• মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:০৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
মুক্তিযুদ্ধের সময় যারা মানুষকে বিভ্রান্ত করেছিল,তারা ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে-বগুড়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নাচোলে আইন শৃংঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত নীলফামারীতে হাম-রুবেলা ক্যাম্পেইন উদ্বোধন: লক্ষ্যমাত্রা ২ লাখের বেশি শিশু শেষ বয়সে সন্তানের নির্যাতন: জমি না দেওয়ায় বাবাকে পিটিয়ে অবরুদ্ধ নাচোল রেলস্টেশন ফ্রেন্ডস ক্লাব আয়োজিত প্রীতি ফুটবল ম্যাচের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৫ টাকায় ১২০ কিলোমিটার চলে রতনের মোটরসাইকেল তিতাস গ্যাস ফিল্ডে দেশের প্রথম গভীর অনুসন্ধান কূপ খনন শুরু সাভার সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে সিসি ক্যামেরা স্থাপন, অনিয়ম ঠেকাতে নতুন উদ্যোগ মেরিন ড্রাইভে চলন্ত প্রাইভেট কারে আগুন, অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন যাত্রীরা কালীগঞ্জের আড়াইশ বছরের ‘১৩ গম্বুজ মসজিদ’: অযত্নে বিলীন হচ্ছে মুঘল স্থাপত্যের স্মৃতি

নাগরপুরে ঐতিহ্য হারিয়ে ৩০ বছর যাবৎ বন্ধ গরুর হাট

Reporter Name / ২৫০ Time View
Update : বুধবার, ৬ জুলাই, ২০২২

নাগরপুরে ঐতিহ্য হারিয়ে ৩০ বছর যাবৎ বন্ধ গরুর হাট

মোঃ আব্দুর রাজ্জাক রাজা, নাগরপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি :

টাঙ্গাইলের নাগরপুরে নিজস্ব ইতিহাস-ঐতিহ্য হারিয়ে উপজেলার অন্যতম পুরোনো সাপ্তাহিক গরুর হাট প্রায় ৩০ বছর যাবৎ বন্ধ রয়েছে। নাগরপুর সদর হরিভক্তপাড়া কেন্দ্রীয় মন্দির এলাকা তৎকালীন “গরুর হাটি” নামেই সর্বাধিক পরিচিত ছিলো। সদর বটতলা সংলগ্ন এই গরুর হাট সেই সময় পুরো জেলায় সমাদৃত ছিলো এবং দূর দুরান্ত থেকে বিক্রির জন্য গরু আসা সহ ক্রেতা-বিক্রেতার ব্যাপক পদাচরণে সব মিলিয়ে জমজমাট পরিবেশ বিরাজ করতো। তৎকালীন হাটের সাথে সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, অতিরিক্ত খাজনা আদায়, অব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা ইস্যুতে পুরোনো এই ঐতিহাসিক গরুর হাট বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে বুধবার সাপ্তাহিক হাট সচল থাকলেও গরুর হাটে শৃঙ্খলা ফেরানোর চেষ্টা ও পুনরায় হাট চালু করণে কোনো জনপ্রতিনিধি বা সংশ্লিষ্টরা কেউ এগিয়ে আসেনি। এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা মো: আরিফ হোসেন বলেন, প্রায় ৩০ বছর নাগরপুর গরুর হাট বন্ধ আছে। আমি ছোট বেলায় এই হাটে একটি গরু বিক্রি করতে এনেছিলাম। তখন হাট ব্যাপক জাঁকজমক ছিলো। আমার মতে সেই সময় দুর্ভোগের যাতায়াত ব্যবস্থা ও অতিরিক্ত খাজনা নেওয়া এই গরুর হাট বন্ধের অন্যতম কারণ।

দুয়াজানি এলাকার বাসিন্দা হাজী মো: আব্দুল হালিম জানায়, সেই সময়ে হাটে নিরাপত্তার অভাব ছিলো। ফলে ব্যবসায়ীরা হাটে আসা বন্ধ করে দিলে এক পর্যায়ে হাট বন্ধ হয়ে যায়। তৎকালীন গরুর হাটের ইজারা সংশ্লিষ্ট কাজে জড়িত স্থানীয় বাসিন্দা মো: খোদা বক্স মিয়া জানায়, আমরা সেই সময় হাটে গরুর ব্যবসা করেছি ও ইজারা কাজে জড়িত ছিলাম। তখন হাটে থাকা খাওয়া সহ অন্যান্য সুবিধার খারাপ অবস্থা ছিলো। ইজারা সিন্ডিকেট ও অতিরিক্ত খাজনা আদায় এই হাট বন্ধের অন্যতম কারণ।

নাগরপুর উপজেলা সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মো: সুজায়েত হোসেন বলেন, নাগরপুরের জনপ্রিয় এই গরুর হাট অব্যবস্থাপনার জন্য বন্ধ হয়ে গেছে। এতে সরকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। হাট বন্ধ হওয়ায় নাগরপুরের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ব্যাহত হচ্ছে। আমরা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে অবগত করেছি কিন্তু তারা এ ব্যাপারে উদাসীন। সুতরাং অনতিবিলম্বে অবৈধ ভাবে দখল হয়ে যাওয়া হাটের জায়গা উদ্ধার করে এই গরুর হাট পুনরায় চালু করার দাবী জানাচ্ছি।

বর্তমান সংশ্লিষ্ট গরুর হাটের ইজারাদার মো: আনিসুর রহমান মুঠোফোনে জানায়, জায়গা সংক্রান্ত জটিলতা শেষ করে হাটের পরিবেশ ফিরিয়ে এনে দ্রুত এই গরুর হাট পুনরায় চালু করা হবে। ইতিমধ্যে সদর ইউপি চেয়ারম্যানের সাথে এ বিষয়ে কথা বলেছি। আমরা সবাই পুরোনো এই হাট চালুর বিষয়ে আন্তরিক।

গরুর হাট বিষয়ে নাগরপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো: কুদরত আলী বলেন, নাগরপুরের ঐতিহ্যবাহী গরুর হাট বন্ধ হওয়ায় অন্যতম কারণ হচ্ছে হাটের জন্য নির্ধারিত জায়গা অবৈধ ভাবে দখল হয়ে যাওয়া ও অতিরিক্ত খাজনা আদায় করা। আমার পরিকল্পনা আছে এই গরুর হাট পুনরায় চালু করার। আমি হাট সংশ্লিষ্ট ইজারাদারের সাথে কথা বলেছি। এই হাটের সরকারি অনুমোদন আছে। আগামী বছর থেকে এই জনপ্রিয় গরুর হাট পুনরায় চালু করা হবে।

উল্লেখ্য, বর্তমানে নাগরপুর সদর এলাকায় বুধবার সাপ্তাহিক হাট পরিচালিত হচ্ছে। পুরাতন গরুর হাট এর স্থানে হাঁস-মুরগি কেনাবেচা হয়ে থাকে। পূর্বের ন্যায় হাট জমজমাট নেই বললেই চলে।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category