কোম্পানীগঞ্জের চরএলাহীতে আওয়ামীলীগের দু’গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় আহত ২০, আটক ৫

প্রকাশিত: ৭:৩৬ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ৫, ২০২১

মোঃ গিয়াস উদ্দিন রুবেল (নোয়াখালী প্রতিনিধি):
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী কর্মসূচিতে আসার সময় আওয়ামীলীগের দু’গ্রুপের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে চর এলাহী ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান রাজ্জাকসহ উভয়পক্ষের অন্তত ২০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছে। ভাঙচুর করা হয়েছে কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন বসুরহাট হাসপাতাল গেইটে সকাল ১১টায় এ ঘটনা ঘটে। আহতরা কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

সংঘর্ষে আহতরা হচ্ছেন উপজেলার চর এলাহি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক (৪৯), তার ছেলে রাজিব (২০), একই ইউনিয়নের আব্দুর রবের ছেলে দেলোয়ার হোসেন (৫৫), আব্দুল মমিনের ছেলে এনাম (৩২), ওজি উল্যার ছেলে রাসেল (২৫), ধনু মিয়ার ছেলে রফিকুল ইসলাম জীবন (৩৬), বেলাল হোসেন (২৫), আবুল খায়েরের ছেলে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আবুল কালাম (২৫), আব্দুল মন্নানের ছেলে আব্দুল মালেক (৪০), তার ভাই আব্দুর রহমান (২৩), দেলোয়ার হোসেন (৩৮), মো. এনাম (৩৩), জামাল উদ্দিন (৩৪), মোঃ বাহার (৩৫) সহ কমপক্ষে ২০ জন। এছাড়াও মিয়া ড্রাইভার (৫২), আবদুর রহমান (৪৯) নামে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদেরকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এ ঘটনায় পুলিশ চর এলাহী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুর রাজ্জাকসহ ৫ জনকে আটক করেছে। আটককৃত অন্যরা হলেন চরএলাহী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবদুর রাজ্জাকের ছেলে রাজিব হোসেন, মো. শরীফ, আল মাহাদী ফয়সল ও আবুল কালাম।

সংঘর্ষের ঘটনায় চর এলাহী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল গণি বাদী হয়ে চর এলাহী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবদুর রাজ্জাককে প্রধান আসামি করে ১১জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৪/৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে।

আবদুল গণি দাবি করেছেন, চেয়ারম্যান আবদুর রাজ্জাকের ব্যক্তিগত ক্যাডার ও শিবিরের দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী আল মেহেদী ফয়সাল ও আবুল কালামের নেতৃত্বে তাদের ওপর হামলা করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলা চত্বরে ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে সকালে চর এলাহী ইউনিয়ন থেকে বাসযোগে ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা একটি মিছিল নিয়ে বসুরহাট বাজারে আসছিল। মিছিলটি বসুরহাট হাসপাতাল গেইট এলাকায় পৌঁছলে ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে রাজিবকে উদ্দেশ করে মিছিলে থাকা কয়েকজন উস্কানিমূলক কথা বলে। এতে মিছিলে থাকা চর এলাহী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহাব উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক আবদুল গণির নেতৃত্বাধীন গ্রুপের সঙ্গে ইউনিয়ন চেয়ারম্যানআ. রাজ্জাক গ্রুপের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ ঘটে। সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে। এসময় সংঘর্ষে লিপ্তরা ওই এলাকার কালার ভিউ ডিজিটাল স্টুডিওসহ কয়েকটি দোকান ভাঙচুর করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এ বিষয়ে চর এলাহী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সাহাব উদ্দিন মেম্বার ও চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক একে অপরকে অভিযুক্ত করে বক্তব্য দেন।

কোম্পানীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর জাহেদুল হক রনি জানান, চর এলাহী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবদুর রাজ্জাক ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল গনি গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকজন আহত ও কয়েকটি দোকান ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ইউপি চেয়ারম্যান রাজ্জাকসহ ৫ জনকে আটক করা হয়েছে।