• শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:১১ অপরাহ্ন
শিরোনাম
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে মাদ্রাসা আখ্যা দিলেন বিএনপি নেতা ড্রাইভিং লাইসেন্স হারিয়ে গেলে কী করবেন? রিয়াদকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা, সৌদির দুই অঞ্চলে ভূপাতিত আরও দুটি চাকরি থেকে বরখাস্ত ডিএমপির সাবেক অতিরিক্ত কমিশনার হারুন-অর-রশিদ নেতানিয়াহুকে ঠেকাতে সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের ছক বিরোধীদের সৌদি আরব ছাড়তে মার্কিন সরকারি কর্মীদের নির্দেশ সেক্স মন্ত্রণালয়’র প্রস্তাবে উত্তাল সংসদ, তুমুল সংঘর্ষ বাড়বে কি গার্মেন্টস শ্রমিকদের বেতন, শুরু হচ্ছে নতুন উদ্যোগ সরকারের সবকিছু ভেঙে তছনছ করে দেব : জামায়াত আমির যুদ্ধাপরাধ মামলার সাক্ষীর বাড়িতে হামলা-লুটপাট, নিখোঁজ গৃহকর্তা

এবার ম্যাচ শেষে জবাবদিহির মুখে পড়বেন লা লিগার রেফারিরা

Reporter Name / ২১ Time View
Update : শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬

স্প্যানিশ ফুটবলে রেফারিং নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ক ও অসন্তোষের মধ্যে স্বচ্ছতা বাড়াতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে লা লিগা। এই উদ্যোগের আওতায় ম্যাচ শেষে নির্বাচিত রেফারিরা গণমাধ্যমের সামনে নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দেবেন। তবে বিষয়টি এমন নয় যে প্রতিটি ম্যাচের পর সব রেফারিকে সংবাদ সম্মেলন করতে হবে। প্রতি ম্যাচ সপ্তাহে সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে নির্দিষ্ট ম্যাচের রেফারিদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হবে।

এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে স্প্যানিশ ফুটবলে রেফারিং নিয়ে ক্রমবর্ধমান বিতর্ক। বিশেষ করে পেনাল্টি, অফসাইড, হ্যান্ডবল, ফাউল এবং ভিএআর ব্যবহারের মতো বিষয়গুলো নিয়ে প্রতিনিয়ত প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় ম্যাচ পরিচালনাকারীদের। অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে রেফারির একটি সিদ্ধান্ত পুরো ম্যাচের ফলাফল বদলে দেয়। কিন্তু খেলা শেষ হওয়ার পর সেই সিদ্ধান্তের পেছনের কারণ জানার সুযোগ পান না দর্শক কিংবা গণমাধ্যমকর্মীরা। ফলে বিভিন্ন ক্লাবের সমর্থকদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা। নতুন ব্যবস্থার মাধ্যমে এই দূরত্ব কমিয়ে আনতে চায় লা লিগা।

নতুন নিয়মের আওতায় স্পেনের শীর্ষ দুই বিভাগের রেফারিরা সম্প্রচার স্বত্ব থাকা টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর সঙ্গে যুক্ত হয়ে ম্যাচ শেষে সাক্ষাৎকার দেবেন। এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে ডিএজেডএন এবং মুভিস্টার প্লাস। প্রতিটি প্রতিষ্ঠান প্রতি ম্যাচ সপ্তাহে একটি করে ম্যাচের রেফারির সাক্ষাৎকার নেওয়ার সুযোগ পাবে। অর্থাৎ সপ্তাহে দুটি ম্যাচের রেফারি সরাসরি সম্প্রচারমাধ্যমের সামনে কথা বলবেন। সাক্ষাৎকারে ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত, বিতর্কিত সিদ্ধান্ত এবং রেফারিং-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে। তবে এটি কোনো বাধ্যতামূলক দীর্ঘ সংবাদ সম্মেলন নয়; বরং সম্প্রচার চলাকালে সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে ব্যাখ্যা দেওয়ার ব্যবস্থা।

এই উদ্যোগের প্রথম ধাপ শুরু হচ্ছে ২০২৬ সালের ৩১ অক্টোবর থেকে, লা লিগার একাদশ রাউন্ডে। প্রথম দিনেই লেভান্তে ও আতলেতিকো মাদ্রিদের মধ্যকার ম্যাচের রেফারি মুভিস্টার প্লাসের সঙ্গে কথা বলবেন। এরপর ১ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বাস্ক ডার্বিতে মুখোমুখি হবে আতলেতিক বিলবাও ও রিয়াল সোসিয়েদাদ। সান মামেসে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ম্যাচের প্রধান রেফারিও খেলা শেষে ডিএজেডএনের সামনে নিজের বক্তব্য তুলে ধরবেন। ফলে নতুন ব্যবস্থার সূচনাতেই স্প্যানিশ ফুটবলের দুটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের রেফারিদের কথা শোনার সুযোগ পাবেন দর্শকরা।

তবে ম্যাচ শেষে রেফারিদের সাক্ষাৎকার দেওয়ার সিদ্ধান্তটি হঠাৎ করে নেওয়া হয়নি। চলতি ২০২৬-২৭ মৌসুমের শুরু থেকেই রেফারিদের গণমাধ্যমের সামনে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এর অংশ হিসেবে ম্যাচ শুরুর আগে নির্বাচিত ম্যাচের রেফারিরা সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথা বলছেন। ম্যাচের প্রস্তুতি, চাপ সামলানোর পদ্ধতি এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতায় দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা নিয়েও তাঁদের বক্তব্য প্রচারিত হয়েছে। এল ক্লাসিকোর আগে রেফারি হোসে লুইস মার্তিনেস মুনুয়েরার সাক্ষাৎকারও এই উদ্যোগের একটি উদাহরণ। এবার ম্যাচের আগের সাক্ষাৎকারের পাশাপাশি খেলা শেষেও তাঁদের বক্তব্য শোনার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

নতুন এই ব্যবস্থার পেছনে লা লিগা, স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন এবং রেফারিদের সংগঠন এইসাফের মধ্যে সমঝোতা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর লক্ষ্য রেফারিং ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ করা এবং টেলিভিশনে ফুটবল সম্প্রচারের মান উন্নত করা। জানা গেছে, এই উদ্যোগে অংশগ্রহণের জন্য রেফারিদের একটি সম্মিলিত অডিওভিজ্যুয়াল বোনাসের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। এর পরিমাণ প্রায় পাঁচ লাখ ইউরো, যা রেফারিদের মধ্যে বণ্টন করা হবে। অর্থাৎ এটি শুধু সাক্ষাৎকার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নয়; বরং রেফারিং ও সম্প্রচারব্যবস্থার মধ্যে নতুন ধরনের সহযোগিতার অংশ।

ফুটবল বিশ্লেষকদের কাছে এই পরিবর্তনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, বিতর্কিত সিদ্ধান্তের পর রেফারির বক্তব্য সরাসরি শোনার সুযোগ তৈরি হওয়া। উদাহরণস্বরূপ, কোনো ম্যাচে পেনাল্টি দেওয়া বা না দেওয়া নিয়ে বিতর্ক তৈরি হলে দর্শকরা সংশ্লিষ্ট রেফারির কাছ থেকেই তাঁর সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা জানতে পারবেন। একইভাবে ভিএআরের মাধ্যমে কোনো সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হলে সেটির পেছনের যুক্তি নিয়েও প্রশ্ন তোলার সুযোগ থাকবে। তবে এই সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে সব বিতর্কের অবসান হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। রেফারির ব্যাখ্যার সঙ্গে দর্শক বা ক্লাবের মতের পার্থক্য থাকতেই পারে। তবু সিদ্ধান্তের কারণ প্রকাশ্যে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হওয়াকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে স্প্যানিশ ফুটবলে রেফারিংয়ের ইতিহাসে নতুন একটি অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে। এতদিন ম্যাচ পরিচালনার পর রেফারিরা সাধারণত গণমাধ্যমের সামনে সরাসরি নিজেদের সিদ্ধান্ত ব্যাখ্যা করতেন না। এবার সেই প্রচলিত অবস্থার পরিবর্তন ঘটতে চলেছে। লা লিগার এই উদ্যোগ সফল হলে ভবিষ্যতে রেফারি ও দর্শকদের মধ্যে যোগাযোগ আরও বাড়তে পারে এবং বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়ে অযথা বিভ্রান্তি কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে অন্য ফুটবল লিগগুলোও এমন ব্যবস্থা চালুর বিষয়ে আগ্রহী হতে পারে। এখন দেখার বিষয়, আতলেতিক বিলবাও ও রিয়াল সোসিয়েদাদের বাস্ক ডার্বি দিয়ে শুরু হওয়া এই উদ্যোগ স্প্যানিশ ফুটবলে কতটা ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
amazing-link-zeus.ca