ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস গ্যাস ফিল্ডে দেশের প্রথম গভীর অনুসন্ধান কূপ খনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। রোববার (১৯ এপ্রিল) দুপুরে সদর উপজেলার বুধল এলাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে এ কাজের উদ্বোধন করেন -এর পরিচালক (অর্থ) এ. কে. এম. মিজানুর রহমান।সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, কূপটির খনন কাজ শেষ হলে প্রতিদিন প্রায় ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে, যা দেশের জ্বালানি চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, (বিজিএফসিএল) পরিচালিত তিতাস গ্যাস ফিল্ডের উৎপাদনে থাকা ২২টি কূপ থেকে বর্তমানে দৈনিক প্রায় ৩২৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে দীর্ঘদিন ধরে গ্যাস উত্তোলনের ফলে মজুত ও চাপ কমে যাওয়ায় উৎপাদনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে দেশের অন্যতম প্রাচীন এই গ্যাস ফিল্ডে।
এ প্রেক্ষাপটে নতুন গ্যাসের উৎস অনুসন্ধানে বিজিএফসিএল থ্রিডি সাইসমিক জরিপ প্রকল্প গ্রহণ করে। এর আওতায় তিতাস ও বাখরাবাদ গ্যাস ফিল্ডে দুটি গভীর অনুসন্ধান কূপ খনন করা হচ্ছে।
জানা যায়, ৫ হাজার ৬০০ মিটার গভীরতার এই কূপ খননে সময় লাগবে প্রায় ৭ মাস। খনন কার্যক্রম পরিচালনা করছে চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিসিডিসি।
বিজিএফসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আব্দুল জলিল প্রামাণিক জানান, তিতাসসহ অন্যান্য গ্যাস ফিল্ডে উৎপাদন বাড়াতে নতুন কূপ খনন এবং পুরোনো কূপের ওয়ার্কওভার কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। তিতাস ও বাখরাবাদে গভীর অনুসন্ধান কূপ খনন সফল হলে তা দেশের জ্বালানি খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে উঠবে এবং বিদ্যমান গ্যাস সংকট অনেকটাই লাঘব হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন কোম্পানির কোম্পানি সচিব মোজাহার আলী, প্রকল্প পরিচালক মো. মাহমুদুল নবাবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।পেট্রোবাংলার পরিচালক (অর্থ) এ. কে. এম. মিজানুর রহমান বলেন, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চলতি বছরের মধ্যে ৫০টি কূপ খননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে দেশীয় জ্বালানি উৎস অনুসন্ধান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিতাসের এই গভীর অনুসন্ধান কূপের সফলতা দেশের জ্বালানি সংকট নিরসনে বড় ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।