মোঃ হারুন-উর-রশীদ,ফুলবাড়ী(প্রতিনিধি)থেকে;
আর মাত্র কয়দিন বাকি দূর্গাপূজা কে সামনে রেখে প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার মৃৎশিল্পীরা তবে এবারে মহামারী করোনা ভাইরাসের কারণে জিনিস পত্রের দাম বেশী হওয়ায় ও প্রতিমায় লাভ কম হওয়ায় অসন্তষ্ট প্রকাশ করেছেন তারা।
জানা গেছে, এবার উপজেলায় ৭টি ইউরিয়ন ও একটি পৌরসভায় প্রায় ৫২ টি মন্ডপে পালিত হবে শারদীয় দূর্গোৎসব। এ উৎসব উপলক্ষে প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন উপজেলার মৃৎশিল্পীরা। বর্তমানে বাঁশ, খড় ও কাঁদামাটি দিয়ে প্রতিমার অবকাঠামো তৈরি ও প্রলেপ দেওয়ার প্রাথমিক কাজ শেষ করেছেন অনেকেই । কিছু কিছু মন্ডপে প্রতিমা গায়ে রং তুলির আঁচড় দিতেও দেখা যায়। সময় মতো কাজ শেষ করতে পুরুষদের পাশাপাশি নারীরাও প্রতিমা তৈরিতে সহযোগিতা করছেন।
উপজেলার শিবনগর উনিয়নের কলিরহাট গ্রামের মৃৎ শিল্পী জীবন কুমার রায় বলেন, আমি ও আমার কাকাসহ আমরা ৫টি মন্ডবের প্রতিমা তৈরীর কাজ নিয়েছি। প্রকার ভেদে কোনটা ২৫ হাজার আবার কোনটা ৩০ হাজার করে কন্ট্রাক নেওয়া আছে। বাস,সুতলী মাটিসহ প্রতিমা তৈরীর উপকরন সংগ্রহ করতে অনেক টাকা লেগে যাচ্ছে। এবার খরচ অনেক বেশি হওয়ায় লাভ কম হবে।
উপজেলার কেন্দ্রীয় শ্যামাকালী মন্দিরে দূর্গা প্রতিমা তৈরী করছেন মৃৎ শিল্পী বাবলু চন্দ্র রায়। তিনি বলেন, সঠিক সময় কাজ শেষ করতে হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করছি। সময়মতো নাওয়া খাওয়া হচ্ছেনা। রাত জেগে কাজ করতে হচ্ছে। মহমারী করোনা ভাইরাসের কারনে জিনিষপত্রের দাম অনেক বেশি হওয়ায় প্রতিমা তৈরীতে খরচ বেশি হচ্ছে সে হিসেবে লাভ খুব একটা হবে না।
দিনাজপুর পুজা উদযাপন কমিটির সদস্য ফুলবাড়ী প্রেসক্লাবের সভাপতি প্রভাষক অমরচাদ গুপ্ত অপু বলেন, দূর্গতিনাশিনী দেবী দুর্গার আগমনী বার্তায় ভক্তকূলে মধ্যে আনন্দের জোয়ার ও উৎসবের হাওয়া বইছে। এবারে মা দূর্গা ঘোড়ায় আগমন ও দোলায় গমন করবেন। করনা ভাইরাসের কারনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শারদীয় দুর্গা উৎসব পালনে সকল পুজা মন্ডপে প্রশাসনের পাশাপাশি পুজা উদযাপন কমিটির নির্দেশনা দেওয়া আছে। আগামী ১১ অক্টোবর ষষ্ঠী পূজার মাধ্যমে শুরু হয়ে ১৫ অক্টোবর বিজয়া দশমী হবে।পরের দিন প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে স্বারদীয় দূর্গোউৎসবের আনুষ্ঠানিকতা।
ফুলবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আশ্রাফুল ইসলাম বলেন, আসন্ন স্বারদীয় দূর্গা উৎসকে সামনে রেখে আমরা প্রসাশনের উচ্চ পর্যায়ে দফায় দফায় মিটিংক করছি। উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় প্রায় ৫২ টি পূজামন্ডপে পুজা অনুষ্ঠিত হবে। শর্তকতার সহিত পুলিশ প্রসশনের পাশাপাশি বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন কাজ করছে। যেকোন অপ্রীতিকর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আমরা সজাক রয়েছি।