জামালপুর প্রতিনিধি:
জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার ২নং চর এলাকায় চাঁদার দাবিকে কেন্দ্র করে তিন কৃষকের বৈধ সেচ পাম্পের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগ উঠেছে। এতে দেড় শতাধিক বিঘা জমির বোরো ধান চাষ মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ৫নং চরের সেচ মালিক আঃ রাজ্জাক (৫৬), বাবুল (৪২) ও আসাবুদ্দিন (৪০) জানান, চার বছর আগে তারা ২নং চর এলাকার বিদ্যুতের খুঁটি থেকে নিয়ম অনুযায়ী প্রতিজন ১০ হাজার টাকা পরিশোধ করে তিনটি সেচ লাইনের মিটার সংযোগ নেন এবং এরপর থেকে নিয়মিত বিদ্যুৎ বিল দিয়ে আসছেন। কিন্তু চলতি মৌসুমে ২নং চরের বেনজির (৩০), বিদ্যুৎ মিস্ত্রি রিপন (২৮), শামা শেখ (৪০), হাজুবর (২৮) ও ফজলু (৩২) তাদের কাছে ৫০ হাজার টাকা করে মোট এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা দাবি করেন বলে অভিযোগ করেন তারা। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে তারাবিহ নামাজের পর ১৫–২০ জনের একটি দল এসে সেচ লাইনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। ফলে পানির অভাবে বোরো ধানের ক্ষেত শুকিয়ে ফেটে যাচ্ছে এবং কিছু জমিতে ধান রোপণও করা যাচ্ছে না বলে জানান কৃষকরা। বিষয়টি মসজিদের মুসল্লিদের জানালে অভিযুক্তরা মারধর করে এবং এক গ্রামের বিদ্যুতের খুঁটি থেকে অন্য গ্রামে সংযোগ নিতে দেওয়া হবে না বলে হুমকি দেয় বলেও অভিযোগ ওঠে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) জামালপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুব আজাদ রুবেল বলেন, বৈধ গ্রাহকের সংযোগ অন্য কেউ বিচ্ছিন্ন করতে পারে না, এটি আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ; বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, অভিযোগের বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এদিকে মেলান্দহ থানার অফিসার ইনচার্জ ওবায়দুর রহমান বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।