• বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৪৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
রামপাল থানা পুলিশের অভিযানে চোরাই মাল সহ আসামি গ্রেফতার ভোটার স্থানান্তরের আবেদনের সময় বাড়ল, শেষ তারিখ কবে জানুন কঠিন সময়ে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী কোচ লিওনেল স্কালোনি বরগুনায় জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস পালিত, ১৫ জন পেলেন ৫১ লাখ টাকার চেক কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে আন্তঃজেলা মোবাইল চোরাকারবারি চক্রের হোতা গ্রেফতার কুমিল্লায় হাসপাতালে অনুপস্থিত ৫ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার নির্দেশ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর তাহেরপুরে মাদকবিরোধী স্লোগানে এক দিনব্যাপী ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত আনোয়ারায় চায়না ইকোনমিক জোনের প্রথম কারখানা চালু হবে ১৮ মাসের মধ্যেই নাচোলে নজরুল বর্ষ উপলক্ষে  সেমিনার ও পুরস্কার বিতরণ ইসরায়েলে নির্বাচনের দিন দাবানল, বন্ধ তিন মহাসড়ক

আব্দুল আজিজের ভিডিও নিয়ে বিতর্ক, বললেন ‘এআই দিয়ে তৈরি’

Reporter Name / ২৬ Time View
Update : বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬

নাটোর-৪ (গুরুদাসপুর–বড়াইগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর বলে দাবি করা একটি আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে তাঁর ব্যানার, ফেস্টুন ও পোস্টার ছিঁড়ে ফেলার খবরও পাওয়া গেছে। তবে ভিডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজের দাবি, ভিডিওটি ভুয়া ও সম্পাদিত এবং তাঁকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে এটি তৈরি করা হয়েছে।

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাতে আশফাক আহমেদ নামের এক প্রবাসীর ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে কয়েকটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়। ভিডিওগুলোতে এক নারীর সঙ্গে আব্দুল আজিজের বলে দাবি করা ব্যক্তিকে ভিডিও কলে কথা বলতে এবং বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গি করতে দেখা যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর বুধবার ভিডিওগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

ভিডিও প্রকাশের পর নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়া বাইপাস চত্বরসহ বিভিন্ন স্থানে সংসদ সদস্যের ব্যানার, ফেস্টুন ও পোস্টার ছিঁড়ে ফেলার খবর প্রকাশিত হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান ও ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়েও নানা আলোচনা চলছে। তবে ভিডিওটির প্রকৃত উৎস, সম্পাদনার বিষয় এবং এতে থাকা দৃশ্যের সত্যতা সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য স্বাধীন যাচাইয়ের তথ্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে ভিডিওটি নিয়ে আব্দুল আজিজ নিজেই বক্তব্য দিয়েছেন। সংবাদমাধ্যমকে তিনি জানিয়েছেন, ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও সম্পাদিত। তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ তাঁকে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভিডিওটি তৈরি বা পরিবর্তন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছে। এ ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়েও তিনি আইনজীবীদের সঙ্গে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানিয়েছেন বলে একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া দাবি ও তাঁর বক্তব্যের মধ্যে স্পষ্ট বিরোধ রয়েছে।

এই ঘটনার আগে থেকেই নাটোরের গুরুদাসপুরে পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব শাকিল ইসলাম হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা চলছিল। শাকিল হত্যা মামলায় আব্দুল আজিজের ছেলে নুরুজ্জামান মিন্টুকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে মঙ্গলবার আদালতে হাজির করে পুলিশ। তদন্তের স্বার্থে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হলে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, গত ১৪ অক্টোবর গুরুদাসপুরে হামলার শিকার হন শাকিল ইসলাম। গুরুতর আহত অবস্থায় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর ২৭ অক্টোবর তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় তাঁর বাবা রবিউল করিম ১৯ অক্টোবর গুরুদাসপুর থানায় মামলা করেন। মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে নুরুজ্জামান মিন্টুকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। তবে রিমান্ড মঞ্জুর হওয়া মানেই তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া নয়; মামলার তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় অভিযোগের সত্যতা নির্ধারিত হবে।

শাকিলের জানাজার আগে আব্দুল আজিজ বক্তব্য দিতে গেলে উপস্থিত লোকজনের একাংশ ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দেন বলে সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। ওই সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। শাকিল হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি এবং এ ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ার মধ্যেই এমপিকে নিয়ে ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি আরও আলোচনার কেন্দ্রে আসে।

ভিডিওটি প্রকাশের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে আব্দুল আজিজের পদত্যাগের দাবির কথাও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তবে কারা আনুষ্ঠানিকভাবে এই দাবি জানিয়েছেন, তাঁদের বক্তব্য এবং দলীয় পর্যায়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কি না, তা নির্ভরযোগ্য সূত্রে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো ব্যক্তির নামে ভিডিও ছড়িয়ে পড়লেই সেটিকে সত্য বলে ধরে নেওয়া উচিত নয়। বিশেষ করে এআই দিয়ে তৈরি বা সম্পাদিত ভিডিও শনাক্ত করা কঠিন হতে পারে। তাই ভিডিওটির মূল উৎস, সম্পাদনার চিহ্ন এবং নির্ভরযোগ্য যাচাই ছাড়া এর বিষয়বস্তুকে প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে প্রচার করা সমীচীন নয়। একইভাবে হত্যা মামলার অভিযোগ ও তদন্তের ফলাফলও পৃথকভাবে বিবেচনা করা জরুরি। নাটোরের এই দুই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর পরবর্তী বক্তব্য, তদন্তের অগ্রগতি এবং যাচাইযোগ্য তথ্যের ওপর।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
amazing-link-zeus.ca