শেখ তাইজুল ইসলাম মোংলা প্রতিনিধি,
মোংলা উপজেলার মিঠাখালী ইউনিয়নের সাহেবের মাঠ এলাকার বাসিন্দা দেলোয়ার হোসেন (৫০) তার স্ত্রী, শ্বশুরসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে শারীরিক নির্যাতন এবং অর্থ ও মালামাল লুটের অভিযোগ এনে থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় ছয় মাস আগে দেলোয়ার হোসেন শাহনাজ বেগমকে (৩৫) বিয়ে করেন। দেলোয়ার হোসেন বর্তমানে হৃদরোগে আক্রান্ত। তার শারীরিক অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে তার স্ত্রী তাকে অনৈতিকভাবে বিভিন্ন উত্তেজক ওষুধ সেবনে বাধ্য করতেন এবং শারীরিক ও মানসিক চাপ সৃষ্টি করতেন। এ নিয়ে প্রতিবাদ জানালে প্রায়ই তাকে শারীরিক লাঞ্ছনার শিকার হতে হতো।
গত ১৪ এপ্রিল,২০২৬ তারিখ আনুমানিক দুপুর ১২টার দিকে দেলোয়ার হোসেন যখন মোংলা মাছ বাজারে মাছ বিক্রি করছিলেন,তখন তার স্ত্রী তাকে ডেকে মোংলা উপজেলা পরিষদের সামনে আসতে বলেন। সেখানে পৌঁছানো মাত্রই পূর্বপরিকল্পিতভাবে অভিযুক্তরা তাকে চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলে অতর্কিত হামলা চালায়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও অভিযোগকারীর ভাষ্যমতে, হামলাকারীরা তাকে জোরপূর্বক একটি অটো ভ্যানে তুলে মোংলা বাজারের বাংলাদেশ হোটেলের সামনে নিয়ে যায় এবং সেখানে দ্বিতীয় দফায় বেধড়ক মারধর করে। এতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম ও রক্তক্ষরণ হয়। পরবর্তীতে তাকে দড়ি দিয়ে বেঁধে অভিযুক্তদের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।
সেখানে অভিযুক্তরা তার কাছ থেকে:
মাছ বিক্রির নগদ ২৬,৭০০ টাকা।
৫ আনা ওজনের স্বর্ণের আংটি ও ৬ আনা ওজনের রুপার আংটি (মূল্য প্রায় ৭০,০০০ টাকা)।
একটি স্মার্টফোন ও দামি হাতঘড়ি ছিনিয়ে নেয় এবং ভাঙচুর করে।
স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ খবর পেয়ে অভিযুক্তদের বাড়ি থেকে গুরুত্বর আহত অবস্থায় দেলোয়ার হোসেনকে উদ্ধার করেন। পরে তাকে মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা প্রদান করা হয়।
ভিকটিম দেলোয়ার হোসেন সুস্থ হওয়ার পর মোংলা থানার অফিসার ইনচার্জ বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে তিনি তার স্ত্রী শাহনাজ বেগম,শ্বশুর আব্দুল গণি,মো. রনিসহ অজ্ঞাত আরও ৬-৭ জনকে অভিযুক্ত করেছেন। তিনি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
মোংলা থানার ওসি (তদন্ত) মানিক চন্দ্র গাইন জানান এ ঘটনায় শাহনাজের স্বামী দেলোয়ার মোংলা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।