশনাল অফিসারের নীচে নন, এমন ব্যক্তির মাধ্যমে ট্রাইবুনাল পরিচালিত হবে এবং ১৫(২) ধারায় জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটের মাধ্যমে আপীল ট্রাইবুনাল পরিচালিত হইবে। কেউই বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট নন।

জরিমানা ও কারাদণ্ড বলতেই বিচার বিভাগের এখতিয়ারকে বোঝানো হলে নির্বাহী বিভাগের কার্য পরিধির পুর্নবিন্যাস করতে হবে রেলওয়ে আইন ১৮৯০ক ধারায় রেলওয়ের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মচারীকে বিনা ১৩০ ধারা এবং ১২০ এর-১৯৮৩ পরোয়ানায় গ্রেপ্তার ও তল্লাশি করার ক্ষমতা দেওয়া আছে। মোটরযান অধ্যাদেশ-এর ১৫৯, ১৬০ ও ১৬১ ধারায় পুলিশ কর্মকর্তাকে বিচারিক ক্ষমতা দেওয়া আছে। এছাড়া মেট্রোপলিটন আইনে পুলিশ কমিশনারের বিচারিক ক্ষমতা, RPO-তে নির্বাচনকালীন প্রিসাইডিং কর্মকর্তার ম্যাজিস্ট্রেসি, The Registratin Act. 1908-এ সাব-রেজিস্ট্রারের বিচারিক ক্ষমতা, ট্যাক্স আইনে ট্যাক্স কর্মকর্তাদের দ- দেওয়ার ক্ষমতা দেয়া আছে, যেগুলো প্রাসঙ্গিকভাবেই অতি আবশ্যক।

সরকারের অন্যান্য নির্বাহী বিভাগের কাজের সুবিধার্থে তাদের সুনির্দিষ্ট কর্মকর্তাদের বিচারিক ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। তারা সেটা নিয়মিত প্রয়োগও করে থাকেন। কর আপিল ট্রাইবুনালের বিচারকগণের বেশিরভাগ সদস্য কর ক্যাডার কর্মকর্তা মাত্র ২ জন আয়কর ট্যাক্স প্রাকটিশনার এর সদস্য হতে পারেন। এই ট্রাইবুনালের বাইরে যুগ্ম কর কমিশনারে অনেকন বিচারিক ক্ষমতা রয়েছে যা কারাদ- প্রদান পর্যন্ত বিস্তৃত। উপ কর কমিশনার ও তার আওতাভুক্ত এলাকার কর সম্পর্কিত অপরাধের সাজা দিতে পারেন। কাস্টমস ও ভ্যাট এর সহকারী কমিশনারকে ভ্যাট ফাঁকিবাজদের দ- দেয়ার প্রথম শ্রেণী ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দেয়া আছে। নন ক্যাডার কর্মকর্তা সাব রেজিস্ট্রারকেও বিচারক হিসেবে আখ্যা দেয়া আছে। পরীক্ষা নেয়ার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী বডি হলের কেন্দ্র সচিবের কোন অসদুপায় অবলম্বনকারীকে কেন্দ্র থেকে বহিস্কার করার ক্ষমতা এবং বোর্ড/বিশ্ববিদ্যালয় এমন কি পি. এস.সি. এর অপরাধীকে কয়েক বছরের জন্য পরীক্ষা দেয়া থেকে বঞ্চিত করে দেয়ার আদেশ দেয়ার এখতিয়ার, নির্বাচনকালীন প্রিজাইডিং অফিসারকে দেয়া ম্যাজিস্ট্রেসি, ট্রাফিক আইন ভঙ্গকারী বা The Motor Vehicles Ordinance 1983 এর আইনে করা অপরাধে ট্রাফিক সার্জেন্ট এর ইস্যু করা কেস স্লিপ এর ভিত্তিতে ডিসি বা এস পি এর অর্থদ- দেয়ার ক্ষমতাও নির্বাহী বিভাগের সীমিত ক্ষেত্রে বিচারকার্য (পুলিশ) পরিচালনার উদাহরণ।
সম্প্রতি ঘোষিত “মোবাইল কোর্ট” বাতিলের রায় বাংলাদেশের দৃশ্যমান অপরাধের প্রতিকার না করে মাসদার হোসেন মামলার দোহাই দিয়ে মোবাইল কোর্টের সম্পৃক্ত অপরাধ করার ক্ষেত্র প্রসারিত করেছে এবং এতে করে অপরাধীরা আরো উৎসাহিত হবে। আইনের সৃষ্টিই সামাজিক শান্তি ও রাষ্ট্রের শৃঙ্খলার জন্য। রায়ের ফলে ফরাসী আইনের অমর বাণী পরাস্থ হয়েছে যথা- “Necessitas vincit legem” (Necessity overcomes the Law) and “Le Salut du peuple est la supreme Loi” (The Safety of the People is the highest Law). মোবাইল কোর্ট প্রচলিত থাকলেই সামাজিক জীবনের শান্তি, শৃঙ্খলা ও সুরক্ষা হতে পারে এবং যে বিষয়গুলো মোবাইল কোর্ট আইনে সুস্পষ্ট করা হয়নি তা ওই আইনের ১৬ ধারা মোতাবেক বিধি প্রনয়ন করা। “মোবাইল কোর্ট” বাতিল মামলার আপীল বর্তমানে সুপ্রীম কোর্টের আপীল বিভাগের বিচারাধীন (Sub-Judice) বিষয়। তবে, এই আপিল নিষ্পত্তি পর্যন্ত আমাদের অপেক্ষা করতে হবে।

লেখক: ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ও সাবেক সহ-সম্পাদক সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি

© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | ল ইয়ার্স ক্লাব বাংলাদেশ.কম সম্পাদক : ড. বদরুল হাসান কচি অ্যাডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট।