• শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:৫৭ পূর্বাহ্ন

লকডাউনে বাড়ির সামনে পিটিয়ে কলেজ শিক্ষকের হাত ভেঙে দিলেন ম্যাজিস্ট্রেট

Reporter Name / ৯২৬ Time View
Update : শনিবার, ৩ জুলাই, ২০২১

লকডাউনে লাঠি নিয়ে নিজেই দারোগার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার এসি ল্যান্ড মাহমুদুল হাসান। পিটিয়ে এক কলেজ শিক্ষকের হাত ভেঙে দিয়েছেন তিনি। করোনা ও লকডাউনে কারণে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেলে কলেজ হাসপাতালেও যেতে পারছেন না। তার বাম হাতের অন্তত তিনটি হাড্ডি ভেঙে গেছে। ভাঙা হাত নিয়ে এখন বাড়িতেই কাতরাচ্ছেন ওই শিক্ষক। এসি ল্যান্ডের হামলার শিকার আব্দুল আজিজ পুঠিয়া উপজেলার সাধনপুর পঙ্গু ও শিশু নিকেতন ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক। বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিকদারী গ্রামে নিজ বাড়ির সামনেই এমন নির্মম পিটুনীর শিকার হন আব্দুল আজিজ। তবে এঘটনায় সর্বত্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়লে ইউএনও শুক্রবার দিনভর তার বাসায় গিয়ে ধর্না দিয়ে ক্ষমা চান।

আহত শিক্ষক আব্দুল আজিজ জানান, ডায়াবেটিসের কারণে তিনি প্রতিদিনই বিকেলে হাঁটাহাটি করেন। বৃহস্পতিবার বিকেলেও হাঁটার জন্য বাড়ির থেকে বেরিয়ে কেবল দরজার সামনেই সড়কে উঠেছেন। এসময় আচমকা পুলিশের গাড়ির সাইরেন শুনতে পান। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পাশেই শিকদারী বাজারের লোকজন দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে এসি ল্যান্ড মাহমুদুল হাসান লাঠি হাতে নিয়ে তাদের তাড়া করেন। কিন্তু তিনি দৌড়াতে গিয়ে চিৎপটাং হয়ে পড়ে যান। এ অবস্থা দেখে তিনি থমকে থাকেন কিছুক্ষণ। এরপর আবার হাঁটার চেষ্টা করলে এসি ল্যান্ড আজিজকে থামতে বলেন। এরপর দুয়েক কথা জিজ্ঞেস করলে কলেজের শিক্ষক পরিচয় পেয়েই আচমকা লাঠি দিয়ে পেটান। এতে তার বাম হাত রক্তাক্ত হয়ে যায়। এ অবস্থায় তাকে ফেলে রেখে চলে যায় ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশকে বহনকারী গাড়ি দুটি। পরে স্থানীয় ক্লিনিকে যান। সেখানে এক্সরে করার পর দেখা যায় আজিজের বাম হাতের অন্তত তিনটি হাড্ডি ভেঙে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।

এদিকে, এসিল্যান্ড মাহমুদুল হাসানে পেটানোর ঘটনা জানাজানি হলে চারিদিকে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও এটি ভাইরাল হয়। এরপর শুক্রবার সকালে বাগমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শরিফ আহমেদ আহত শিক্ষক আব্দুল আজিজের বাড়িতে যান। তিনি এঘটনার জন্য দুঃখপ্রকাশ কওে তার কাছে ক্ষমাও চান। কিন্তু আজিজ সমঝোতা করতে অস্বীকার করেন। এ পর্যায়ে চাপের মুখে আজিজ ইউএনও’র সাথে সমঝোতা করেন। পরে স্থানীয় জুমার নামাজের সময় মসজিদে গিয়ে গ্রামবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন ইউএনও।

এ বিষয়ে বাগমারা ইউএনও শরিফ আহমেদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথমে বলেন, ‘পুলিশের গাড়ির সাইরেন শুনে পালাতে গিয়ে পড়ে হাত ভেঙেছে আব্দুল আজিজের’। তবে এক পর্যায়ে ঘটনা হাত ভাঙার ঘটনা স্বীকার তিনি ‘পজিটিভ’ সংবাদ প্রকাশের অনুরোধ জানান।

বাগমারার এসিল্যান্ড মাহমুদুল হাসান এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘পালাতে গিয়েও আব্দুল আজিজের হাত ভেঙেছে। লাঠি দিয়ে তাকে পেটানোর প্রশ্নই ওঠে না। আমার সাথে যথেষ্ট পুলিশও ছিল’।

তবে বাগমারা থানার ওসি মোস্তাক আহমেদ বলেন, ‘এধরনের অভিযানে ম্যাজিস্ট্রেটরাই নেতৃত্বে থাকেন। তাদেও নির্দেশই চলে। আমাদের বলার কিছু থাকে না’।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
amazing-link-zeus.ca