জয়পুরহাটের কালাই উপজেলা প্রাচীনকাল থেকে আলু উৎপাদনের জন্য প্রসিদ্ধ। এ উপজেলায় প্রায় পাঁচ হাজার কৃষক পরিবার এবার ঈদের আনন্দের বদলে দুশ্চিন্তা ও হতাশার মধ্যে রয়েছে স্থানীয় কৃষকরা। কয়েকদিনের টানা অকাল বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার কারণে মাঠে বিস্তীর্ণ থাকা আলুর বড় অংশ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তারা বিপুল ক্ষতির মুখে পড়েছেন। অনেক কৃষক এখনো খেতে পচা আলুর মধ্যেই বোরো ধান চারা রোপণ শুরু করেছেন।
সোমবার(৩০ মার্চ) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,উপজেলার চান্দাইর-বানিহারা, ধাপপাড়া-আঁওড়া, ঝামুটপুর, হাতিয়র, তালোড়া বাইগুণি, ধুনট, দুধাইল, তেলিহার ও কালিমহুর বিস্তীর্ণ ফসলি মাঠ আলুখেতে এখনও পানির দাগ শুকায়নি।
কোথাও হাঁটুসমান কাদা, কোথাও জমে থাকা পানির ওপর ভেসে রয়েছে পচে যাওয়া আলু। রাস্তার ধারে,খেতের আইলে এবং বাড়ির পাশেও স্তূপ করে রাখা হয়েছে নষ্ট আলু। তীব্র দুর্গন্ধে পুরো পরিবেশ অসহনীয় হয়ে উঠেছে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সুত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে কালাই উপজেলায় প্রায় ১০ হাজার ৬৯০ হেক্টর জমিতে আলু চাষাবাদ হয়েছে।
টানা বৃষ্টির কারণে প্রায় ২ হাজার ৬৭২ হেক্টর জমির আলু পানিতে তলিয়ে পচে গেছে, ফলে প্রায় পাঁচ হাজার কৃষক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
এ উপজেলার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা বলেন, ঋণের বোঝা, নষ্ট ফসল এবং অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ তাদের জীবন কঠিন করে তুলেছে। রুহুল আমীন, নাজিম উদ্দীন, আবুল কাশেম ও আলমগীর হোসেনের মতো কৃষকরা বলেন, পচা আলুর মধ্যে ঝুঁকি নিয়ে বোরো ধানের চারা রোপণ করতে বাধ্য হচ্ছেন। কেউ কেউ ভালো আলু আলাদা করার চেষ্টা করলেও তা কার্যকর হয়নি।
এ বিষয়ে কালাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হারুনুর রশিদ বলেন,পচা আলু থেকে নির্গত গ্যাস ও অ্যাসিডিক পরিবেশ ধানের চারা নষ্ট করতে পারে। তবে সময় না থাকায় কৃষকরা ঝুঁকি নিয়ে চারা রোপণ শুরু করেছেন। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে এবং তাদের সহায়তার বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হয়েছে।তিনি আরও বলেন,স্থানীয় কৃষকরা আশা করছেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ত্বরিত সহায়তা প্রদান করলে অন্তত ক্ষতির পরিমাণ কিছুটা কমানো সম্ভব হবে।