• শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:০৯ অপরাহ্ন

ব্যালন ডি’অরে ইতিহাসের দ্বিতীয় ক্ষুদ্রতম ব্যবধান, অল্পের জন্য হারলেন এমবাপ্পে

Reporter Name / ২৩ Time View
Update : শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬

ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কার ব্যালন ডি’অরের ২০২৬ সালের ভোটের পূর্ণাঙ্গ ফল প্রকাশের পর নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছেন হ্যারি কেন ও কিলিয়ান এমবাপ্পে। ২৬ অক্টোবর লন্ডনের প্যালাডিয়াম থিয়েটারে অনুষ্ঠিত জমকালো অনুষ্ঠানে ২০২৫-২৬ মৌসুমের সেরা ফুটবলার হিসেবে পুরস্কার জেতেন ইংল্যান্ড ও বায়ার্ন মিউনিখের স্ট্রাইকার হ্যারি কেন। তবে শুক্রবার ৩০ অক্টোবর ফ্রান্স ফুটবল ভোটের বিস্তারিত হিসাব প্রকাশ করার পর জানা যায়, দ্বিতীয় স্থানে থাকা এমবাপ্পেকে পেছনে ফেলতে কেনের ব্যবধান ছিল মাত্র ২৮ পয়েন্ট। কেন পেয়েছেন ১ হাজার ৫৫ পয়েন্ট, অন্যদিকে এমবাপ্পের সংগ্রহ ১ হাজার ২৭ পয়েন্ট। অর্থাৎ দীর্ঘ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ভোটের লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত খুব সামান্য ব্যবধানে শিরোপা নিশ্চিত করেন ইংলিশ অধিনায়ক।

এই ফলাফলের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো, ভোটের ব্যবধান কতটা কম ছিল। একশ জন আন্তর্জাতিক সাংবাদিকের ভোটে নির্ধারিত হয় পুরুষদের ব্যালন ডি’অর। প্রতিটি দেশের একজন করে নির্বাচিত সাংবাদিক নিজেদের বিবেচনায় সেরা দশ ফুটবলারকে ক্রমানুসারে নির্বাচন করেন। প্রথম স্থানের জন্য দেওয়া হয় ১৫ পয়েন্ট, দ্বিতীয় স্থানের জন্য ১২, তৃতীয় স্থানের জন্য ১০ এবং পরবর্তী অবস্থানগুলোর জন্য যথাক্রমে ৮, ৭, ৫, ৪, ৩, ২ ও ১ পয়েন্ট। এই পদ্ধতিতে বিভিন্ন দেশের সাংবাদিকদের মূল্যায়ন একত্র করে চূড়ান্ত বিজয়ী নির্ধারণ করা হয়। এবার কেন ৪০টি ভোটে প্রথম স্থান পেয়েছেন, আর এমবাপ্পে পেয়েছেন ২৩টি প্রথম স্থানের ভোট। ফলে ব্যবধান কম থাকলেও ভোটারদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ কেনকে এগিয়ে রেখেছিলেন।

২০২৬ সালের এই লড়াই সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ব্যালন ডি’অর ভোটগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ২০১৯ সালে লিওনেল মেসি মাত্র সাত পয়েন্টের ব্যবধানে ভার্জিল ফন ডাইককে পেছনে ফেলে পুরস্কার জিতেছিলেন। ২০২৪ সালে রদ্রি ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে হারিয়েছিলেন ৪১ পয়েন্টের ব্যবধানে। এবার কেন ও এমবাপ্পের ব্যবধান ২৮ পয়েন্ট হওয়ায় চলতি শতাব্দীর অন্যতম কাছাকাছি লড়াইয়ের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে এই আসর। তবে ব্যালন ডি’অরের ভোটিং পদ্ধতি বিভিন্ন সময়ে পরিবর্তিত হওয়ায় ইতিহাসের সব সংস্করণের সঙ্গে সরাসরি তুলনা করা ঠিক নয়। বর্তমান ভোটিং ব্যবস্থার অধীনে কেনের জয় বিশেষভাবে আলোচিত হচ্ছে। কারণ, পুরস্কার ঘোষণার পরও ভোটের বিস্তারিত প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত এই দুই তারকার মধ্যকার প্রকৃত ব্যবধান স্পষ্ট ছিল না।

অন্যদিকে, এবারের ভোটে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছেন বার্সেলোনার স্প্যানিশ তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামাল। তাঁর সংগ্রহ ৮৮১ পয়েন্ট। দ্বিতীয় স্থানে থাকা এমবাপ্পের সঙ্গে তাঁর ব্যবধান ১৪৬ পয়েন্ট, আর বিজয়ী কেনের সঙ্গে ব্যবধান ১৭৪ পয়েন্ট। চতুর্থ স্থানে রয়েছেন স্পেনের মিডফিল্ডার রদ্রি, যিনি পেয়েছেন ৭২৬ পয়েন্ট। পঞ্চম স্থানে জায়গা করে নিয়েছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসি। ইন্টার মায়ামির এই তারকার সংগ্রহ ৬১২ পয়েন্ট। বয়স ও ক্যারিয়ারের বর্তমান পর্যায় বিবেচনায় মেসির এমন অবস্থানও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে বিশ্বের শীর্ষ পর্যায়ের ফুটবলারদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সেরা পাঁচে থাকা তাঁর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাবের আরেকটি উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ভোটের শীর্ষ দশে ষষ্ঠ থেকে দশম স্থানে রয়েছেন যথাক্রমে খভিচা কাভারাসখেলিয়া, উসমান দেম্বেলে, এরলিং হলান্ড, মাইকেল ওলিসে ও ফাবিয়ান রুইজ। কাভারাসখেলিয়া পেয়েছেন ৫৪১ পয়েন্ট, দেম্বেলের সংগ্রহ ৪১৮ পয়েন্ট এবং হলান্ড পেয়েছেন ৩৭৮ পয়েন্ট। অন্যদিকে, মাইকেল ওলিসে ২৯৬ পয়েন্ট নিয়ে নবম এবং ফাবিয়ান রুইজ ২০১ পয়েন্ট নিয়ে দশম হয়েছেন। এই তালিকায় বিভিন্ন ক্লাব ও জাতীয় দলের তারকাদের উপস্থিতি এবারের প্রতিযোগিতার বৈচিত্র্য তুলে ধরে। বিশেষ করে ইয়ামাল, কাভারাসখেলিয়া ও ওলিসের মতো ফুটবলারদের অবস্থান ভবিষ্যতের ব্যালন ডি’অর প্রতিযোগিতা নিয়েও নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। একই সঙ্গে মেসির পঞ্চম স্থান তাঁর অভিজ্ঞতা ও ধারাবাহিকতার গুরুত্ব আবারও সামনে এনেছে।

কেনের এই পুরস্কার জয়ের পেছনে ২০২৫-২৬ মৌসুমে তাঁর অসাধারণ গোল করার ক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে জার্মান ফুটবলে আধিপত্য ধরে রাখার পাশাপাশি ইংল্যান্ড জাতীয় দলের অধিনায়ক হিসেবেও নিজের দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। উয়েফার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ওই মৌসুমে তাঁর গোলসংখ্যা ছিল ৭৩। বুন্দেসলিগায় টানা তৃতীয়বারের মতো সর্বোচ্চ গোলদাতার স্বীকৃতি অর্জন করেন তিনি। পাশাপাশি চ্যাম্পিয়নস লিগে ১৪টি গোল করে বায়ার্নকে সেমিফাইনালে পৌঁছাতে সহায়তা করেন। ঘরোয়া ট্রেবল জয়ের ক্ষেত্রেও তাঁর অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য। এসব সাফল্য তাঁকে ব্যক্তিগত পুরস্কারের দৌড়ে শক্ত অবস্থানে নিয়ে যায়।

এমবাপ্পেও পিছিয়ে ছিলেন না। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে দুর্দান্ত গোলসংখ্যা এবং ফ্রান্স জাতীয় দলের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ পারফরম্যান্স তাঁকে শেষ পর্যন্ত দ্বিতীয় স্থানে রেখেছে। তবে ভোটের হিসাবে কেনের চেয়ে ২৮ পয়েন্ট কম পাওয়ায় স্বপ্নের পুরস্কারটি এবারও অধরা থেকে যায়।

সব মিলিয়ে ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অর ভোটের ফলাফল ফুটবল বিশ্বে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একদিকে দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ করে প্রথমবারের মতো এই পুরস্কার জিতেছেন হ্যারি কেন, অন্যদিকে অল্পের জন্য শিরোপা হাতছাড়া হয়েছে এমবাপ্পের। ইংল্যান্ডের হয়ে ২০০১ সালে মাইকেল ওয়েনের পর কেনই প্রথম ইংলিশ ফুটবলার হিসেবে এই সম্মান অর্জন করেছেন। একই সঙ্গে বায়ার্ন মিউনিখের খেলোয়াড় হিসেবে ১৯৮১ সালে কার্ল-হাইনৎস রুমেনিগের পর আবারও ক্লাবটির কোনো ফুটবলার ব্যালন ডি’অর জিতেছেন। ২৮ পয়েন্টের ব্যবধান, মেসির পঞ্চম স্থান এবং ইয়ামালের তৃতীয় অবস্থান—সব মিলিয়ে এবারের ভোটের ফলাফল দীর্ঘদিন আলোচনায় থাকবে। এখন দেখার বিষয়, আগামী মৌসুমে এমবাপ্পে ও অন্য প্রতিদ্বন্দ্বীরা কেনের কাছ থেকে এই মর্যাদাপূর্ণ মুকুট ছিনিয়ে নিতে পারেন কি না।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
amazing-link-zeus.ca