• সোমবার, ০৯ নভেম্বর ২০২৬, ১২:৩৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
পল্লবী থানার ভেতরে ককটেল বিস্ফোরণ, ঢাকাজুড়ে আতঙ্ক ভুটান-শ্রীলঙ্কার ড্রয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত বাংলাদেশের ফেসবুক ব্যবহারে বিশ্বে শীর্ষে ফিলিস্তিন, বাংলাদেশের অবস্থান কত? দেবিদ্বারে বিএনপির দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি সমাবেশ, গাড়ি ভাঙচুর এক ছেলেকে কবর দিয়ে ফিরেই ছোট ছেলের লাইফ সাপোর্টের সামনে বাবা যশোর কেশবপুরে হত্যার অভিযোগে পল্লিচিকিৎসক মিঠুনসহ দুজন আটক নওগাঁয় ডিবির অভিযানে ২ কেজি গাঁজাসহ চাঁপাইনবাবগঞ্জের যুবক গ্রেপ্তার মালয়েশিয়ায় বিনা খরচে চাকরি, লটারিতে বাছাই ৩০০ বাংলাদেশি রাষ্ট্রদ্রোহে জড়িতদের তালিকা হচ্ছে, কেউ ছাড় পাবেন না: মন্ত্রী চাকরি খুঁজে হতাশ? হজরত মূসা (আ.)-এর এই দোয়ায় চান কল্যাণ

হজের দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশের বিপক্ষে শক্ত অবস্থানে ওয়েস্ট ইন্ডিজ

Reporter Name / ২০ Time View
Update : রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যকার দ্বিতীয় টেস্টের চতুর্থ দিনে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দিকে নিয়ে নিয়েছে ক্যারিবীয়রা। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ৬৭.৫ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ২৮৪ রান সংগ্রহ করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের চেয়ে ৩০ রানে পিছিয়ে থাকলেও দ্বিতীয় ইনিংসের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে এখন ২৫৪ রানের লিড পেয়েছে সফরকারীরা। চতুর্থ দিনের তৃতীয় সেশনের খেলা চলাকালে এই অবস্থানে পৌঁছায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ম্যাচের এই পর্যায়ে বাংলাদেশের সামনে বড় লক্ষ্য দাঁড় করানোর সম্ভাবনা তৈরি করেছে ক্যারিবীয় ব্যাটাররা। ফলে দ্বিতীয় টেস্টের ফলাফল নিজেদের পক্ষে নিতে বাংলাদেশের বোলারদের জন্য শেষ ইনিংসে কঠিন পরীক্ষা অপেক্ষা করছে।

ম্যাচের শুরুতে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। নিজেদের প্রথম ইনিংসে তারা ৩৫৬ রান সংগ্রহ করে। জবাবে বাংলাদেশ ব্যাটিংয়ে নেমে ৩৮৬ রান তুলে প্রথম ইনিংসে ৩০ রানের গুরুত্বপূর্ণ লিড পায়। স্বাগতিকদের হয়ে ব্যাটাররা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ সংগ্রহ দাঁড় করালেও দ্বিতীয় ইনিংসে ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। শুরু থেকেই তারা ধৈর্যশীল ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি বাংলাদেশের বোলারদের ওপর চাপ তৈরি করার চেষ্টা করে। বিশেষ করে টপ অর্ডারের ব্যাটাররা উইকেটে সময় কাটিয়ে বড় ইনিংস গড়ার ভিত্তি তৈরি করেন। সেই ধারাবাহিকতায় দ্বিতীয় ইনিংসে বড় সংগ্রহের পথে এগিয়ে যায় সফরকারীরা।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট হাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন ব্র্যান্ডন কিং। তিনি ৮৪ বল মোকাবিলা করে ১০টি চার ও একটি ছক্কার সাহায্যে ৬১ রান করেন। তবে ৮৫ রানে প্রথম উইকেট হারানোর পর জাস্টিন গ্রিভসের পরিবর্তে জশুয়া ডা সিলভা ব্যাটিংয়ে এসে ব্র্যান্ডন কিংয়ের সঙ্গে দলের ইনিংস এগিয়ে নেন। ডা সিলভা ৭০ বল খেলে চারটি চারের সাহায্যে ৩৬ রান করেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলামের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে সাজঘরে ফেরেন তিনি। তার বিদায়ের সময় ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১১৯ রান। এরপর ব্যাটিংয়ে আসেন কেভিন উইকহাম। তিনি ক্রিজে এসে দলের রান বাড়ানোর পাশাপাশি বাংলাদেশের বোলারদের ওপর পাল্টা চাপ সৃষ্টি করেন।

এই ইনিংসের অন্যতম বড় আকর্ষণ ছিলেন কেভিন উইকহাম। তিনি ১০৭ বল মোকাবিলা করে সাতটি চার ও দুটি ছক্কার সাহায্যে ৭৮ রান করেন। তবে সেঞ্চুরির কাছাকাছি পৌঁছেও ইনিংসটি তিন অঙ্কে নিতে পারেননি তিনি। তাইজুল ইসলামের বলেই ক্যাচ ও বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন উইকহাম। তার বিদায়ের সময় ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ ছিল ২৮৪ রানে তিন উইকেট। অন্যদিকে অপর প্রান্তে অসাধারণ দৃঢ়তা দেখিয়ে নিজের ইনিংস এগিয়ে নিতে থাকেন কাভেম হজ। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ধৈর্য ধরে ব্যাটিং করে তিনি বাংলাদেশের বোলারদের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়ান। তার ব্যাটিংয়ের ওপর ভর করেই বড় লিডের পথে এগিয়ে যায় ক্যারিবীয় দল।

কাভেম হজের ব্যাট থেকে আসে দুর্দান্ত অপরাজিত সেঞ্চুরি। তিনি ১৪৬ বল মোকাবিলা করে ১১টি চার ও একটি ছক্কার সাহায্যে ১০২ রান করে অপরাজিত ছিলেন। টেস্ট ক্রিকেটে এমন চাপের পরিস্থিতিতে তার এই ইনিংস ওয়েস্ট ইন্ডিজের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। অন্য প্রান্তে উইকহামের সঙ্গে তার কার্যকর জুটি দলকে শক্ত অবস্থানে পৌঁছে দেয়। উইকহাম আউট হওয়ার পরও হজ নিজের ব্যাটিংয়ের ছন্দ ধরে রাখেন। শেষ পর্যন্ত ২৮৪ রানে তিন উইকেট হারিয়ে দিনের ওই পর্যায়ে ব্যাটিং করছিল সফরকারীরা। উইকেটে তখন তার সঙ্গে ছিলেন উইকেটরক্ষক ব্যাটার অ্যান্ডারসন জাঙ্গু। তিনি এক বল খেলে কোনো রান না করেই অপরাজিত ছিলেন।

বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে তাইজুল ইসলাম সবচেয়ে সফল ছিলেন। তিনি ২৪.৫ ওভার বল করে ১০০ রান খরচায় দুটি উইকেট তুলে নেন। অন্যদিকে মেহেদী হাসান মিরাজ ১৮ ওভারে ৫৪ রান দিয়ে একটি উইকেট পান। হাসান মাহমুদ ১০ ওভারে ৫১ রান এবং তাসকিন আহমেদ ১১ ওভারে ৫১ রান দিলেও কোনো উইকেট পাননি। নাহিদ হাসান চার ওভারে ২২ রান খরচ করেন। দলীয়ভাবে বাংলাদেশের বোলাররা তিনটি উইকেট নিতে সক্ষম হলেও ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটারদের বড় ইনিংস খেলার সুযোগ পুরোপুরি আটকাতে পারেননি। বিশেষ করে হজ ও উইকহামের ব্যাটিং বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করে।

সব মিলিয়ে দ্বিতীয় টেস্টের চতুর্থ দিনে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই নিজেদের হাতে নিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। প্রথম ইনিংসে ৩০ রানে পিছিয়ে থাকার পর দ্বিতীয় ইনিংসে ২৮৪ রান তুলে ২৫৪ রানের লিড পাওয়ায় ম্যাচে তাদের অবস্থান শক্ত হয়েছে। এখনো ব্যাটিং করার সুযোগ রয়েছে সফরকারীদের হাতে। ফলে শেষ পর্যন্ত তারা কত রানের লক্ষ্য বাংলাদেশের সামনে দাঁড় করায়, সেটিই হয়ে উঠেছে ম্যাচের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অন্যদিকে বাংলাদেশকে ম্যাচে ফিরতে হলে দ্রুত বাকি উইকেটগুলো তুলে নেওয়ার পাশাপাশি চতুর্থ ইনিংসে ব্যাট হাতে বড় পরীক্ষা দিতে হবে। সিলেট টেস্টের শেষ দিনের লড়াইয়ে কোন দল শেষ পর্যন্ত জয় তুলে নেয়, তা নির্ভর করবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের চূড়ান্ত সংগ্রহ এবং বাংলাদেশের ব্যাটিং পারফরম্যান্সের ওপর।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
amazing-link-zeus.ca