• শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:২৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম
নাচোলে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বী নারীদের মাঝে ‘প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ভান্ডার’ হতে বরাদ্দকৃত ১০০টি শাড়ী বিতরণ করা হয়েছে। নাচোলে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু হলো আলভি ট্যুরস এন্ড ট্রাভেলসের নাচোল উপজেলার সনাতন ধর্মালম্বীদের শারদীয় দূর্গাপুজা/২০২৬ উপলক্ষে শুভেচ্ছা  জানিয়েছেন নাচোল পৌর  বিএনপির উপদেষ্টা ও বিএনপি দলীয় ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আব্দুর রহিম। মহাপরিচালক বরাবর পলাশবাড়ী পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তার দূর্ণীতির অভিযোগকারীকে মামলায় ফাঁসিয়ে জেলে পাঠানোর অভিযোগ নাচোলে ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করতে চান তরুণ উদ্দোক্তা এবং ছাত্রনেতা থেকে উঠে আসা মো: আসগার হাসান রোমিও ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের প্রয়োজন নেই: ইসি সানাউল্লাহ ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের প্রয়োজন নেই: ইসি সানাউল্লাহ রহমড আরিফ ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের প্রয়োজন হবে না বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত ভোটের পরিবেশ অত্যন্ত সুন্দর রয়েছে। আগামী ২৯ অক্টোবর একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকাল ১১টায় ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সভাকক্ষে উপনির্বাচন উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেল, ভিজিল্যান্স ও অবজারভেশন টিম এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি। নির্বাচনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে ইসি সানাউল্লাহ বলেন, ‘আমরা এখন পর্যন্ত সেনাবাহিনী মোতায়েনের কথা চিন্তা করছি না। কারণ, জাতীয় নির্বাচনের চেয়েও প্রায় তিন গুণ বেশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে। ফলে অতিরিক্ত নিরাপত্তার প্রয়োজন রয়েছে বলে আমরা মনে করি না। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ভোটকেন্দ্রগুলোতে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে এবং এর ফুটেজ সংরক্ষণ করা হবে, যাতে কেউ অসৎ উদ্দেশ্যে কোনো সুবিধা নিতে না পারে। পাশাপাশি পুলিশ, বিজিবি, র‍্যাব ও আনসার সদস্যদের কাছে বডি-ওর্ন ক্যামেরা এবং ড্রোনের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক নজরদারি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি রয়েছে। নির্বাচনি অভিযোগের বিষয়ে তিনি জানান, অনিয়ম প্রতিরোধ ও অভিযোগ নিষ্পত্তিতে ‘ইলেকটোরাল ইনকোয়ারি অ্যান্ড অ্যাডজুডিকেশন কমিটি’ কাজ করছে। এ ছাড়া মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করছেন বিচারক ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা। ইতোমধ্যে পাওয়া তিনটি অভিযোগের মধ্যে একটি নিষ্পত্তি হয়েছে এবং বাকি দুটি তদন্তাধীন রয়েছে। সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। এতে সভাপতিত্ব করেন ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম। মতবিনিময় সভায় উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, নির্বাচনি পরিবেশ বজায় রাখা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদারের বিষয়ে আলোচনা করা হয়। ঠাকুরগাঁওয়ে তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ, অটোচালক আটক নাচোলে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস ২০২৬ পালিত নাচোল সেন্ট্রাল প্রেসক্লাবের ১ম বর্ষ পূর্তি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

উত্তরবঙ্গের আদিবাসী তুরি জাতিসত্তার মধ্যে প্রথম জজ হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত কাজল পাড়ে

Reporter Name / ৮৪ Time View
Update : শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরের প্রত্যন্ত মাধাইপুর গ্রাম সেখানে সরকারি খাস পুকুর পাড়ে বসবাস। টানাটানির সংসার, শত অভাবেরর মাঝেও ছোট মাধাইপুর গ্রামকে আলোকিত করেছেন কাজল পাড়ে।

চার ভাইবোনের মধ্যে কাজল পাড়ে সবার ছোট এবং একমাত্র ভাই। প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকে গণ্ডি পেরিয়েছেন সাফল্যের সঙ্গে। এরপর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে অনার্স মাস্টার্স শেষ করেছেন। তিনি এখন বিসিএস ক্যাডার।

সমতলের আদিবাসী ‘তুরি’ জনগোষ্ঠীর ছেলে কাজল (২৯)। ‘পাঁড়ে’ তুরি জনগোষ্ঠীর একটি পদবি। ১৮তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষায় সিভিল জজ (সহকারী জজ) হিসেবে সুপারিশ পেয়েছেন তিনি। বুধবার সন্ধ্যায় এক বন্ধুর ফোনে ফল প্রকাশের খবর পান কাজল। পরে ওয়েবসাইটে ফল দেখে কাজল নিশ্চিত হন, ২০০ জনের মধ্যে তাঁর অবস্থান ১৪০তম। তাঁর স্বপ্নপূরণের খবর ছড়িয়ে পড়লে গ্রামে শুরু হয় আনন্দ। ভূমিহীন কৃষক পরিবারের একমাত্র ছেলে কাজল। তাঁর স্বপ্নের কথা গ্রামের মানুষ জানতেন। গ্রামের শিক্ষার্থীদের বিশ্বাস ছিল, কাজল একদিন বিচারক হবেন।

কিন্তু শিক্ষাজীবনের এ পথচলা তার সহজ ছিলনা। কাজল পাড়ে বলেন, অভাবের তাড়নায় একসময় আমার লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। বাবা অনেক কষ্ট করে শ্রমিকের কাজ করে আমার লেখা পড়ার খরচ চালিয়েছেন। সবার দরিদ্রতা থাকে কিন্তু আমার ছিলো দরিদ্রতা একই সাথে সামাজিক প্রতিবন্ধীকতা, ভাষাগত প্রতিবন্ধীকতা। আমি প্রথমেই ধাক্কা খেয়েছিলাম প্রাথমিকে বিদ্যালয়ে যখন সবাই বাংলা কথা বলছিলো। আমার মাতৃ ভাষায় কথা বলে আমি অভ্যস্ত ছিলাম। কিন্তু ক্লাসে যখন সহপাঠী ও শিক্ষকেরা বাংলায় কথা বলতো সে সময় আমি ভাষাগত প্রতিবন্ধীকতার স্বীকার হয়। পরে আস্তে আস্তে ভাষাগত দিকটা জয় করার পর শিক্ষকদের কথা বুঝতে পারতাম। এটা ছিলো আমার জীবনের অন্যতম কষ্টের জায়গা। তাছাড় আর্থিক সংকট বরাবরই ছিলো। কিন্তু আমার বাবার অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে ও আমার চেষ্টায় আর্থিক সংকট গুলো সাথে লড়াই করেই টিকে ছিলাম। সুপারিশ প্রাপ্ত হওয়ার পর আমার বাবা মা ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মত আমিও আনন্দিত।

তার বাবা নরেশ পাড়ে বলেন, কৃষি কাজ করে ছেলেকে লেখাপড়া করিয়েছি। আমাদের এলাকায় ছয় মাস কাজ থাকে আর ছয় মাস কাজ থাকে না তখন আমি নড়াইল, খুলনা ও ফরিদপুর এলাকায় গিয়ে কাজ করে এনে ছেলের লেখা পড়ার খরচ চালিয়েছি। এতেও যখন খরচ চালাতে ব্যর্থ হই তখন গরু বিক্রি করে খরচ চালিয়েছি। আমার ছেলের এই সাফল্যে আমার সাথে সাথে হিন্দু-বৌদ্ধ ও মুসলিম সবাই খুশি হয়েছে। প্রতিদিন অসংখ্য লোক আমার বাসাতে আমার ছেলেকে দেখার জন্য ভিড় জমাচ্ছে।

তার মা পঞ্চমী জেরি বলেন, কষ্ট করে খেয়ে না খেয়ে ছেলের লেখাপড়ার খরচ যোগিয়েছি । আমার স্বামী দেশ-বিদেশে খেটে নিয়ে এসেছিলো ছেলেকে মানুষের মত মানুষ করে গড়ে তোলার জন্য । আমার ছেলে এই সাফল্যে আমার অনেক খুশি লাগছে।

তার ছোট বোন স্বপ্ন জানান, এইচএসসি পাশ করার আমার ভাই রাজশাহী যাবে পড়তে। তখন আমরা নিষেধ করি আমরা গরীব মানুষ এত টাকা কোথায় পাবো যেতে হবে না। তখন আমার ভাই বলেছিলো দিদি রাজশাহী ইনভারসিটিতে পড়লে আমার টাকা লাগবে না। প্রথমবার যে চান্স না পাওয়া রাজশাহীতে থেকে গিয়ে প্রাইভেট পড়ায় পরের বছর চান্স পাই। কতো দিন আমরা পান্তা ভাত খেয়ে দিন পার করেছি। আজ আমার ভাই জজ হয়ছে অনেক খুশি লাগছে।

তুরি জনগোষ্ঠীর মধ্যে কাজল পাঁড়েই প্রথম বিশ্ববিদ্যালয়ে মেধাতালিকায় ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থী বলে জানান জাতীয় আদিবাসী পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সম্পাদক বিভূতিভূষণ মাহাতো। তিনি বলেন, উত্তরবঙ্গের আদিবাসীদের মধ্যেও কাজলই প্রথম জুডিশিয়ারিতে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন।

দারিদ্র্যের কারণে কাজলের পথ সহজ ছিল না। পড়াশোনার পাশাপাশি টিউশনি করে নিজের খরচ চালিয়েছেন, পরিবারকেও সহায়তা করেছেন। সেই সংগ্রাম পেরিয়ে বিচারক হওয়ার স্বপ্ন পূরণে এখন আনন্দিত তাঁর পরিবারসহ মাধাই গ্রামের মানুষ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের প্রয়োজন নেই: ইসি সানাউল্লাহ রহমড আরিফ ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের প্রয়োজন হবে না বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত ভোটের পরিবেশ অত্যন্ত সুন্দর রয়েছে। আগামী ২৯ অক্টোবর একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকাল ১১টায় ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সভাকক্ষে উপনির্বাচন উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেল, ভিজিল্যান্স ও অবজারভেশন টিম এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি। নির্বাচনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে ইসি সানাউল্লাহ বলেন, ‘আমরা এখন পর্যন্ত সেনাবাহিনী মোতায়েনের কথা চিন্তা করছি না। কারণ, জাতীয় নির্বাচনের চেয়েও প্রায় তিন গুণ বেশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে। ফলে অতিরিক্ত নিরাপত্তার প্রয়োজন রয়েছে বলে আমরা মনে করি না। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ভোটকেন্দ্রগুলোতে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে এবং এর ফুটেজ সংরক্ষণ করা হবে, যাতে কেউ অসৎ উদ্দেশ্যে কোনো সুবিধা নিতে না পারে। পাশাপাশি পুলিশ, বিজিবি, র‍্যাব ও আনসার সদস্যদের কাছে বডি-ওর্ন ক্যামেরা এবং ড্রোনের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক নজরদারি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি রয়েছে। নির্বাচনি অভিযোগের বিষয়ে তিনি জানান, অনিয়ম প্রতিরোধ ও অভিযোগ নিষ্পত্তিতে ‘ইলেকটোরাল ইনকোয়ারি অ্যান্ড অ্যাডজুডিকেশন কমিটি’ কাজ করছে। এ ছাড়া মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করছেন বিচারক ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা। ইতোমধ্যে পাওয়া তিনটি অভিযোগের মধ্যে একটি নিষ্পত্তি হয়েছে এবং বাকি দুটি তদন্তাধীন রয়েছে। সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। এতে সভাপতিত্ব করেন ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম। মতবিনিময় সভায় উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, নির্বাচনি পরিবেশ বজায় রাখা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদারের বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

amazing-link-zeus.ca