• রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:২৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম
আত্রাইয়ে জাতীয় যুব দিবসে ১৪ লাখ টাকার ঋণ, পেলেন কারা? শীতের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত আত্রাইয়ের লেপ-তোষক কারিগররা, বেড়েছে দাম ৪৭ বছর বয়সে এইচএসসি পাস, জিপিএ ৪.৬৩ পেলেন ইউপি সদস্য সোমবার থেকে ব্যাটারিচালিত রিকশা নিবন্ধন শুরু, চলবে ৮ জোনে ৮ রঙের গাড়ি ঘরে বসেই বাইকের ট্যাক্স টোকেন নবায়ন করবেন যেভাবে জমি খারিজ করতে কত টাকা লাগে? সরকারি ফি, অনলাইন আবেদন ও নামজারির নিয়ম জানুন যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল হামলা চালালে ভৌগোলিক সীমা ছাড়াই পাল্টা জবাবের নির্দেশ খামেনির ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’, ৩ নভেম্বর আঘাত হানতে পারে অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে ক্লাস্টার ওয়ারহেডের পরীক্ষা চালাল উত্তর কোরিয়া, ১৩ হেক্টরজুড়ে ধ্বংসক্ষমতার দাবি পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের সাড়ে ৯ হাজার স্থাপনা উচ্ছেদের নোটিশ ইসরাইলের

জন্ম নিবন্ধন যাচাই ১৭ ডিজিট দিয়ে অনলাইন কপি দেখার নিয়ম

Reporter Name / ২৮ Time View
Update : রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬

জন্ম নিবন্ধন বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের গুরুত্বপূর্ণ একটি সরকারি পরিচয়পত্র। শিশুর স্কুলে ভর্তি, পাসপোর্ট তৈরি, জাতীয় পরিচয়পত্রের আবেদন, বিবাহ নিবন্ধন, সরকারি বিভিন্ন সেবা গ্রহণসহ নাগরিক জীবনের নানা কাজে জন্ম নিবন্ধন সনদের প্রয়োজন হয়। তাই নিজের কিংবা সন্তানের জন্ম নিবন্ধন সঠিকভাবে নিবন্ধিত হয়েছে কি না এবং সরকারি অনলাইন ডাটাবেজে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে কি না, তা যাচাই করে রাখা জরুরি।

বর্তমানে জন্ম নিবন্ধন সনদের প্রয়োজনীয়তা বাড়ার পাশাপাশি জাল সনদ, তথ্যের ভুল, অনলাইনে তথ্য না পাওয়া এবং পুরোনো হাতে লেখা সনদ ডিজিটাল ডাটাবেজে অন্তর্ভুক্ত না থাকার মতো সমস্যাও দেখা যায়। অনেকের হাতে জন্ম নিবন্ধনের কাগজ থাকলেও সরকারি ওয়েবসাইটে নম্বর দিয়ে অনুসন্ধান করলে কোনো তথ্য পাওয়া যায় না। আবার কারও জন্ম নিবন্ধনে নাম, জন্মতারিখ, বাবা-মায়ের নাম কিংবা ঠিকানায় ভুল থাকতে পারে। এসব সমস্যা আগে থেকে শনাক্ত করতে অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।

অনেকেই গুগলে ‘জন্ম নিবন্ধন যাচাই’, ‘জন্ম নিবন্ধন যাচাই ১৭ ডিজিট’, ‘জন্ম নিবন্ধন অনলাইন কপি’, ‘আমার জন্ম নিবন্ধন দেখব’ কিংবা ‘সন্তানের জন্ম নিবন্ধন চেক’ লিখে অনুসন্ধান করেন। তাদের জন্য এই প্রতিবেদনে সরকারি ওয়েবসাইট ব্যবহার করে মোবাইল বা কম্পিউটারের মাধ্যমে জন্ম নিবন্ধন যাচাই করার নিয়ম, প্রয়োজনীয় তথ্য, ফলাফল বোঝার উপায় এবং অনলাইনে তথ্য না পাওয়া গেলে করণীয় বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, জন্ম নিবন্ধন যাচাই করতে সাধারণত ১৭ সংখ্যার জন্ম নিবন্ধন নম্বর এবং জন্মতারিখ প্রয়োজন হয়। শুধু নাম দিয়ে সরকারি কেন্দ্রীয় যাচাই পোর্টালে জন্ম নিবন্ধনের তথ্য অনুসন্ধান করা যায় না। তাই যাচাই করার আগে আপনার জন্ম নিবন্ধন নম্বরটি সংগ্রহে রাখুন।

জন্ম নিবন্ধন যাচাই করার সরকারি ওয়েবসাইট কোনটি?

বাংলাদেশে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের তথ্য যাচাইয়ের জন্য রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের সরকারি ই-ভেরিফিকেশন ওয়েবসাইট রয়েছে। এই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ১৭ সংখ্যার জন্ম নিবন্ধন নম্বর ও জন্মতারিখ দিয়ে নিবন্ধনের তথ্য অনুসন্ধান করা যায়।

জন্ম নিবন্ধন যাচাইয়ের সরকারি ওয়েবসাইট:

https://everify.bdris.gov.bd/

এটি জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন সংক্রান্ত সরকারি ব্যবস্থার অংশ। ওয়েবসাইটে প্রবেশ করলে জন্ম নিবন্ধন নম্বর, জন্মতারিখ এবং একটি ক্যাপচা বা নিরাপত্তা যাচাইয়ের ঘর দেখা যায়। প্রয়োজনীয় তথ্য সঠিকভাবে পূরণ করে Search বাটনে ক্লিক করলে ডাটাবেজে থাকা নিবন্ধনের তথ্য প্রদর্শিত হয়।

একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি, জন্ম নিবন্ধন যাচাইয়ের ওয়েবসাইট এবং নতুন জন্ম নিবন্ধনের আবেদন করার ওয়েবসাইট এক নয়। নতুন নিবন্ধনের আবেদন, তথ্য সংশোধন, আবেদনপত্র প্রিন্ট বা সনদ পুনর্মুদ্রণের মতো সেবার জন্য জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন তথ্য ব্যবস্থার মূল পোর্টাল ব্যবহার করতে হয়। যাচাইয়ের জন্য সরাসরি সরকারি ই-ভেরিফিকেশন ঠিকানায় প্রবেশ করাই সহজ উপায়।

জন্ম নিবন্ধন যাচাই করতে কী কী প্রয়োজন?

অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন যাচাই করার জন্য খুব বেশি তথ্যের প্রয়োজন হয় না। সাধারণত দুটি প্রধান তথ্য এবং ওয়েবসাইটের নিরাপত্তা যাচাই সম্পন্ন করতে হয়।

প্রথমত, প্রয়োজন হবে ১৭ সংখ্যার জন্ম নিবন্ধন নম্বর। এটি আপনার নিজের বা সন্তানের জন্ম নিবন্ধন সনদে লেখা থাকে। নম্বরটি একাধিকবার মিলিয়ে নিন, কারণ একটি সংখ্যা ভুল হলেও অনুসন্ধানে সঠিক ফলাফল নাও আসতে পারে।

দ্বিতীয়ত, প্রয়োজন হবে নিবন্ধিত ব্যক্তির জন্মতারিখ। সনদে যে জন্মতারিখ লেখা আছে, সেটিই ব্যবহার করতে হবে। জন্মতারিখ লেখার সময় ওয়েবসাইটে নির্ধারিত ফরম্যাট অনুসরণ করতে হবে।

তৃতীয়ত, ওয়েবসাইটে প্রদর্শিত ক্যাপচা বা ছোট গাণিতিক প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। এটি মূলত স্বয়ংক্রিয় বট বা অননুমোদিত অনুসন্ধান ঠেকানোর নিরাপত্তাব্যবস্থা।

যাচাইয়ের আগে জন্ম নিবন্ধন নম্বর ও জন্মতারিখ সনদ থেকে দেখে লিখুন। অনুমান করে কোনো সংখ্যা বা তারিখ লিখবেন না।

মোবাইল দিয়ে জন্ম নিবন্ধন যাচাই করার নিয়ম

আপনার কাছে কম্পিউটার না থাকলেও কোনো সমস্যা নেই। অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল, আইফোন কিংবা ইন্টারনেট ব্রাউজার ব্যবহার করা যায় এমন যেকোনো স্মার্টফোন দিয়ে জন্ম নিবন্ধন যাচাই করতে পারবেন। এজন্য আলাদা কোনো অ্যাপ ইনস্টল করার প্রয়োজন নেই। মোবাইলের ব্রাউজার ব্যবহার করেই সরকারি ওয়েবসাইটে প্রবেশ করা যায়।

প্রথমে মোবাইলের Google Chrome, Safari অথবা অন্য কোনো ইন্টারনেট ব্রাউজার খুলুন। এরপর ঠিকানার ঘরে everify.bdris.gov.bd লিখে প্রবেশ করুন। খেয়াল রাখবেন, ঠিকানাটি যেন সরকারি .gov.bd ডোমেইনের হয়। নামের সঙ্গে মিল আছে এমন অপরিচিত ওয়েবসাইটে ব্যক্তিগত জন্ম নিবন্ধন নম্বর বা জন্মতারিখ দেবেন না।

ওয়েবসাইটে প্রবেশ করলে জন্ম নিবন্ধন যাচাইয়ের একটি ফরম দেখতে পাবেন। সেখানে প্রথম ঘরে ১৭ সংখ্যার Birth Registration Number লিখুন। নম্বরটি সনদে যেভাবে আছে, সেভাবেই লিখুন। কোনো সংখ্যা বাদ পড়েছে কি না, তা আবার পরীক্ষা করুন।

এরপর Date of Birth ঘরে জন্মতারিখ লিখুন। এখানে সাধারণত YYYY-MM-DD ফরম্যাট ব্যবহার করতে হয়। অর্থাৎ প্রথমে বছর, এরপর মাস এবং সবশেষে দিন লিখতে হবে।

উদাহরণ হিসেবে, কোনো ব্যক্তির জন্মতারিখ যদি ১৫ সেপ্টেম্বর ১৯৮৬ হয়, তাহলে লিখতে হবে:

1986-09-15

এটি শুধু তারিখ লেখার ফরম্যাট বোঝানোর উদাহরণ। নিজের জন্মতারিখ অবশ্যই নিজের সনদ অনুযায়ী লিখবেন।

এরপর ওয়েবসাইটে প্রদর্শিত ক্যাপচা বা গাণিতিক প্রশ্নের উত্তর দিন। সব তথ্য ঠিকভাবে পূরণ হলে Search বাটনে ক্লিক করুন।

কয়েক মুহূর্তের মধ্যে সরকারি ডাটাবেজে আপনার দেওয়া জন্ম নিবন্ধন নম্বর ও জন্মতারিখের সঙ্গে মিল থাকা তথ্য প্রদর্শিত হতে পারে। তথ্য পাওয়া গেলে সেটি ভালোভাবে পরীক্ষা করুন। নাম, জন্মতারিখ, জন্ম নিবন্ধন নম্বর, বাবা-মায়ের নাম এবং অন্যান্য প্রদর্শিত তথ্য আপনার সনদের সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন।

কম্পিউটার বা ল্যাপটপ দিয়ে জন্ম নিবন্ধন চেক করার নিয়ম

কম্পিউটার বা ল্যাপটপ দিয়ে জন্ম নিবন্ধন যাচাই করার পদ্ধতিও প্রায় একই। প্রথমে যেকোনো ব্রাউজার খুলে সরকারি ই-ভেরিফিকেশন ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন। এরপর জন্ম নিবন্ধন নম্বর ও জন্মতারিখ নির্ধারিত ঘরে লিখুন।

জন্ম নিবন্ধন নম্বর দেওয়ার সময় ১৭টি সংখ্যা ঠিক আছে কি না, তা নিশ্চিত করুন। এরপর জন্মতারিখ বছর-মাস-দিন ফরম্যাটে লিখুন। ক্যাপচা পূরণ করে Search বাটনে ক্লিক করুন।

সব তথ্য সঠিক হলে নিবন্ধনের রেকর্ড দেখা যাবে। কম্পিউটারে ফলাফল প্রদর্শিত হলে প্রয়োজনে পৃষ্ঠাটি প্রিন্ট করতে পারেন অথবা নিজের ব্যবহারের জন্য সংরক্ষণ করতে পারেন। তবে মনে রাখতে হবে, অনলাইন যাচাইয়ের ফলাফল বা প্রিন্ট করা কপি সব ধরনের কাজে মূল জন্ম নিবন্ধন সনদের বিকল্প নয়। কোনো প্রতিষ্ঠান মূল বা নির্ধারিত ফরম্যাটের সনদ চাইলে তাদের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।

জন্ম নিবন্ধন যাচাই করলে কী কী তথ্য দেখা যায়?

সরকারি ডাটাবেজে জন্ম নিবন্ধনের রেকর্ড পাওয়া গেলে যাচাইয়ের ফলাফলে নিবন্ধিত ব্যক্তির বিভিন্ন তথ্য প্রদর্শিত হতে পারে। সাধারণত সেখানে জন্ম নিবন্ধন নম্বর, জন্মতারিখ, নিবন্ধিত ব্যক্তির নাম, জন্মস্থান, নিবন্ধন অফিস, নিবন্ধনের তারিখ এবং বাবা-মায়ের নামের মতো তথ্য দেখা যায়।

কিছু রেকর্ডে বাংলা ও ইংরেজি—দুই ভাষাতেই তথ্য প্রদর্শিত হয়। তবে পুরোনো রেকর্ড বা তথ্যের অবস্থার কারণে সব ক্ষেত্রে একইভাবে তথ্য দেখা যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।

যাচাইয়ের ফলাফল দেখার পর শুধু নাম ও জন্মতারিখ মিলিয়ে থেমে যাবেন না। বরং কয়েকটি বিষয় ভালোভাবে পরীক্ষা করুন।

প্রথমে জন্ম নিবন্ধন নম্বরটি আপনার কাগজের সনদের নম্বরের সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন। এরপর জন্মতারিখ ঠিক আছে কি না যাচাই করুন। নিবন্ধিত ব্যক্তির নামের বাংলা ও ইংরেজি বানান পরীক্ষা করুন। বাবা ও মায়ের নাম সঠিকভাবে লেখা আছে কি না দেখুন। জন্মস্থান এবং নিবন্ধন অফিসের তথ্যও মিলিয়ে নিতে পারেন।

কোনো তথ্য ভুল থাকলে সেটি উপেক্ষা করবেন না। বিশেষ করে নামের বানান, জন্মতারিখ কিংবা বাবা-মায়ের নামের ভুল ভবিষ্যতে পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র বা অন্যান্য সরকারি সেবা গ্রহণের সময় সমস্যার কারণ হতে পারে।

শুধু নাম দিয়ে কি জন্ম নিবন্ধন যাচাই করা যায়?

অনেকেই জানতে চান, জন্ম নিবন্ধন নম্বর জানা না থাকলে শুধু নাম লিখে অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন বের করা যাবে কি না। সরকারি কেন্দ্রীয় ই-ভেরিফিকেশন পোর্টালের সাধারণ অনুসন্ধান পদ্ধতিতে শুধু নাম দিয়ে জন্ম নিবন্ধন যাচাই করার সুযোগ নেই।

এখানে জন্ম নিবন্ধন নম্বর ও জন্মতারিখ দিয়ে অনুসন্ধান করতে হয়। কারণ একই নামে অনেক ব্যক্তি থাকতে পারেন। শুধু নাম দিয়ে অনুসন্ধান করলে একই নামের একাধিক ব্যক্তির তথ্যের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

তাই জন্ম নিবন্ধন নম্বর জানা না থাকলে প্রথমে নিজের পুরোনো সনদ, ফটোকপি, স্ক্যান করা ছবি কিংবা পরিবারের সংরক্ষিত কাগজপত্র খুঁজে দেখুন। নম্বরটি কোথাও পাওয়া না গেলে যে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি করপোরেশন থেকে জন্ম নিবন্ধন করা হয়েছিল, সেই নিবন্ধক কার্যালয়ে যোগাযোগ করুন। পরিচয় ও প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করে তারা রেকর্ড খুঁজে পেতে সহায়তা করতে পারে।

১৭ সংখ্যার জন্ম নিবন্ধন নম্বর না থাকলে কী করবেন?

আগে অনেক জন্ম নিবন্ধন হাতে লেখা রেজিস্টার বইয়ে সংরক্ষণ করা হতো। তখনকার কিছু সনদের নম্বর বর্তমান অনলাইন ব্যবস্থার ১৭ সংখ্যার নম্বরের সঙ্গে সরাসরি মেলে না। আবার কিছু পুরোনো সনদের তথ্য অনলাইন ডাটাবেজে অন্তর্ভুক্ত বা হালনাগাদ না-ও থাকতে পারে।

এ কারণে পুরোনো জন্ম নিবন্ধন হাতে থাকলেও সরকারি ওয়েবসাইটে যাচাই করতে সমস্যা হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে নিজে থেকে নতুন জন্ম নিবন্ধনের আবেদন করে বসবেন না। কারণ একই ব্যক্তির একাধিক জন্ম নিবন্ধন তৈরি হলে ভবিষ্যতে আরও জটিলতা তৈরি হতে পারে।

প্রথমে যে স্থানীয় নিবন্ধক কার্যালয় থেকে জন্ম নিবন্ধনটি করা হয়েছিল, সেখানে যোগাযোগ করুন। ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন শাখায় পুরোনো সনদ নিয়ে যান। তাদের কাছে জানতে চান, পুরোনো রেজিস্টারের তথ্য বর্তমান অনলাইন ডাটাবেজে অন্তর্ভুক্ত আছে কি না এবং থাকলে বর্তমান ১৭ সংখ্যার নম্বর কীভাবে পাওয়া যাবে।

প্রয়োজনে পুরোনো সনদ, নিবন্ধিত ব্যক্তির পরিচয়সংক্রান্ত কাগজপত্র এবং নিবন্ধনের অন্যান্য প্রমাণ জমা দিতে হতে পারে। কোন নথি লাগবে, তা সংশ্লিষ্ট নিবন্ধক কার্যালয় থেকে নিশ্চিত করুন।

জন্ম নিবন্ধন নম্বর ও জন্মতারিখ সঠিক দেওয়ার পরও তথ্য না এলে কী করবেন?

অনেক সময় ১৭ সংখ্যার জন্ম নিবন্ধন নম্বর এবং জন্মতারিখ সঠিকভাবে দেওয়ার পরও ওয়েবসাইটে কোনো তথ্য পাওয়া যায় না। এ ধরনের পরিস্থিতিতে সঙ্গে সঙ্গে ধরে নেওয়া ঠিক নয় যে জন্ম নিবন্ধনটি জাল বা বাতিল।

প্রথমে নম্বরটি আবার পরীক্ষা করুন। ১৭ সংখ্যার মধ্যে কোনো সংখ্যা বাদ পড়েছে কি না, একটি সংখ্যার জায়গায় অন্য সংখ্যা লেখা হয়েছে কি না, তা দেখুন। এরপর জন্মতারিখ যাচাই করুন। সনদে লেখা তারিখ এবং অনলাইনে দেওয়া তারিখের মধ্যে পার্থক্য থাকলে রেকর্ড পাওয়া নাও যেতে পারে।

সব তথ্য সঠিক থাকলেও ফলাফল না এলে কয়েকটি কারণ থাকতে পারে। যেমন, পুরোনো জন্ম নিবন্ধনের তথ্য অনলাইন ডাটাবেজে স্থানান্তর না হওয়া, তথ্য হালনাগাদ না থাকা, রেকর্ডে ভুল থাকা কিংবা সরকারি ওয়েবসাইটে সাময়িক প্রযুক্তিগত সমস্যা।

এ ক্ষেত্রে কিছু সময় পর আবার চেষ্টা করুন। অন্য ব্রাউজার ব্যবহার করে বা ইন্টারনেট সংযোগ পরিবর্তন করে দেখতে পারেন। তারপরও ফলাফল না পেলে সংশ্লিষ্ট নিবন্ধক কার্যালয়ে যোগাযোগ করুন। সঙ্গে মূল সনদ বা তার কপি এবং পরিচয়সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র রাখুন।

জন্ম নিবন্ধন অনলাইনে না থাকলে কি সেটি জাল?

না। সরকারি ওয়েবসাইটে তথ্য না পাওয়া মানেই জন্ম নিবন্ধন জাল—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়।

বিশেষ করে পুরোনো হাতে লেখা জন্ম নিবন্ধনের ক্ষেত্রে অনলাইন ডাটাবেজে তথ্য না থাকার সম্ভাবনা থাকতে পারে। আবার নম্বর বা জন্মতারিখে সামান্য ভুল থাকলেও অনুসন্ধানের ফলাফল পাওয়া যায় না। তাই প্রথমে তথ্যগুলো যাচাই করতে হবে এবং প্রয়োজনে নিবন্ধক কার্যালয়ের মাধ্যমে রেকর্ড পরীক্ষা করতে হবে।

অন্যদিকে, কোনো সনদ দেখতে আসল মনে হলেই সেটি বৈধ বা সরকারি ডাটাবেজে নিবন্ধিত—এমন নিশ্চয়তাও নেই। সনদের সত্যতা নিশ্চিত করতে সরকারি ব্যবস্থায় রেকর্ড যাচাই করা এবং প্রয়োজনে নিবন্ধক কার্যালয়ের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া উচিত।

জন্ম নিবন্ধনের বিষয়ে সন্দেহ থাকলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট, অপরিচিত ওয়েবসাইট কিংবা অননুমোদিত ব্যক্তির বক্তব্যের ওপর নির্ভর করবেন না। সরকারি যাচাইব্যবস্থা ও সংশ্লিষ্ট নিবন্ধক কার্যালয়ের তথ্যকেই গুরুত্ব দিন।

জন্ম নিবন্ধনের তথ্য ভুল থাকলে কী করবেন?

অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন যাচাই করার সময় যদি নিজের বা সন্তানের নাম, জন্মতারিখ, বাবা-মায়ের নাম কিংবা অন্য কোনো তথ্য ভুল দেখতে পান, তাহলে সেটি সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া উচিত।

প্রথমে ভুল তথ্যটি ভালোভাবে শনাক্ত করুন। এরপর সঠিক তথ্যের পক্ষে কী কী প্রমাণক রয়েছে, তা সংগ্রহ করুন। যেমন, নামের বানান সংশোধনের ক্ষেত্রে শিক্ষাগত সনদ বা অন্যান্য গ্রহণযোগ্য প্রমাণক প্রয়োজন হতে পারে। জন্মতারিখ সংশোধনের ক্ষেত্রে বয়স ও জন্মতারিখের সমর্থনে প্রযোজ্য নথি লাগতে পারে। বাবা-মায়ের নাম সংশোধনের ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট পরিচয়পত্র বা জন্ম নিবন্ধনের তথ্য প্রয়োজন হতে পারে।

জন্ম নিবন্ধন সংশোধনের আবেদন করার জন্য সরকারি BDRIS পোর্টালে নির্ধারিত সেবা রয়েছে। সেখানে জন্ম নিবন্ধন তথ্য সংশোধনের আবেদন করা যায়। তবে কী ধরনের ভুল, কতবার সংশোধন করা হয়েছে এবং কোন প্রমাণক প্রয়োজন—এসব বিষয় অনুযায়ী প্রক্রিয়া ভিন্ন হতে পারে।

সংশোধনের আবেদন করার আগে ভুল তথ্য ও প্রস্তাবিত সঠিক তথ্য ভালোভাবে মিলিয়ে নিন। শুধু বানান ঠিক করার জন্য ভুল করে জন্মতারিখ বা অন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিবর্তনের আবেদন করবেন না। কোনো তথ্য সংশোধনের জন্য অতিরিক্ত কাগজপত্র প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট নিবন্ধক কার্যালয়ের নির্দেশনা অনুসরণ করুন।

বাংলা ও ইংরেজি জন্ম নিবন্ধনের তথ্য কীভাবে যাচাই করবেন?

বর্তমানে জন্ম নিবন্ধনের তথ্য বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভাষায় সঠিক থাকা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে পাসপোর্ট, বিদেশে পড়াশোনা, চাকরি, ভিসা কিংবা অন্যান্য আন্তর্জাতিক কাজে ইংরেজি নাম ও জন্মতারিখের বানান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

অনলাইনে যাচাই করার সময় যদি বাংলা ও ইংরেজি—দুই ভাষার তথ্য দেখা যায়, তাহলে উভয় অংশ মিলিয়ে দেখুন। নিজের নাম, বাবা-মায়ের নাম এবং অন্যান্য তথ্যের ইংরেজি বানান পাসপোর্ট বা অন্যান্য পরিচয়পত্রে ব্যবহৃত বানানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না পরীক্ষা করুন।

তবে সব পুরোনো জন্ম নিবন্ধনে ইংরেজি তথ্য একইভাবে সংরক্ষিত নাও থাকতে পারে। কোনো রেকর্ডে ইংরেজি তথ্য অনুপস্থিত থাকলে বা ভুল থাকলে সংশ্লিষ্ট নিবন্ধক কার্যালয়ে যোগাযোগ করে কীভাবে তথ্য হালনাগাদ করতে হবে, তা জেনে নিন।

বাংলা থেকে ইংরেজি করার ক্ষেত্রে নিজের ইচ্ছামতো বানান লিখে আবেদন করলেই তা অনুমোদিত হবে, এমন নয়। প্রয়োজনীয় প্রমাণক ও নিবন্ধকের যাচাই অনুযায়ী তথ্য সংশোধন বা সংযোজন করতে হয়।

জন্ম নিবন্ধনের অনলাইন কপি কীভাবে পাবেন?

জন্ম নিবন্ধন যাচাই এবং জন্ম নিবন্ধনের সনদের অনলাইন কপি সংগ্রহ—দুটি আলাদা বিষয়। সরকারি যাচাই পোর্টালে আপনার তথ্য দেখা গেলে বুঝতে পারবেন সংশ্লিষ্ট রেকর্ডটি ডাটাবেজে পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু যাচাইয়ের ফলাফল দেখা গেলেই সব ক্ষেত্রে সেখান থেকে মূল সনদের মতো একটি ডাউনলোডযোগ্য কপি পাওয়া যাবে, এমন নয়।

জন্ম নিবন্ধনের সনদ পুনর্মুদ্রণ বা সংশ্লিষ্ট আবেদনসংক্রান্ত সেবা পেতে সরকারি BDRIS পোর্টালের নির্ধারিত অপশন ব্যবহার করতে হয়। মূল পোর্টালে জন্ম নিবন্ধন সনদ পুনর্মুদ্রণ, আবেদনপত্র প্রিন্ট, আবেদন অবস্থা এবং তথ্য সংশোধনের মতো সেবা রয়েছে।

সনদের কপি প্রয়োজন হলে প্রথমে সরকারি পোর্টালে প্রবেশ করে সংশ্লিষ্ট সেবাটি নির্বাচন করুন। এরপর পোর্টালের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় তথ্য দিন। কোনো ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নিবন্ধক কার্যালয়ের মাধ্যমে সনদ সংগ্রহ করতে হতে পারে। তাই যাচাইয়ের ফলাফলকে সরাসরি সব ধরনের কাজে ব্যবহারযোগ্য মূল সনদ মনে করবেন না।

সন্তানের জন্ম নিবন্ধন যাচাই করবেন যেভাবে

শুধু নিজের নয়, সন্তানের জন্ম নিবন্ধনও অনলাইনে যাচাই করে রাখা উচিত। শিশুর স্কুলে ভর্তি, পাসপোর্ট তৈরি কিংবা ভবিষ্যতের বিভিন্ন সরকারি কাজে জন্ম নিবন্ধনের তথ্য প্রয়োজন হতে পারে। তাই সন্তানের জন্ম নিবন্ধন হাতে পাওয়ার পরই অনলাইনে তথ্য মিলিয়ে দেখা ভালো।

প্রথমে সন্তানের জন্ম নিবন্ধন সনদ থেকে ১৭ সংখ্যার নম্বরটি সংগ্রহ করুন। এরপর জন্মতারিখটি সনদ অনুযায়ী লিখে রাখুন। মোবাইলের ব্রাউজার থেকে সরকারি ই-ভেরিফিকেশন ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে নম্বর ও জন্মতারিখ দিয়ে অনুসন্ধান করুন।

ফলাফল পাওয়া গেলে সন্তানের নামের বাংলা ও ইংরেজি বানান, জন্মতারিখ, বাবা-মায়ের নাম এবং জন্মস্থান ভালোভাবে পরীক্ষা করুন। কোনো ভুল থাকলে ছোটবেলাতেই সংশোধনের উদ্যোগ নিন। কারণ শিশু বড় হওয়ার পর স্কুলের নথি, পাসপোর্ট কিংবা অন্যান্য পরিচয়পত্রের সঙ্গে জন্ম নিবন্ধনের তথ্যের অমিল তৈরি হলে সংশোধন প্রক্রিয়া আরও জটিল মনে হতে পারে।

সন্তানের জন্ম নিবন্ধন নম্বর ও জন্মতারিখ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করবেন না। এগুলো ব্যক্তিগত পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য। প্রয়োজন ছাড়া অপরিচিত ব্যক্তি বা ওয়েবসাইটে এসব তথ্য দেওয়া থেকেও বিরত থাকুন।

জন্ম নিবন্ধন যাচাই করতে কি কোনো ফি লাগে?

সরকারি ই-ভেরিফিকেশন পোর্টালে জন্ম নিবন্ধনের তথ্য অনুসন্ধানের জন্য আলাদা কোনো আবেদন ফরম পূরণ বা অর্থ জমা দেওয়ার ধাপ নেই। সেখানে ১৭ সংখ্যার নম্বর, জন্মতারিখ এবং ক্যাপচা দিয়ে অনুসন্ধান করা হয়।

তবে জন্ম নিবন্ধনের তথ্য সংশোধন, নতুন নিবন্ধন, সনদ পুনর্মুদ্রণ কিংবা অন্য কোনো সেবা নিতে হলে সংশ্লিষ্ট সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ফি প্রযোজ্য হতে পারে। তাই শুধু অনলাইনে তথ্য যাচাই এবং অন্য কোনো নিবন্ধন সেবা গ্রহণের খরচকে এক বিষয় মনে করবেন না।

কেউ যদি জন্ম নিবন্ধন যাচাই করে দেওয়ার নামে অপ্রয়োজনীয় টাকা দাবি করে, তাহলে আগে সরকারি ওয়েবসাইটে নিজে চেষ্টা করুন। জটিলতা থাকলে সংশ্লিষ্ট নিবন্ধক কার্যালয়ে যোগাযোগ করুন।

জন্ম নিবন্ধন যাচাইয়ের সময় যেসব ভুল এড়িয়ে চলবেন

অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন যাচাই করার সময় কয়েকটি সাধারণ ভুলের কারণে অনেকেই ফলাফল পান না। প্রথমত, ১৭ সংখ্যার নম্বর লেখার সময় একটি সংখ্যা বাদ দেওয়া বা ভুল লেখা। দ্বিতীয়ত, জন্মতারিখ দিন-মাস-বছর ফরম্যাটে লিখে ফেলা, যেখানে ওয়েবসাইট বছর-মাস-দিন ফরম্যাট চায়। তৃতীয়ত, ক্যাপচা ভুল পূরণ করা। এসব কারণে অনুসন্ধান ব্যর্থ হতে পারে।

এ ছাড়া পুরোনো সনদের নম্বরকে বর্তমান ১৭ সংখ্যার নম্বর ভেবে ভুল করা, একই ব্যক্তির একাধিক নিবন্ধন তৈরি করা কিংবা তথ্য না পেয়ে অননুমোদিত ওয়েবসাইটে ব্যক্তিগত তথ্য দেওয়া থেকেও বিরত থাকতে হবে।

সবচেয়ে ভালো হলো, মূল সনদ সামনে রেখে ধীরে ধীরে তথ্য পূরণ করা। ফলাফল পাওয়া গেলে সেটি মূল সনদের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা এবং ভুল থাকলে সংশ্লিষ্ট নিবন্ধক কার্যালয়ে যোগাযোগ করা।

জন্ম নিবন্ধন যাচাই নিয়ে সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর

প্রশ্ন: জন্ম নিবন্ধন যাচাই করতে কত সংখ্যার নম্বর লাগে?

উত্তর: সরকারি ই-ভেরিফিকেশন পোর্টালে সাধারণত ১৭ সংখ্যার জন্ম নিবন্ধন নম্বর এবং জন্মতারিখ দিয়ে অনুসন্ধান করতে হয়।

প্রশ্ন: শুধু জন্মতারিখ দিয়ে কি জন্ম নিবন্ধন দেখা যায়?

উত্তর: না। সরকারি কেন্দ্রীয় যাচাই পোর্টালে শুধু জন্মতারিখ দিয়ে অনুসন্ধান করা যায় না। জন্ম নিবন্ধন নম্বরও প্রয়োজন।

প্রশ্ন: শুধু নাম দিয়ে কি জন্ম নিবন্ধন খুঁজে পাওয়া যাবে?

উত্তর: সরকারি ই-ভেরিফিকেশন পোর্টালের সাধারণ অনুসন্ধান পদ্ধতিতে শুধু নাম দিয়ে জন্ম নিবন্ধন খোঁজার সুবিধা নেই।

প্রশ্ন: মোবাইল দিয়ে কি জন্ম নিবন্ধন যাচাই করা যায়?

উত্তর: হ্যাঁ। মোবাইলের যেকোনো আধুনিক ব্রাউজার দিয়ে সরকারি ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে জন্ম নিবন্ধন যাচাই করা যায়।

প্রশ্ন: জন্ম নিবন্ধন যাচাইয়ের সরকারি ওয়েবসাইট কোনটি?

উত্তর: জন্ম নিবন্ধন যাচাইয়ের সরকারি ওয়েবসাইট হলো https://everify.bdris.gov.bd/।

প্রশ্ন: জন্ম নিবন্ধন নম্বর ও জন্মতারিখ ঠিক দেওয়ার পরও তথ্য না এলে কী করব?

উত্তর: প্রথমে নম্বর ও জন্মতারিখ আবার পরীক্ষা করুন। তারপরও তথ্য না এলে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি করপোরেশনের জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধক কার্যালয়ে যোগাযোগ করুন।

প্রশ্ন: পুরোনো হাতে লেখা জন্ম নিবন্ধন কি অনলাইনে যাচাই করা যায়?

উত্তর: পুরোনো সনদের তথ্য বর্তমান ডাটাবেজে অন্তর্ভুক্ত থাকলে যাচাই করা সম্ভব হতে পারে। তথ্য না পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট নিবন্ধক কার্যালয়ে পুরোনো সনদ নিয়ে যোগাযোগ করুন।

প্রশ্ন: জন্ম নিবন্ধনের অনলাইন যাচাই কপি কি মূল সনদের বিকল্প?

উত্তর: না। অনলাইনে যাচাইয়ের ফলাফল রেকর্ডের তথ্য নিশ্চিত করতে সহায়তা করে। কোনো প্রতিষ্ঠানে মূল বা নির্ধারিত সনদ প্রয়োজন হলে তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী সনদ সংগ্রহ করতে হবে।

প্রশ্ন: সন্তানের জন্ম নিবন্ধনও কি অনলাইনে যাচাই করা যায়?

উত্তর: হ্যাঁ। সন্তানের ১৭ সংখ্যার জন্ম নিবন্ধন নম্বর ও জন্মতারিখ দিয়ে একই সরকারি ওয়েবসাইটে যাচাই করা যায়।

প্রশ্ন: জন্ম নিবন্ধনে নাম বা জন্মতারিখ ভুল থাকলে কী করব?

উত্তর: ভুল তথ্যের পক্ষে প্রয়োজনীয় প্রমাণক সংগ্রহ করে সরকারি BDRIS পোর্টাল বা সংশ্লিষ্ট নিবন্ধক কার্যালয়ের মাধ্যমে সংশোধনের আবেদন করতে হবে।

শেষ কথা

জন্ম নিবন্ধন বাংলাদেশের নাগরিকদের গুরুত্বপূর্ণ পরিচয়সংক্রান্ত নথি। তাই নিজের কিংবা সন্তানের জন্ম নিবন্ধন সঠিকভাবে সরকারি ডাটাবেজে সংরক্ষিত আছে কি না, তা সময়মতো যাচাই করে রাখা উচিত। অনলাইনে যাচাই করার জন্য ১৭ সংখ্যার জন্ম নিবন্ধন নম্বর, জন্মতারিখ এবং ক্যাপচা পূরণ করলেই সরকারি পোর্টালে তথ্য অনুসন্ধান করা যায়।

তবে অনলাইনে তথ্য না পাওয়া মানেই সনদ জাল—এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না। পুরোনো নিবন্ধনের তথ্য অনলাইনে না থাকা, নম্বর বা জন্মতারিখে ভুল কিংবা সাময়িক সার্ভার সমস্যার কারণেও ফলাফল নাও আসতে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট নিবন্ধক কার্যালয়ে যোগাযোগ করাই সঠিক পদক্ষেপ।

সবশেষে, জন্ম নিবন্ধনের তথ্য যাচাই করার জন্য সব সময় সরকারি ওয়েবসাইট ব্যবহার করুন। ব্যক্তিগত জন্ম নিবন্ধন নম্বর ও জন্মতারিখ অপরিচিত ব্যক্তি বা অননুমোদিত ওয়েবসাইটে প্রকাশ করবেন না। নিজের এবং সন্তানের জন্ম নিবন্ধনের তথ্য সঠিক আছে কি না, তা আগে থেকেই নিশ্চিত করে রাখলে ভবিষ্যতে বিভিন্ন সরকারি সেবা গ্রহণের সময় অপ্রয়োজনীয় ভোগান্তি এড়ানো সম্ভব।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
amazing-link-zeus.ca