• বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৫৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
নাচোলে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহের সমাপনি ও পুরস্কার বিতরণ বেলগাছি রেলওয়ে স্টেশন অবহেলায় জর্জরিত, চরম দুর্ভোগে যাত্রীরা টাঙ্গাইলে পরিমাপে জ্বালানি তেল কম: ৫০ হাজার টাকা জরিমানা চিতলমারীতে হতদরিদ্র রিনা বেগম পেলেন নতুন গৃহ বেনাপোলে পণ্য পরিবহন বন্ধ রেখে বন্দর চেয়ারম্যানের পদত্যাগ দাবি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় রাজস্ব আদায় ও ভূমি সেবায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসকের কঠোর নির্দেশনা রাজবাড়ীতে আগাম ইরি ধান কাটা শুরু, খুশির সাথে দুশ্চিন্তায় কৃষকরা ঘাটাইলে দুই ইটভাটাকে ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা জরিমানা; ধান খেত নষ্ট করায় একটির আগুন নিভিয়ে দিল মোবাইল কোর্ট নওগাঁয় মান্দায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, জরিমানা ৫০ হাজার চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে রায়হান ফিলিং স্টেশনে পুলিশ সদস্যকে মারধরের ঘটনায় ম্যানেজারসহ ৩জনকে আটক করেছে পুলিশ।

গত দু’বছর বন্ধ থাকার পর মহেশপুরের ফতেপুরে ঐতিহ্যবাহী চড়কপূজা আবারও শুরু শনিবার শেষ

Reporter Name / ৩২৩ Time View
Update : শনিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২২

শহিদুল ইসলাম ঝিনাইদহ মহেশপুর থেকেঃ-

গত দু’বছর বন্ধ থাকার পর ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার ফতেপুর বকুলতলা বাজারে ঐতিহ্যবাহী চড়ক পূজার মেলা আবারও শুরু।

মেলার সভাপতি শ্রী সাধন কুমার ঘোষ জানান, আমাদের পূর্ব পুরুষেরা এই উৎসব দীর্ঘদিন ধরে পালন করে আসছে তাই তাদের দেখাদেখি আমরাও এই উৎসবটি আনান্দের সাথে পালন করে থাকি। ১লা বৈশাখ থেকে মেলা শুরু হয়ে চলে তিনদিনব্যাপী। মেলার প্রধান আর্কষন শেষ দিন ৩রা বৈশাখ(শনিবার) চড়কপূজা উপল¶ে হিন্দু ধর্মীয় কিছু লোক সন্যাসী সেজে পিঠে লোহার বড়শি ফুঁটিয়ে চড়ক গাছে তুলে রসির সাথে বেঁধে ঘুরানো হয়। এবছর পর্যাক্রমে ৫জন সন্যাসীকে এইভাবে পিঠে বড়শি ফুঁটিয়ে চড়ক গাছে তুলে ঘুরানো হবে। এবার যারা সন্যাসী সেজেছে বা পিঠে বড়শি ফুঁটিয়ে চড়ক গাছে উঠে ঘুরবেন তারা হলেন বিপ্লব কর্মকার,অধীর হালদার,বসুদেব রায়, মনা কর্মকার ও ভীম হালদার। চড়ক পাক দেয়া হয় দুপুরের পর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত। কিন্তু এ বছর রমজানের কারণে ৫টার আগেই ঘুরানো শেষ হয়ে যাবে।
মেলার সভাপতি আরো জানান, তারা এই চড়ক পূজায় সন্্যাসীদের পিঠে বরসি ফুঁটিয়ে চড়ক গাছে তুলে ঘুরানোকে চড়কপূজা হিসেবে আখ্যায়িত করে থাকে। এবছর ১৬ই এপ্রিল ৩রা বৈশাখ রোজ শনিবার সন্ন্যাসীদেরকে চড়ক গাছে ঘুরানো হবে। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে হিন্দু স¤প্রদায়ের লোকজন এই মেলাটি দেখতে আসে। এমনকি পাশ্ববর্তী রাষ্ট্র ভারত থেকে হিন্দু স¤প্রদায়ের লোকজন এই মেলা উপভোগ করতে এসে থাকে। এবারও তার ব্যতিক্রম নয়। এই মেলায় বিভিন্ন ধরনে দোকান পাসারী বসিয়ে মেলাকে জমজমাট করে তোলা হয়। গ্রামের প্রবীন ব্যক্তি সুবোল হালদার বলেন, এই মেলা আগে কপোতাক্ষ নদের পাড়ে শ্রী অমুল্য বাবু জজ সাহেবের জমিতে হাট খোলায় অনুষ্ঠিত হতো (বর্তমানে আশ্রয়ন প্রকল্প করা হয়েছে)। এই চড়ক পূজার মেলা কখন থেকে কিভাবে শুরু হয়েছে তার সঠিক কোন ইতিহাস পাওয়া যায়নি। ঐতিহাসিকদের মতে, ৪/৫শ বছর পূর্ব থেকে এই পূজা চলে আসছে বলে ধারণা করা হয়। ব্রিটিশ আমলে ফতেপুরের জজ সাহেব শ্রী অমুল্য কুমার চট্রোপাধায়, কলকাতা কলেজের অংক শাস্ত্রের শিক্ষাবিদ নগেন্দ্রনাথ মজুমদার, শ্রী মিলাম্বর মুখ্যোপাধ্যায়, কাশ্মীর মহারাজের মন্ত্রী পরে কলকাতা মিউনিসিপ্যালের ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন, পি মুখার্জী তৎকালীন ক্যাম্ব্রিজ ইউনিভারসিটি থেকে সর্বোচ্চ ডিগ্রী নিয়ে বঙ্গ দেশে উচ্চ পর্যায়ের সরকারী চাকুরী করেন। এই সকল ব্যক্তিদের পৃষ্ঠপোষকতায় সে সময় এই মেলা পরিচালিত হতো। বর্তমানে এখানকার হিন্দুরা ভারতে পাড়ি জমানোর কারনে মেলাটি অদূর ভবিষ্যতে বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিভিন্ন ইতিহাস থেকে জানা যায়, সেন বংশের শাসন আমলে কাশ্মির থেকে চড়ক পূজা শুরু হয়। সে সময় শিব ভক্ত একজন হিন্দু ব্যক্তি কঠিন রোগে আক্রান্ত হলে তাকে বিভিন্ন উপায়ে রোগ সারানোর চেষ্টা করা হয়। পরে তার পিঠে বড়শি ফুঁটিয়ে রক্ত ঝরিয়ে শিবকে পূজা করার পর তার রোগ মুক্তি হয়। সেখান থেকে এই চড়ক পূজার সৃষ্টি হয়েছে বলে এক ইতিহাস থেকে জানা যায় তবে এ নিয়েও মতৈনক্য রয়েছে। আগে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন এই মেলাকে কেন্দ্র করে পূরা চৈত্র মাস পাড়ায় পাড়ায় বালাকি গান করতো। সন্ন্যাসীরা গভীর রাতে শীব পূজা করতো এবং সপ্তাহ ধরে ফল-ফুল্ললী খেয়ে জীবন ধারন করতো। পূজা কমিটির লোকজন ঢাক-ঢোল বাজিয়ে মেলার ২/৩দিন আগে ফতেপুরের কপোতাক্ষ নদ থেকে চড়ক গাছ তুলা হতো। এ বিষয়ে রয়েছে অনেক কিংবদন্তি। বর্তমানে চড়ক মেলা ছাড়া অন্যা কোন আনুষ্ঠানিকতা আর হয় না। হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন ক্রমাš^য়ে ভারত চলে যাওয়ায় মেলাটি আস্তে আস্তে ঐহিত্য হারিয়ে ফেলছে। পূজা কমিটির লোকজন এবারও বিপুল পরিমানে লোক সমাগম হবে বলে আশা প্রকাশ করছে। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান শেখ গোলাম হায়দার লান্টু জানিয়েছেন, এই উৎসব পালনের জন্য ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে সব ধরণের সহযোগিতা করা হচ্ছে। পরিষদের পক্ষ থেকে তথ্য কেন্দ্র খোলা হবে এবং আইন-শৃক্সখলা রক্ষার জন্য ¯ে^চ্ছাসেবক বাহিনী মোতায়েন থাকবে। এ দিকে এই মেলাকে কেন্দ্র করে মহেশপুর থানার অফিসার ইনচার্জ সেলিম মিয়া জানান, পুলিশের পক্ষ থেকে নিরাপত্তার সব ধরণের ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category