স্বরূপকাঠির পৌর নির্বাচনে দলীয় বিদ্রোহী প্রার্থী প্রতীক বরাদ্দ নিয়ে টেনশনে আওয়ামীলীগ ও বিএনপি

প্রকাশিত: ১০:৩৮ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১১, ২০২১

সুমন খান :

পিরোপুর নেছারাবাদ স্বরূপকাঠি পৌরসভা নির্বাচনের
– গতকাল সোমবার প্রার্থীসহ কাউন্সিলরদের নির্বাচনীয় প্রতীক বরাদ্দ দিয়েছেন নির্বাচনীয় পিরোজপুর জেলা অফিস। প্রতীক পেয়েই প্রচার-প্রচারণায় জমে উঠছে স্বরূপকাঠির পৌরসভায় নির্বাচন। পৌর নির্বাচনকে ঘিরে প্রার্থীরা সকাল থেকে গভীর রাত পর্যান্ত ভোটারদের মন জয় করতে উন্নয়নের নানান প্রতিশ্রুতি নিয়ে দ্বারে দ্বারে ছুটছেন। ৩০ জানুয়ারি তৃতীয় ধাপের পৌর নির্বাচনে স্বরূপকাঠিতে পৌর মেয়র পদে আওয়ামীলীগের দলীয় মনোনীত প্রার্থী বর্তমান মেয়র ও জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য গোলাম কবির নৌকা পেলেও দলটির বিদ্রোহী প্রার্থী পৌর যুবলীগের সভাপতি শিশির কর্মকার জগ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনীয় মাঠে রয়েছেন। বিএনপির সাবেক মেয়র ও বর্তমান পৌর বিএনপির সভাপতি শফিকুল ইসলাম ফরিদ মেয়র পদে দলীয় মনোনয়ন পেয়ে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনীয় মাঠে গণসংযোগের পাশাপাশি সুষ্ঠু ও নিরপক্ষ নির্বাচনের দাবিতুলে ভোটাদের পর্যবেক্ষণ করছেন দলটি। তবে এ দলটিরও গলার কাটা হয়ে দাড়িয়েছে বিদ্রোহী প্রার্থী। উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও সাবেক উইপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ নারিকেল গাছ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন। উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক নাছির উদ্দিন তালুকদার বিএনপির পরিস্থতির এ তথ্য জানান। অন্যদিকে আবুল কালাম আজাদ গণমাধ্যমকে বিদ্রোহী প্রার্থী নয়, স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী হিসেবে দাবি করেন। বৃহত্তর এ দুই দলই দলীয় প্রতীক নিয়েও নির্বাচনীয় মাঠে স্বস্ত্মিতে নেই তারা। দুই দলেই জনপ্রিয় দুই নেতাই গলার কাটা হয়ে দাঁড়িয়েছেন বিদ্রোহী প্রার্থীতায়। ফলে নির্বাচনীয় মাঠে আওয়ামীলীগ ও বিএনপির মেয়র প্রার্থীরাই নন, বিপাকে পড়েছেন দলের নেতা-কর্মী ও সমর্থকরাও। তবে উভয় দলের পদধারী একাধিক প্রার্থী থাকার সুবিধা নিতে মরিয়া হয়ে উঠছেন জাতীয় পার্টির (এরশাদ) লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি মোঃ নুরম্নল ইসলাম ও আওয়ামীলীগ ঘরানার স্বতন্ত্র প্রার্থী সহকারী অধ্যাপক মোঃ মাহামুদুর রহমান। মেয়র পদে মোট ৬ জন প্রার্থীসহ, মহিলা সংরক্ষিত কাউন্সিলর ১২জন ও পুরম্নষ সাধারণ কাউন্সিলর ৩৬ সহ মোট ৫৬জন প্রার্থী পৌর নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন। এসব প্রার্থীরা কনকণে শীতকে উপেক্ষা করে রাত-দিন চালিয়ে যাচ্ছে গণসংযোগ, পথসভা ও উঠানবৈঠকসহ নানা প্রচার-প্রচারনা। তবে প্রচার-প্রচারণায় ও হিন্দু সম্প্রদয়ের জন সমর্থনে এগিয়ে আছেন আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী পৌর যুবলীগ ও স্বরম্নপকাঠির প্রেসক্লোবের সভাপতি শিশির কর্মকার। অন্যাদিকে বর্তমান মেয়র গোলাম কবির আওয়ামীলীগ মনোনীত নৌকা প্রতীক নিয়ে মেয়র পদে নির্বাচনীয় মাঠে ফুরফুরে মেজাজে থাকলেও টেনশনে রয়েছেন দলীয় বিদ্রোহী প্রার্থীকে নিয়ে। রাজনৈতিক সূত্র জানায়, আওয়ামীলীগের হাই কমান্ডসহ কেন্দ্রীয় ও শীর্ষ নেতারা চেষ্টা করেও বিদ্রোহী প্রার্থীকে বসাতে না পেরে নির্বাচনীয় মাঠে বিব্রত আবস্থায় রয়েছে আওয়ামীলীগ। তবে এরই মাঝে আওয়ামীলীগ বিদ্রোহী প্রার্থী শিশির কর্মকার ও ঘরানার স্বতন্ত্র প্রার্থী মাহামুদুর রহমান তৃ-মূখী ভোটযুদ্ধে অনেকটাই আগানো, এমনটাই জানিয়েছেন পৌরবাসি। অন্যাদিকে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী সাবেক মেয়র শফিকুল ইসলাম ফরিদ ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে মাঠে নামলেও দ্বি-মুখী ভোটযুদ্ধে বিপাকে পড়েছেন দলীয় বিদ্রোহী প্রার্থী উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও সাবেক উইপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদকে নিয়ে। এদিকে জাতীয় পার্টি রয়েছে কোলঠাসা দলীয় একক প্রার্থী থাকলেও ভোটযুদ্ধে পিছিয়ে আছে এ দলটি। স্বরম্নপকাঠি পৌর সভায় মোট ১৪ হাজার ৯২১ জন তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। বেসরকারি এক জরিপে এ তথ্য জানা গেছে। প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে পৌর এলাকা জুড়ে শোভা পাচ্ছে প্রার্থীদের পোস্টার রাগানোর হিরিক। পোস্টারে ছেয়ে যাচ্ছে পৌর এলাকার প্রধান প্রধান সড়কসহ অলিগলি। বসে নেই কাউন্সিলর প্রার্থীরাও নিজ নিজ এলাকায় প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন তারাও।