ভেনেজুয়েলার আপুরে রাজ্যের প্রত্যন্ত এলাকায় শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্থা ফান্ডারেডেস। সংস্থাটির পরিচালক হাভিয়ের তারাজোনা বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, তাঁদের একজন কর্মী ঘটনাস্থলের ভিডিও দেখে অন্তত নয়টি মরদেহ শনাক্ত করেছেন। ভিডিওতে মাটিতে পড়ে থাকা কয়েকটি মরদেহ, উপড়ে পড়া গাছ এবং একটি শিবিরের ধ্বংসাবশেষ দেখা গেছে।
তারাজোনার দাবি, গত জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানে নিকোলাস মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ভেনেজুয়েলার ভূখণ্ডে অবস্থানরত কলম্বিয়ার বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে দেশটির সেনাবাহিনীর এটিই প্রথম হামলা। তবে এ বিষয়ে ভেনেজুয়েলা সরকারের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এএফপির পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া দেয়নি দেশটির সরকার।
মানবাধিকারকর্মী ও সামরিক বিষয়ক বিশেষজ্ঞ রোসিও সান মিগেল জানিয়েছেন, স্থানীয় বাসিন্দারা শুক্রবারের হামলার খবর প্রথম জানান। তাঁদের ধারণা, এতে আরও অন্তত ১০ জন বিদ্রোহী নিহত হয়ে থাকতে পারেন। তবে এই অতিরিক্ত মৃত্যুর তথ্য স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হয়নি।
কলম্বিয়ার ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি (ইএলএন) দেশটির একটি বামপন্থী সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী। ২০১৬ সালে কলম্বিয়ার সরকার ও ফার্ক গেরিলা বাহিনীর মধ্যে শান্তিচুক্তি হওয়ার পর থেকে লাতিন আমেরিকার সবচেয়ে শক্তিশালী বিদ্রোহী গোষ্ঠী হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে তারা।
কলম্বিয়া ও ভেনেজুয়েলার মধ্যে দুই হাজার কিলোমিটারের বেশি দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। এ সীমান্তবর্তী এলাকায় ইএলএনের পাশাপাশি ফার্কের শান্তিচুক্তি প্রত্যাখ্যান করা বিদ্রোহী অংশগুলোরও তৎপরতা রয়েছে। এসব গোষ্ঠীর মধ্যে মাদক পাচার, বিশেষ করে কোকেনের ব্যবসা এবং অবৈধ খনির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংঘর্ষ চলে আসছে।
দীর্ঘদিন ধরে কলম্বিয়ার সরকার অভিযোগ করে আসছে, ভেনেজুয়েলা তাদের দেশের বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোকে আশ্রয় দিয়ে আসছে। তবে সাম্প্রতিক হামলার বিষয়ে ভেনেজুয়েলার সরকারের অবস্থান এখনো জানা যায়নি।
সূত্র: বার্তা সংস্থা এএফপি