রাজশাহীতে জাতিয় পার্টির সংবিধান সংরক্ষন দিবস পালন ‘সংবিধান অনুযায়ী সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক চর্চা করতে পারছি না’

প্রকাশিত: ৮:০৭ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ৭, ২০২০

‘বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী প্রকৃত গণতন্ত্রের স্বাদ গ্রহণ করা সম্ভব নয়। বর্তমানে সংবিধানের কারণে সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক চর্চা করতে পারছি না’, বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টির রাজশাহী মহানগর এর আহবায়ক ও কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলাম স্বপন। রবিবার বিকেলে জাতীয় পার্টি রাজশাহী মহানগর কার্যালয়ে সংবিধান সংরক্ষন দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় রাজশাহী মহানগর জাতীয় পার্টির সদস্য সচিব ড: মোহাম্মদ আবু ইউসুফ সেলিমের উপস্থাপনায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

সাইফুল ইসলাম স্বপন বলেন, ১৯৯০ সালের আজকের এই দিনে বিচারপ্রতি শাহবুদ্দিনের হাতে শান্তিপূর্ন ভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করে গনতন্ত্রকে রক্ষা করেছিলেন রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। তিনি বলেন, বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী সরকার প্রধান সকল কর্মকা-ের কেন্দ্রবিন্দু থাকেন। এ কারণে আমাদের দেশে প্রকৃত গণতান্ত্রিক ধারা অর্জিত হচ্ছে না। এ কারণে আগে পরে যারা রাষ্ট্র পরিচালনা করেছেন তাদের সবাইকে স্বৈরাচার বলা হয়েছে। কিন্তু সবাই মিলে দোষ দিয়েছেন শুধু একজনকে তিনি হচ্ছেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। এই অপবাদ দিয়েই এরশাদ ও জাতীয় পার্টির ওপর চরম অন্যায়-অবিচার করা হয়েছে।

রাজশাহী মহানগর জাতীয় পার্টির সদস্য সচিব ড: মোহাম্মদ আবু ইউসুফ সেলিম বলেন, ১৯৯০ সালের আগে ও পরে যারা রাষ্ট্র ক্ষমতা গ্রহণ করেছে তাদের সবাইকেই স্বৈরাচার নামে অভিহিত করা হয়েছে। ‘আমরা সংসদীয় পদ্ধতির মূল স্পিরিট বা আসল ধারণা গ্রহণ করতে পারিনি। ৭০ ধারা অনুযায়ী সংসদ সদস্যরা নিজেদের বিবেক বুদ্ধি বা বিবেচনার ওপরে সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। দলের সঙ্গেই তাদের থাকতে হয়, দলের বাইরে তারা যেতে পারে না। সংসদকে সকল কর্মকা-ের আসল কেন্দ্রবিন্দু করা আমাদের সংবিধান অ্যালাও করে না এবং সংসদের কাছে মন্ত্রীদের জবাবদিহিতা এটাও আমাদের সংবিধান অ্যালাও করে না। সরকার দলীয় সংসদ সদস্যরা মন্ত্রীদের কর্মকা-ের বিরোধিতা করতে পারে না।

ড: মোহাম্মদ আবু ইউসুফ সেলিম বলেন, যদি সংবিধানের ৭০ ধারা উঠিয়ে দেয়া হয় এবং এমপিরা সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ভোট দিতে পারে তাহলে সরকারের স্থায়ীত্ব কমে যাবে, এতে প্রতি মাসেও সরকার পরিবর্তন হতে পারে, কোন বিল পাস করতেও সমস্যা হবে সরকারের। এমন আর্থসামাজিক পরিস্থিতিতে আমরা পূর্ণ গণতন্ত্র চর্চার জন্য উপযুক্ত হতে পেরেছি কিনা তাও বিবেচনা করার সময় এসেছে।

তিনি বলেন, জাতীয় পার্টি সংবিধান সংরক্ষণ করতে সব সময় কাজ করে যাচ্ছে। গণতন্ত্রকে সমুন্নত রাখতে আমরা আজীবন কাজ করে যাব। জাতীয় পার্টির বড় অর্জন অন্য কোন কায়দায় ক্ষমতায় থাকতে না চেয়ে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সংবিধানকে সমুন্নত রেখে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ক্ষমতা হস্তান্তর করেছেন। অন্যায়-অবিচারের মধ্যেও জাতীয় পার্টি সংবিধান সমুন্নত রাখতে রাজনীতি করে যাচ্ছে। জাতীয় পার্টি কাজ করছে গণতন্ত্র বজায় রাখতে এবং গণতন্ত্র বিকশিত করতে।

জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সাজিদ রওশন ইশান বলেন, দেশে বিশ্বজিৎ হত্যা হয়, আবরার হত্যা হয়। সারের জন্য কৃষককে হত্যা হতে হয়, এটাকে আমরা গণতন্ত্র বলতে পারি না। এরশাদকে যারা স্বৈরাচার বলেন, তাদের লজ্জা করা উচিৎ কারণ, রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য তাদের সবাইকে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের কাছে যেতে হয়েছে। তিনি বলেন, দেশের ৮৯ ভাগ উন্নয়ন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের শাসনামলে হয়েছে। জেলখানায় থেকে ৫টি করে আসনে নির্বাচিত হয়ে প্রমাণ করেছেন এরশাদ কতটা জনপ্রিয় ছিলেন।

আলোচনা সভায় রাজশাহী মহানগর জাতীয় পার্টির আহবায়ক কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম, আনোয়ার হোসেন দীপক, এশারুল ইসলাম, আব্দুস সালাম, চন্দ্রিমা থানা সদস্য সচিব, ইফতেকার আলম বাদল, মতিহার সেচ্ছাসেবক পার্টি সভাপতি নজরুল ইসলাম, ছাত্র সমাজ নেতা মাকসুদ জ্যাকি, শাওন আহম্মেদ, নারী নেতৃত্ব পাপিয়া, সিমীত নাহার, হিমেল প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।