‘এক রুট, এক কোম্পানি’ ব্যবস্থায় প্রায় ৮১৬টি বাস চালুর পরিকল্পনা, পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হচ্ছে নতুন সেবা
রাজধানীর গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে ‘এক রুট, এক কোম্পানি’ নীতিতে বাস পরিচালনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আজ রোববার (১ নভেম্বর) থেকে ঢাকার ছয়টি প্রধান রুটে পরীক্ষামূলকভাবে কোম্পানিভিত্তিক বাস চলাচল শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে পাঁচটি নন-এসি ও একটি এসি রুটে প্রায় ৮১৬টি বাস পরিচালনার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
নতুন ব্যবস্থায় একই রুটে বিভিন্ন পরিবহন কোম্পানির বাসের অসুস্থ প্রতিযোগিতা কমিয়ে একটি কোম্পানির অধীনে সমন্বিতভাবে বাস পরিচালনা করা হবে। নির্ধারিত স্টপেজে যাত্রী ওঠানামা, কাউন্টারভিত্তিক টিকিট ব্যবস্থা এবং বাসের জন্য পৃথক রং নির্ধারণের পরিকল্পনাও রয়েছে।
ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত ৩২টি প্রধান রুটের মধ্যে প্রথম পর্যায়ে ছয়টি রুটে এ ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত ১৮ অক্টোবর ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় রুট, বাস পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান, বাসের সংখ্যা ও স্টপেজ নিয়ে আলোচনা হয়।
ডিটিসিএর নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ মসিউর রহমানের বক্তব্য অনুযায়ী, রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরাতে ৩২টি প্রধান রুটে বাস রুট ফ্র্যাঞ্চাইজি পদ্ধতি এবং ২৫টি রুটে চক্রাকার বাস সার্ভিস চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এর অংশ হিসেবে আজ থেকে প্রথম পর্যায়ে ছয়টি সাধারণ রুটে কোম্পানিভিত্তিক বাস চলাচল শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রাথমিক তালিকায় থাকা ছয়টি রুট হলো গাজীপুর চৌরাস্তা থেকে ঢাকেশ্বরী মন্দির, গাবতলী থেকে ডেমরা, দুয়ারীপাড়া থেকে সদরঘাট, ঘাটারচর থেকে ডেমরা, ঘাটারচর থেকে কাঁচপুর এবং মিরপুর-১২ থেকে মাওয়া।
গাজীপুর চৌরাস্তা-ঢাকেশ্বরী মন্দির রুটে শিববাড়ী, টঙ্গী, বিমানবন্দর, মহাখালী ও নিউমার্কেট হয়ে বাস চলাচলের পরিকল্পনা রয়েছে। গাবতলী-ডেমরা রুটে শ্যামলী, মহাখালী, গুলশান-১ ও রামপুরা হয়ে বাস চলবে। দুয়ারীপাড়া-সদরঘাট রুটে শ্যামলী, সায়েন্স ল্যাব ও আজিমপুর হয়ে যাত্রী পরিবহনের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
অন্যদিকে ঘাটারচর-ডেমরা রুটে মোহাম্মদপুর, শাহবাগ ও রামপুরা হয়ে বাস চলবে। ঘাটারচর-কাঁচপুর রুটে শাহবাগ, পল্টন ও সাইনবোর্ড হয়ে যাতায়াতের পরিকল্পনা রয়েছে। মিরপুর-১২ থেকে মাওয়া রুটে ফার্মগেট, শাহবাগ, গুলিস্তান ও কেরানীগঞ্জ হয়ে বাস চলাচলের কথা রয়েছে।
এসব রুটে বর্তমানে চলাচলকারী একাধিক পরিবহন প্রতিষ্ঠানের বাসকে একক পরিচালন কাঠামোর আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে বিভিন্ন রুটে কোন কোম্পানির অধীনে বাস চলবে, সে বিষয়ে সাম্প্রতিক বৈঠকের পর কিছু পরিবর্তন এসেছে। ফলে প্রাথমিক তালিকায় উল্লেখিত পরিবহন প্রতিষ্ঠানের নাম ও পরিচালন কাঠামোকে চূড়ান্ত ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই।
ডিটিসিএর পরিকল্পনা অনুযায়ী, ছয়টি রুটে বাস চালুর পাশাপাশি তিনটি চক্রাকার বাস সার্ভিসও চালুর উদ্যোগ রয়েছে। পলাশী-আজিমপুর, পলাশী-মোহাম্মদপুর-বসিলা এবং দিয়াবাড়ী-পঞ্চবটি রুটে এ ধরনের বাস চালুর কথা জানানো হয়েছে। তবে চক্রাকার বাস সার্ভিস চালুর সময়সূচি এখনো স্পষ্ট নয়।
রাজধানীর বাস রুট পুনর্বিন্যাসের পরিকল্পনায় বর্তমানে চালু থাকা ৯৮টি রুটকে কমিয়ে ৩২টি প্রধান রুটে আনার কথা রয়েছে। প্রস্তাবিত রুটগুলোর প্রায় ৭০ শতাংশ বিদ্যমান সড়কপথ অনুসরণ করবে। তবে নতুন ব্যবস্থায় কিছু যাত্রীকে গন্তব্যে পৌঁছাতে মাঝপথে বাস পরিবর্তন করতে হতে পারে।
নতুন ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য হলো একই সড়কে বাসের মধ্যে যাত্রী ওঠানোর প্রতিযোগিতা বন্ধ করা, নির্ধারিত স্টপেজ মানতে বাধ্য করা এবং যাত্রীদের জন্য তুলনামূলক সুশৃঙ্খল পরিবহনসেবা নিশ্চিত করা। পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের অভিজ্ঞতা পর্যালোচনা করে পরবর্তী সময়ে এ ব্যবস্থা স্থায়ীভাবে চালুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।