• রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:০৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম
সুইজারল্যান্ডের দুই শহরে বিক্ষোভ, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ রাত ৯টা পর্যন্ত শপিংমল খোলা রাখার দাবি ব্যবসায়ীদের বেতন বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিক বিক্ষোভ, ৫০ কারখানা ছুটি ঘোষণা চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিসিকের উদ্যোক্তা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ শুরু সৌদির বিভিন্ন অঞ্চলে রেড-অরেঞ্জ অ্যালার্ট জারি অটোরিকশা চলাচলে সরকারের নতুন বিধিমালা, যা আছে নিয়মে জৈন্তাপুর সীমান্তে বিএসএফের গুলির পর বিজিবির ফাঁকা গুলি নওগাঁয় হারানো ৮০ মোবাইল উদ্ধার করে মালিকদের হাতে তুলে দিল জেলা পুলিশ টেকনাফে ১০ হাজার কেজি ইউরিয়া সারসহ ৯ পাচারকারী আটক মিয়ানমারে পাচারের চেষ্টা, কোস্ট গার্ডের অভিযানে বোট জব্দ বেদে সম্প্রদায়ের ভাসমান জীবন, সময়ের সাথে লড়াই সংগ্রাম করে কাটছে তাদের জীবন

ইরানের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ২৬ মার্কিন ঘাঁটি, লোকসান কয়েক শ কোটি ডলার

Reporter Name / ১৮ Time View
Update : রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬

স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, আট মাসে ১১৫টির বেশি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে এসব স্থাপনায়

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলোতে ইরানের হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র উঠে এসেছে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) এক বিশ্লেষণে। স্যাটেলাইট চিত্র পর্যালোচনা ও আঞ্চলিক কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এপি জানিয়েছে, গত আগস্ট পর্যন্ত ইরান ও ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর দাবি করা ১১৫টির বেশি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ২৬টি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সরঞ্জাম থাকা স্থাপনার বিভিন্ন অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। এতে কয়েক শ কোটি ডলারের সামরিক সরঞ্জাম ও অবকাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে।

গত ৩১ অক্টোবর প্রকাশিত এপি’র বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলোতে ইরানের হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল প্রথমে আগাম সতর্কীকরণ রাডার ও আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা। এসব ব্যবস্থায় আঘাতের পর উড়োজাহাজ রাখার হ্যাঙ্গার, গুদাম, যোগাযোগব্যবস্থা, জ্বালানি সংরক্ষণাগার ও সেনাদের আবাসনেও হামলা চালানো হয়।

স্যাটেলাইট চিত্রের বিশ্লেষণে দেখা যায়, কুয়েতের মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো সবচেয়ে বেশি হামলার শিকার হয়েছে। দেশটির আলী আল সালেম বিমানঘাঁটিতে অন্তত ৩০ বার হামলা হয়েছে। এতে অন্তত ১৫টি উড়োজাহাজ রাখার হ্যাঙ্গার, বেশ কয়েকটি গুদাম এবং আবাসিক এলাকার কাছের ১০টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে।

কুয়েতের ক্যাম্প বুয়েরিংয়েও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া গেছে। হামলায় ঘাঁটির অধিকাংশ হ্যাঙ্গার ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। সেনাদের জিম, কেনাকাটার দোকান, গাড়ি রাখার গ্যারেজ ও খাবারঘরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া বাহরাইন, ইরাক, জর্ডান, ওমান, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মার্কিন সামরিক স্থাপনাও হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।

সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে মার্চে চালানো হামলায় একটি ই-থ্রি সেন্ট্রি নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ বিমান এবং একটি জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্যও বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। এ ছাড়া বাহরাইনের নৌ-সহায়তা কেন্দ্র ও বিভিন্ন রাডার স্থাপনাতেও হামলার প্রমাণ পাওয়া গেছে।

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনাদের প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। কুয়েতের পোর্ট শুয়াইবায় ১ মার্চের এক ড্রোন হামলায় ছয় মার্কিন সেনা নিহত হন। এপির প্রতিবেদনে এটিকে ইরান যুদ্ধের সময় মার্কিন সেনাদের ওপর সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ ও ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহে বেশ কিছু বাধার কথাও জানিয়েছে এপি। মার্কিন কর্মকর্তাদের অনুরোধে কয়েকটি বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট চিত্র সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ছবি প্রকাশে বিলম্ব করেছে বা তা সীমিত করেছে। ফলে হামলার পরপরই অনেক স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। আগস্টের শেষ দিকে উন্নত মানের স্যাটেলাইট চিত্র পাওয়া গেলে কুয়েতের ক্যাম্প বুয়েরিংয়ে মার্চ থেকে জুলাইয়ের মধ্যে ৩০টির বেশি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা যায়।

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ও প্রশাসন ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডও এ বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য দিতে রাজি হয়নি। তবে আঞ্চলিক কর্মকর্তাদের বরাতে এপি জানিয়েছে, নিরাপত্তার কারণে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে যুক্তরাষ্ট্র বেশ কিছু উড়োজাহাজ, আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, যোগাযোগ সরঞ্জাম ও অন্যান্য সামরিক সম্পদ সরিয়ে নিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, তুলনামূলক কম খরচের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে স্থায়ী সামরিক অবকাঠামোয় বড় ধরনের ক্ষতি করার সক্ষমতা আধুনিক যুদ্ধের বাস্তবতা বদলে দিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলোর ক্ষয়ক্ষতি ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী ঘাঁটির নিরাপত্তা ও সেখানে সামরিক সরঞ্জাম রাখার কৌশল নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

তথ্যসূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
amazing-link-zeus.ca