• শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:৩১ পূর্বাহ্ন

ময়লার ভাগাড়ে পাওয়া নবজাতকের পরিচয় মিলেছে: দাফনের নামে ১,৫০০ টাকা নিয়ে মরদেহ ফেলে দেওয়ার অভিযোগ, পলাতক অভিযুক্ত

Reporter Name / ১৩৯ Time View
Update : শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২৬

রাজবাড়ী সদর উপজেলার বিনোদপুর এলাকায় ময়লার ভাগাড় থেকে উদ্ধার হওয়া নবজাতকের মরদেহের পরিচয় মিলেছে। শিশুটির বাবা মাসউদুর রহমান অভিযোগ করেছেন, দাফনের কথা বলে তার মামা-শ্বশুর চুন্নু মৃধা ১,৫০০ টাকা নিয়ে নবজাতকের মরদেহ গ্রহণ করলেও পরে সেটি ময়লার ভাগাড়ে ফেলে দেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত চুন্নু মৃধা পলাতক রয়েছেন এবং তাকে খুঁজছে পুলিশ।

মাসউদুর রহমানের বাড়ি পাবনা জেলার সুজানগর উপজেলায়। প্রায় চার বছর আগে পারিবারিকভাবে একই এলাকার শাকিলা ইসলামের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। এটি ছিল তাদের প্রথম সন্তান। নতুন অতিথিকে ঘিরে পরিবারে ছিল আনন্দ ও অপেক্ষা।

তিনি জানান, সুজানগর থেকে পাবনা শহরের দূরত্ব বেশি হওয়ায় এবং প্রসূতির সুবিধার কথা বিবেচনা করে শ্বশুরবাড়ির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তার স্ত্রীকে রাজবাড়ী শহরের ২ নম্বর বেড়াডাঙ্গা এলাকায় মামা-শ্বশুরের বাড়িতে আনা হয়।

গর্ভাবস্থার ১০ মাস পার হলেও স্বাভাবিক প্রসব না হওয়ায় প্রথমে তাকে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় ১ জুলাই রাতে রাজবাড়ী শহরের ৩ নম্বর বেড়াডাঙ্গা এলাকার নিরাময় ক্লিনিকে নেওয়া হয়। সেখানে রাত প্রায় ১২টার দিকে একটি মৃত পুত্রসন্তানের জন্ম হয়।

মাসউদুর রহমান বলেন, তিনি সন্তানের মরদেহ নিজ বাড়ি পাবনায় নিয়ে গিয়ে দাফন করতে চেয়েছিলেন। তবে তার মামা-শ্বশুর চুন্নু মৃধা তাকে বুঝিয়ে বলেন, এত দূরে নেওয়ার পথে মরদেহ নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই রাজবাড়ীতেই দাফন করার পরামর্শ দেন। পরে রাত প্রায় ১টার দিকে দাফনের খরচের কথা বলে তার কাছ থেকে ১,৫০০ টাকা নিয়ে নবজাতকের মরদেহ নিজের কাছে রেখে দেন।

পরদিন সকালে দাফনের বিষয়ে জানতে চাইলে তাকে জানানো হয়, শিশুটিকে দাফন করা হয়েছে।

কিন্তু কিছুক্ষণ পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ময়লার ভাগাড় থেকে কাপড়ে মোড়ানো এক নবজাতকের মরদেহ উদ্ধারের খবর দেখে তার সন্দেহ হয়। সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি দেখে তিনি দাবি করেন, সেটি তারই মৃত সন্তান।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে মাসউদুর রহমান বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি, ওটা আমার সন্তান। চারদিকে মানুষ নানা ধরনের কথা বলছিল। একজন বাবা হিসেবে সেই মুহূর্তের কষ্ট ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। আমি বিশ্বাস করে সন্তানের দাফনের দায়িত্ব দিয়েছিলাম। কিন্তু আমার মৃত সন্তানকে ময়লার ভাগাড়ে ফেলে দেওয়া হয়েছে। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।

স্থানীয়দের ভাষ্য, বৃহস্পতিবার ভোর ৬টার দিকে এক টোকাই ময়লার ভাগাড়ে বিভিন্ন জিনিসপত্র সংগ্রহ করতে গিয়ে একটি প্লাস্টিকের ব্যাগ দেখতে পান। সন্দেহ হওয়ায় ব্যাগটি খুলতেই ভেতরে কাপড়ে মোড়ানো নবজাতকের মরদেহ দেখতে পেয়ে তিনি আশপাশের লোকজনকে খবর দেন। পরে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে এসে পুলিশকে অবহিত করেন।

মরদেহটি প্রথম দেখতে পাওয়া হাবিবুর রহমান বলেন, “আমি প্রতিদিনের মতো সকালে এখানে জিনিসপত্র কুড়াতে এসেছিলাম। একটি প্লাস্টিকের ব্যাগ দেখে খুলতেই ভেতরে কাপড়ে মোড়ানো একটি বাচ্চার মরদেহ দেখতে পাই। প্রথমে খুব ভয় পেয়ে যাই। পরে স্থানীয়দের জানাই। তারা এসে পুলিশকে খবর দেয়।

ঘটনাটি স্থানীয়দের মধ্যেও ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় বাসিন্দা মো. রবিউল বলেন, অনেক মানুষ একটি সন্তানের আশায় বছরের পর বছর অপেক্ষা করেন। অথচ একটি নবজাতকের মরদেহ এভাবে ময়লার ভাগাড়ে পড়ে থাকতে হবে, এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া উচিত।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত চুন্নু মৃধা বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
amazing-link-zeus.ca