• বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ০৪:৪৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম
বিচারের বাইরেই থেকে যাচ্ছে সিংহভাগ ঘটনা:৮১১ ঘটনার বিপরীতে মামলা মাত্র ৯৯! ‎উঠানে পড়ে থাকা লিচুর বিচি গলায় আটকে শিশুর মৃত্যু ‎ বালিয়াকান্দিতে মোবাইল কোর্ট: রাস্তায় কাদামাটি ফেলে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি, দুইজনকে জরিমানা ঋণের চাপে ঘাটাইলে কাঠমিস্ত্রীর আত্মহত্যা যশোরের শার্শায় যুবক হত্যার ঘটনায় পরকীয়া প্রেমিকাসহ চারজন আটক খরচের চাপে দিশেহারা কৃষক, তবু সালথার মাঠজুড়ে পাটের সবুজ সমারোহ নাচোলে সরকারীভাবে ধান, গম ও চাউল ক্রয় বিষয়ে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় নাচোলে সরকারীভাবে ধন, গম ও চাউল ক্রয় বিষয়ে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় চাঁপাইনবাবগঞ্জের সাংবাদিক তারেক রহমান ও তারেক আজিজের ওপর হামলার প্রতিবাদে নাচোলে মানববন্ধন নরসিংদীতে ‘হানি ট্র্যাপ’ চক্রের ৪ সদস্য গ্রেপ্তার

বিচারের বাইরেই থেকে যাচ্ছে সিংহভাগ ঘটনা:৮১১ ঘটনার বিপরীতে মামলা মাত্র ৯৯!

Reporter Name / ৪৩ Time View
Update : মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬

নীলফামারী জেলায় নারী ও শিশু নির্যাতনের এক ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে। গত এক বছরে (২০২৫ সালে) জেলায় মোট ৮১১টি সহিংসতার ঘটনা ঘটলেও এর বিপরীতে মামলা হয়েছে মাত্র ৯৯টি। অর্থাৎ বিপুল সংখ্যক নির্যাতনের ঘটনা লোকলজ্জা বা অন্য কোনো কারণে বিচার প্রক্রিয়ার বাইরেই থেকে যাচ্ছে। মঙ্গলবার দুপুরে নীলফামারী সদর উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে ‘জেন্ডার সমতা ও বৈষম্য নিরসনে নাগরিক সম্পৃক্ততা-ফেসিং’ প্রকল্পের উদ্যোগে আয়োজিত এক পরামর্শ সভায় এই তথ্য জানানো হয়।
​উপজেলা নাগরিক প্ল্যাটফর্মের সভাপতি আকতারুল আলম রাজুর সভাপতিত্বে সভার উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুবাশ্বিরা আমাতুল্লাহ। সভায় ডেমক্রেসিওয়াচের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বছরজুড়ে জেলায় হওয়া ৮১১টি সহিংসতার মধ্যে ৭৯৯টি নারী নির্যাতন এবং ১২টি শিশু নির্যাতনের ঘটনা। এসব সহিংসতার মধ্যে শারীরিক নির্যাতন ২২২টি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ১১০টি, গৃহ নির্যাতন ৯৫টি, জমিজমাসংক্রান্ত বিবাদ ৭৫টি, আর্থিক হয়রানি ৫৪টি এবং যৌতুক নিয়ে নির্যাতনের ঘটনা ঘটে ৫০টি। এছাড়া ধর্ষণ চেষ্টা ২৮টি, চুরি-ছিনতাই ২৩টি, অপহরণ ১৯টি, অনলাইন হয়রানি ১৬টি, ধর্ষণ ৮টি এবং ইভটিজিংয়ের ঘটনা ঘটেছে ৬টি।
​ডেমক্রেসিওয়াচের আউটরিচ কো-অর্ডিনেটর আব্দুস সেলিম জানান, তারা থানা, আদালত, মহিলা বিষয়ক কার্যালয়, ইউনিয়ন পরিষদ ও স্থানীয় পত্রিকা থেকে এই তথ্যগুলো সংগ্রহ করেছেন। তবে মাঠপর্যায়ে প্রকৃত নির্যাতনের সংখ্যা এর চেয়েও অনেক বেশি হতে পারে। নীলফামারী সদর উপজেলার টুপামারী, গোড়গ্রাম, সংগলশী ও সোনারায় ইউনিয়নকে নির্যাতনের দিক থেকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে সংস্থাটি।
​সভায় বক্তারা অভিযোগ করেন, সামাজিক প্রতিরোধের অভাব, সমাজ কাঠামোয় নারীর দুর্বল অবস্থান এবং আইনি প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতার কারণে নির্যাতনের হার বাড়ছে। এছাড়া রাজনৈতিক প্রভাব ও মান-সম্মানের ভয়ে অনেক পরিবার ঘটনা গোপন রাখায় অপরাধীরা পার পেয়ে যাচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা, বাল্যবিবাহ রোধ এবং আইনের কঠোর প্রয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা।
​অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ডেমক্রেসিওয়াচের নির্বাহী পরিচালক ওয়াজেদ ফিরোজ। এতে আরও বক্তব্য রাখেন নীলফামারী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জিল্লুর রহমান, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ফিরোজ হোসেন, সাংবাদিক নুর আলম, সদর উপজেলার সাবেক নারী ভাইস চেয়ারম্যান দৌলত জাহান ছবি ও অ্যাডভোকেট আলপনা রায়। সরকারি কর্মকর্তা, সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মীদের অংশগ্রহণে এই সভায় জেন্ডার সহিংসতা কমাতে ভবিষ্যৎ কৌশল নির্ধারণের আহ্বান জানানো হয়। বর্তমানে জেলার চারটি উপজেলায় এই সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে ফেসিং প্রকল্প।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category