• সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ০৪:১৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম
চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে বৃত্তি পরীক্ষা–২০২৫ কৃতি শিক্ষার্থীদের মাঝে সনদ, ক্রেস্ট ও বৃত্তি প্রদান করা হয়েছ। পুনরায় শুরু হলো টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সিজার কার্যক্রম রাস্তা ঠিক করতে এসে উল্টো ইট তুলে নিয়ে পালিয়েছে এলজিইডি’র ঠিকাদার মৌলভীবাজারে মসজিদের ভেতরে ঢুকে মুসল্লিকে নির্মম হত্যা; ঘাতক গ্রেফতার কুমিল্লায় হামে আক্রান্ত হয়ে আরও এক শিশুর মৃত্যু, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬। গ্রামজুড়ে হেপাটাইটিস ‘এ’ ভাইরাসে শতাধিক আক্রান্ত, আতঙ্কে এলাকাবাসী চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত-২ জ্বালানি সংকট ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবিতে নওগাঁয় ১১ দলীয় জোটের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ রাজাপুরে ভাড়া বাসা থেকে পুলিশ কনস্টেবলের স্ত্রীর লাশ উদ্ধার নরসিংদীতে রাস্তায় পড়ে থাকা এসএসসি পরীক্ষার ২৬৮ খাতা উদ্ধার

Reporter Name / ১৬২ Time View
Update : সোমবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

শিবগঞ্জের ২ অন্ধ সন্তান সহ অসহায় সুপচাঁন-রীমার পাশে দাড়ানোর কি কেউ নেই ?

হাবিবুল বারি হাবিব, শিবগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ :

সুপচাঁন আলী । চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ পৌরসভার ৩ নাম্বার ওয়ার্ডের বড়চক দৌলতপুর এলাকার একজন বাসিন্দা । দরিদ্র, অসহায়, ভূমিহীন ও সুবিধাবঞ্চিত কোনটিতেই যেন কমতি নেই তার । দীর্ঘদিন থেকেই হাঁপানি সহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত কর্মহীন এই ব্যক্তিটির কাঁধেই ছিল পাঁচ সদস্যের পরিবার চালানোর এক গুরুদায়িত্ব । এরই মধ্যে গত পাঁচ বছর আগে তার পাঁচ বছর বয়সী পুত্র সন্তানের দুচোখেই টিউমার ধরা পড়ে । শূন্যহাতে আশেপাশের মানুষের সহযোগীতা নিয়েও সন্তানের চিকিৎসা করাতে না পেরে শেষ সম্বল ভিটেমাটিটুকু বিক্রি করতে হয় তাকে ।

প্রায় তিন লক্ষ টাকা খরচ করে সন্তানের দুই চোখ তুলে ফেললেও কিছুদিন পর মারা যায় তাদের আদরের সন্তান । শেষ সম্বল ও সন্তান উভয়টিই হারিয়ে রাস্তায় বসে যায় পরিবারটি । ভোগু বিশ্বাস নামীয় স্থানীয় এক ব্যক্তি তার আমবাগানে কুঁড়েঘর তুলে বসবাসের সুযোগ দেন অসহায় পরিবারটিকে । অন্যের বাসায় কাজ ও ভিক্ষা করে কোন রকমে চলতে থাকা পরিবারটিকে নিয়তি কিন্তু ছেড়ে যায়নি ।

মেজো সন্তানটির বাম চোখে আবারো ধরা পড়ে টিউমার । চিকিৎসক চোখ তুলে ফেলতে বললে অবুঝ শিশুটি তার পিতামাতার প্রতি আকুতি জানায় তাকে যেন অন্ধ না করা হয় । এক দিকে চিকিৎসকের চোখ তুলে ফেলার পরামর্শ, অন্যদিকে চোখ না তুলতে সন্তানের আকুতি, খরচের বিষয়টিতো আছেই । এমতাবস্থায় মা-বাবার বুক ফাটা কান্না ছাড়া আর কি থাকতে পারে ? কিন্তু এতেই কি শেষ ? আবারো নিয়তির ভয়াল থাবা যেন আঘাত করলো অসহায় সেই পরিবারটির উপর ।

ফুটফুটে উজ্জ্বল চেহারার আড়াই বছরের ছোট সন্তানটিরও দু চোখেই ধরা পড়ে ক্যান্সার । দ্রুত চোখ তুলে না ফেললে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা থাকার কথা জানান চিকিৎসকরা । একদিকে পাঁচ বছর আগে দুচোখ তুলে ফেলা বড় সন্তানের মৃত্যু এবং মেজো সন্তানের বাম চোখে টিউমার আবার আদরের ছোট সন্তানের দুচোখেই ক্যান্সার । এমতাবস্থায় ভূমিহীন ও দরিদ্র এই পরিবারের কর্তা বাবা মায়ের অসহায়ত্ব কোন পর্যায়ে যেতে পারে ?

দুচোখ ভরা অশ্রু আর বুক ফাটা কান্না নিয়ে বিভিন্ন জায়গা থেকে সহযোগীতার কিছু অর্থ জোগাড় করে সন্তানের জীবন বাঁচাতে গিয়ে বাধ্য হলো দু চোখ উঠিয়ে ফেলতে । গত ১২ ই জানুয়ারি ২০২২ তারিখ রাজশাহী মেডিকেলে আড়াই বছরের আদরের ফুটফুটে সন্তানটির দু চোখ তুলে ফেলতে হয় ।

হঠাত করে চিরদিনের জন্য বন্ধ হয়ে যায় দুধের বাচ্চাটির মা বাবার মুখ দেখার স্বাদ । আর কোনদিন সে দেখতে পাবে না মায়ের মায়াবি মুখ, দেখতে পাবে না চকলেট সহ দূর থেকে ডাকতে থাকা বাবার হাত । সমবয়সী বাচ্চাদের দৌড়াদৌড়ি ও হাঁসিমজা করে খেলাধুলার শব্দ কানে এসে মন চাইলেও পারবেনা সে অংশগ্রহন করতে । প্রবল ইচ্ছে থাকলেও দেখতে পাবে না আর পৃথিবীর কোন আলো । এমতাবস্থায় সরকার, স্থানীয় প্রশাসন এবং সকলের সহযোগীতা নিয়ে মেজো সন্তানটির চিকিৎসা নিয়ে ও অন্ধ ছোট শিশুটিকে নিয়ে বাঁচার আকুতি জানিয়েছেন মো: সুপচাঁন আলী ও তার সহধর্মীনি মোসা: রীমা খাতুন ।

বর্তমানে নিঃস্ব ও অসহায় এই পরিবারটি তাকিয়ে আছে সরকার ও জনপ্রতিনিধি সহ সকলের সার্বিক সহযোগীতার আশায় । এদিকে ভূমিহীন হিসেবে সরকারি ঘরের জন্য স্থানীয় মাননীয় সংসদ সদস্য সহ সরকারি দপ্তরে কয়েক দফায় দরখাস্ত দিয়েও আশার মুখ দেখেনি পরাবিরটি । সরকারি একটি বাড়ি সহ সার্বিক সহযোগীতার জন্য বর্তমান সরকারের স্থানীয় জনপ্রতিনিধি বৃন্দ এবং দায়িত্বরত প্রশাসনিক কর্মকর্তাবৃন্দ সহ সকলের নিকট আকুল আবেদন জানিয়েছেন অসহায় পরিবারটি । সেই সাথে তার এলাকাবাসী পরিবারটির সার্বিক সহযোগিতায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান । এ বিষয়ে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো: জুম্মন আলী বলেন, মো: সুপচাঁন আলী আসলেই একজন অসহায় ব্যক্তি, তার ৩ সন্তানের প্রথম সন্তান অন্ধ হয়ে মারা গেছে, দ্বিতীয় সন্তানের চোখে টিউমার, অর্থের অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছেনা, আবার ছোট সন্তাটিরও দু’চোখ তুলে ফেলা হয়েছে । সে নিজেও হাঁপানি রোগী হওয়ায় কোন কর্ম করতে পারছেনা । অপরদিকে আমি যাচাই করে দেখেছি, সে একজন ভূমিহীন ব্যক্তি । পৌরসভায় সরকারি বাড়ির বরাদ্দ না আসায় আমি বাড়ির ব্যবস্থা করতে পারিনি, তবে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি এই ভূমিহীন অসহায় পরিবারটিকে একটি সরকারি বাড়ির ব্যবস্থা করে দেয়ার জন্য । আমরা পৌরসভা থেকে যতটুকু সম্ভব সহযোগীতা করতে চেষ্টা করেছি, কিন্তু সেটুকু তার অসহায়ত্বের তুলনায় অপ্রতুল । এসময় স্থানীয় এবং দেশ-বিদেশে অবস্থান কারী সকলের প্রতি পরিবারটিকে সাধ্যমত সহযোগীতা করতেও আহ্বান জানিয়েছেন কাউন্সিলর মো: জুম্মন আলী ।

এজন্য নিম্নে দেয়া ফোন নাম্বারে যোগাযোগ ও বিকাশ নাম্বারে আপনারা সহযোগীতা পাঠাতে পারেন । যোগাযোগ ও বিকাশ (পার্সোনাল) নাম্বার : ০১৭৭০৭৮৩৬৪৮


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category