কালবৈশাখী ঝড়ে নরসিংদীতে বোরো ধানের স্বপ্ন ভঙ্গ

Sujon Sujon

Mahato

প্রকাশিত: ৬:৫১ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৫, ২০২১

নরসিংদী প্রতিবেদক : প্রতিকুল আবহাওয়া এবং গত রোবারের কাল বৈশাখী ঝড়ে নরসিংদীতে বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। ফলে কৃষকের ঘরে ধান তোলার স্বপ্ন স্বপ্নই রয়ে গেলো। সেই স্বপ্ন আর পুরণ হলোনা। এই ঝড়ো বাতাস যে জমির উপড় দিয়ে বয়ে গেছে সেখানেই ক্ষতির পরিমানটা বেশী হয়েছে।

আবার এ গরম বাতাসটি যেখান দিয়ে বয়ে গেছে সখানে ধানের গাছ ও ধানের থোকা সাদা হয়ে গেছে। ফলে গাছগুলো মারা গেছে। যারফলে কৃষকরা কিছুটা ক্ষতির মুখে পড়েছে। এমনই তথ্য জানিয়েছেন নরসিংদী কৃষি বিভাগ।

এরপাশাপাশি নরসিংদীর কিছু অঞ্চলে ছত্রাকজনিত ব্লাস্ট (ধানের গলাপচা) রোগেও ধানের মাঠ নস্ট হচ্ছে। চলতি বোরো মৌসুমে ধান বের হওয়ার শুরুতে এই সংক্রমণে কৃষকদের মাঝে হতাশা সৃষ্টি হচ্ছে। এই নিয়ে কৃষি বিভাগ রোগ প্রতিরোধে সঠিক মাত্রায় ছত্রাকনাশক ছিটানোসহ প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিলেও কৃষকের দুশ্চিন্তা যেনো কোনমতেই কাটছে না।

ধানের ফলন ভালো হলেও হঠাৎ দিনের বেলায় অত্যাধিক গরম এবং রাতে ঠান্ডা আবহাওয়ার কারণে এ রোগ ছড়িয়ে পড়ছে।এরমধ্যে আবার গত রোববার কালবৈশাখী ঝড়ে গরম হাওয়ায় ঝলছে গেছে মাঠের পর মাঠ। এতে করে কৃষকের স্বপ্ন মাঠে মারা যাওয়ার পথে।

গত বুধবার জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, অনেক জমির বোরো ধান সাদা হয়ে গেছে। ধানখেতগুলোতে আধা পাকা ধানের গোড়া পচে গিয়ে শিষ শুকিয়ে ভেতরে চিটা হয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় কৃষকেরা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি বোরো মৌসুমে নরসিংদী জেলায় এবার বোরো আবাদের লক্ষমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছি ৫৫ হাজার ৩১১ হেক্টর জমিতে। কিন্ত আবাদ হয়েছে ৫৫ হাজার ৩শত ২৪ হেক্টর জমিতে। ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২লাখ ২৯হাজার৯৯৭ মেট্রিক টন চাউল। এ মৌসুমে বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৮হাজার ১৮৩ হেক্টর জমির ফসল। সম্পূর্নরুপে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২৮১ হেক্টর জমির ধান।

মনোহরদী উপজেলার শুকুন্দী বালিয়াকান্দা গ্রামের কৃষক কেফায়েত উল্লাহ জানান, প্রথমে দু-একটি ধানের গোড়ায় পচন দেখা দিয়েছিল। পরে একের পর এক জমির ধানের গোড়ায় এই রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ওষুধ ছিটিয়ে কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলেও তা পুরোপুরি ঠেকানো যাচ্ছেনা।

আরেক কৃষক শফিকুল ইসলাম জানান, শুরুতে ফলন বেশ ভালো হয়েছিল। নিয়মিত জমিতে গিয়ে কোন রোগ দেখতে পাইনি। কিন্তু হঠাৎ একদিন দেখি, ধানের শিষ সাদা হয়ে যাচ্ছে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই পুরো জমিতে এ রোগ ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে অনেক ধান নষ্ট হয়ে গেছে। এ বিষয়ে স্থানীয় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার কাছ থেকে পরামর্শ নিয়েছিলেন। কিন্তু তেমন কোনো প্রতিকার হয়নি।

নরসিংদী সদর উপজেলার চরমাধবদী গ্রামের কৃষক মনির হোসেন মোল্লা জানান, রোববারের গরম বাতাস মিশ্রিত ঝড়ো হাওয়ায় ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। যারফলে কৃষকরা কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই এবিষয়ে সরকারের সহায়তা প্রয়োজন। নতুবা কৃষকরা পুনরায় ধান চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে।

ব্রি ২৯ ও হাইব্রিড জাতের ধানের বেশী ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া গত রোববারের কালবৈশাখী ঝড়ে ব্রি-২৮ ধানের তেমন ক্ষতি করেনি। কারণ এজাতের ধান নরসিংদীর অধিকাংশ অঞ্চলে কাটা শুরু হয়ে গেছে। এমনই তথ্য জানিয়েছেন নরসিংদী সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মহুয়া শারমিন মুন মুন।

অপরদিকে মনোহরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আয়েশা আক্তার জানান, ধান খেত হঠাৎ সাদা হয়ে যাওয়া এবং চিটা হওয়াটা কোন রোগ না। কয়েকদিন আগে হঠাৎ বয়ে যাওয়া গরম বাতাসের কারণে এই অবস্থা হয়েছে। তাছাড়া এখন দিনের বেলায় অত্যাধিক গরম, আর রাতে ঠান্ডা আবহাওয়ার কারণেও বোরো ধান নস্ট হয়ে যাচ্ছে।

তিনি আরো জানান, কিছু কিছু খেতে ব্লাস্ট রোগ দেখা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমি এবং উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা বিভিন্ন গ্রামে গ্রামে গিয়ে কৃষকদের ব্লাস্ট রোগ এবং প্রতিকুল আবহাওয়ার কারণে ধানের ক্ষতি থেকে রক্ষা পেতে পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি।

বোরহান মেহেদী
০১৮৬৫৬১০৭২০

Print Friendly, PDF & Email