রাইসুল ইসলাম রিফাত, নকলা প্রতিনিধি:
শেরপুরের নকলা উপজেলার কায়দা গ্রামে প্রশাসনের তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপে একটি বাল্যবিবাহ বন্ধ করা হয়েছে।জানা যায়, বাল্যবিবাহের একটি অভিযোগ পাওয়ার পর জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেন এবং দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। অত:পর জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিনের নির্দেশনায় ২৪ জুলাই শুক্রবার বিকেলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাদিয়া আফরিন এ্যানির নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে কনের বাড়িতে গিয়ে বিয়ের অনুষ্ঠান বন্ধ করা হয়।
জানা যায়, নকলা উপজেলার জালালপুর মন্ডলপাড়া গ্রামের মো. আব্দুল মান্নান ও মোছা. আম্বিয়া বেগমের ছেলে মো. আসিফের সঙ্গে কায়দা গ্রামের মো. মাহির ও মোছা. রুমা বেগমের মেয়ে মোছা. মুন্নি আক্তারের বিয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছিল। এ সময় প্রশাসন ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা বন্ধ করে দেয়।
বরপক্ষের ছাপানো দাওয়াতপত্র অনুযায়ী, শনিবার ২৫ জুলাই ২০২৬ জালালপুর মন্ডলপাড়ায় বরের নিজ বাড়িতে ভৌভাত অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। তবে তার আগেই শুক্রবার কনের বাড়িতে বিয়ে সম্পন্ন করার প্রস্তুতি চলাকালে প্রশাসনের অভিযানে পুরো আয়োজন বন্ধ হয়ে যায়।
জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিনের নির্দেশনার আলোকে পরিচালিত এ অভিযানে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাদিয়া আফরিন এ্যানি বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনে কনের বাবা মো. মাহিরকে ৭ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে মেয়ের প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগে বিয়ে দেবেন না মর্মে তাঁর কাছ থেকে লিখিত মুচলেকা নেওয়া হয়।
অভিযানকালে নকলা থানা পুলিশ এর সঙ্গীয় ফোর্স, নকলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার পক্ষে সাদিকুল ইসলাম, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাল্যবিবাহ একটি দণ্ডনীয় অপরাধ। এ ধরনের ঘটনার তথ্য পাওয়া মাত্রই দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে অভিভাবকদের সন্তানদের আইনসম্মত বয়স পূর্ণ হওয়ার আগে বিয়ে না দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।