• শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:০৫ পূর্বাহ্ন

সূর্যমুখী ফুলে হাসছে এক্সিম ব্যাংকের স্থায়ী চত্বর

Reporter Name / ৫৪৯ Time View
Update : শনিবার, ২ এপ্রিল, ২০২২

জারিফ হোসেন স্টাফ রিপোর্টার

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার আমনুরা রোডে সূর্যমুখী ফুলে আন্দোলিত হয়ে হাসছে এক্সিম ব্যাংক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়,বাংলাদেশের স্থায়ী চত্বর।চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সদর উপজেলার আমনুরা রোডে এক্সিম ব্যাংকের স্থায়ী চত্বরে সুর্যমূখী ফুলের হাসিতে আপ্লুত। সড়কের পাশে দুইটা জাত মিলে ২ বিঘা জমিতে সূর্যমুখী চাষ করা হয়েছে। এখানকার সূর্যমুখী ফুলের ছবি ফেসবুকে ভাইরাল হলে এরপর থেকে সেখানে উপচে পড়ছে মানুষের ভিড়। শহর থেকে প্রায়(১৩) কিলোমিটার দূরে হলেও দর্শনার্থীরা মাইক্রোবাস-কার,মোটরসাইকেলে করে ছুটে আসছেন। 

স্বামী-সন্তান নিয়ে ছবি তুলতে আসা গৃহবধূ ও এক্সিম ব্যাংক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়,বাংলাদেশের আইন বিভাগের ছাত্রী সুমাইয়া আলম ঐশী বললেন ফেসবুকে ফুলের দৃশ্য দেখে মুগ্ধ হয়ে ছবি তুলতে এসেছি।সাথে আমার এক মাএ কন্যা সন্তান রোদসী হক অর্থী এসেছে,আমার মেয়ে সূর্যমুখী ফুল খুব বেশি পছন্দ করে। তিনি আরো বলেন মাঠজুড়ে এমন সূর্যমুখী ফুল কখনো দেখিনি। স্মৃতির পাতায় ধরে রাখতে এখানে ছবি তুলতে এসেছি।

এক্সিম ব্যাংক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগ,কৃষি অনুষদের সিনিয়র লেকচারার মেহেদী হাসান সোহেল বলেন পরিক্ষা মূলক ভাবে বীজের জন্য অল্প পরিসরে সূর্যমুখীর চাষ করা হয়েছে। আগামীতে বড় পরিসরে চাষ করার পরিকল্পনা আছে সুধু তাই না আমি চাই চাঁপাইনবাবগঞ্জের কৃষক আমার সূর্যমুখী ফুলের চাষ দেখে এর সুযোগ সুবিধা বুঝবে এবং সূর্যমুখী চাষে উদ্বুদ্ধ হবে এটাই কাম্য।সূর্যমুখী ফুলের বৈজ্ঞানিক নাম Helianthus annuus।

তিনি বলেন,দেশে প্রতি বছর ২৮ হাজার কোটি টাকার সোয়াবিন তেল আমদানী করা হয়।তেলের আমদানী কমাতে সরকার এর চাষ বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে। তাতে করে অনেক বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে। সূর্যমুখীর গাছ জ্বালানীর কাজে ব্যবহার হয়, খৈল পশুখাদ্য তৈরীর কাঁচামাল।তাই সূর্যমুখী চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে।আগামীতে এর চাষ আরো কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাবে এ জন্য কৃষকদের উৎসাহ দিতে হবে।ভোজ্য তেলের আমদানি কমিয়ে দেশেই সয়াবিন, সূর্যমুখী, বাদামসহ বিভিন্ন তৈল বীজ উৎপাদন বাড়াতে একনেক সভায় প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন।’

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ অনুযায়ী জনাব মোঃ নজরুল ইসলাম মজুমদার সম্মানিত চেয়ারম্যান, বোর্ড অব ট্রাষ্টিজ, এক্সিম ব্যাংক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ, যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে এই বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেছেন তা বাস্তবায়নে অত্র প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা এবং কর্মচারি সবাই বদ্ধপরিকর।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভোজ্যতেল ও সূর্যমুখীর চাষ করতে বলেছেন।আমদানি কমিয়ে উৎপাদনে যেতে সয়াবিন ভোজ্যতেল আমদানি কমাতে তেল বীজ উন্নয়নে আরও গবেষণা করার নির্দেশও দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

মেহেদী হাসান সোহেল জানান এরই ধারাবাহিকতায় মানসম্মত শিক্ষার পাশাপাশি গবেষণা ক্ষেত্রেও এগিয়ে এক্সিম ব্যাংক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ। বরেন্দ্রভূমিতে এই প্রথম তেল বীজ সূর্যমুখীর উপর গবেষণা করে সাফল্য পেয়েছেন এক্সিম ব্যাংক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক।

এবার ২ বিঘা জমিতে চাষ করা হয়েছে। সূর্যমুখীর পুরো মাঠজুড়ে ফুলে ভরে যাওয়াতে দৃষ্টিনন্দন পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এখন সব শ্রেণির মানুষ ফটো তোলার জন্য ভিড় করছেন। মানুষের উপস্থিতি ভালো লাগছে, বলছিলেন এক্সিম ব্যাংক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের সিনিয়র লেকচারার মেহেদী হাসান সোহেল।

তিনি আরো বলেন এলাকায় এই চাষ সবে শুরু হল।আমি চাই আরও বেশি করে চাষ হোক সেক্ষেত্রে চাষীদের বীজের চাহিদা মেটানো সম্ভব আমার বিশ্বাস।

শুধু এক্সিম ব্যাংক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়,বাংলাদেশ নয় আমি চাই চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার বিভিন্ন এলাকায় সূর্যমুখী চাষের উদ্যোগ নেওয়া হোক।চাষিরা বাইরে থেকে বহু ক্রেতাও পাবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

এক্সিম ব্যাংক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র লেকচারার মেহেদী হাসান সোহেল বলেন গত ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময় ক্ষেতে সূর্যমুখীর বীজ বপন করা হয়েছিল।ফসল ঘরে তোলা যাবে এপ্রিলের শেষ বা মে মাসের প্রথম দিকে।চাষীদের চাষ করতে বিশেষ সমস্যা বা তেমন খরচ নেই।একজন চাষির বিঘা প্রতি চার থেকে সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা খরচ করলে আশানুরূপ তৈলবীজ পাবে।

সিনিয়র লেকচারার সোহেল বলেন এই তেল ক্ষতিকারক
কোলেস্টেরলমুক্ত।তাই দেশে তেলের ঘাটতি মেটাতে ব্যাপকভাবে সূর্যমুখী চাষের উদ্যোগ নেওয়া উচিৎ।এ লক্ষ্যে বারি-৩ জাতের নতুন সূর্যমুখী ফুলের চাষ করে ব্যাপক দেশের ভোজ্যতেলের ঘাটতি পুরন করা সম্ভব।

এক্সিম ব্যাংক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ।মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগ, কৃষি অনুষদ,সিনিয়র লেকচারার মেহেদী হাসান সোহেল বলেন ভি১ আর ডি এস ২৭৫ এফ ১ হাইব্রিড সূর্যমুখী জাতের চাষ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন প্রথম বারের মতো ভি-২ বারি সূর্যমুখী-৩ জাতের চাষ করছি।এই জাতে প্রতি বিঘায় চাষে ১ কেজি ২০০ গ্রাম বীজ দিতে হবে।এবং সব খরচ বাদ দিয়ে নুন্যতম ১৮ হাজার টাকা লাভ করা সম্ভব।

পুষ্টিগুন নিয়ে তিনি বলেন  সূর্যমুখীর বীজে ৪০-৪৫% লিনোলিক এসিড রয়েছে,তাছাড়া এ তেলে ক্ষতিকারক ইরোসিক এসিড নেই। হৃদরোগীদের জন্য সূর্যমুখীর তেল খুবই উপকারী।অন্যান্য তেলবীজে যেসব ক্ষতিকারক উপাদান থাকে, সূর্যমুখীর তেলে তেমন নেই। সূর্যমুখী তেলে মানবদেহের জন্য উপকারী ওমেগা ৯ ও ওমেগা ৬ আছে। সূর্যমুখীর তেল হৃদরোগ,ডায়াবেটিস,উচ্চ রক্তচাপ,কিডনি রোগীর জন্যও সূর্যমুখীর তেল নিরাপদ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
amazing-link-zeus.ca