• শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:২২ অপরাহ্ন

ধর্মপাশায় সুনই সেতুর সংযোগ সড়কে মরণফাঁদ, বড় গর্তে দুর্ঘটনার ঝুঁকি

Reporter Name / ১৭ Time View
Update : শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার পাইকুরাটি ইউনিয়নে মনাই নদীর ওপর নির্মিত সুনই সেতুর সংযোগ সড়কে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়ে মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে সেতুর উত্তর পাশের সংযোগ সড়কের দুই পাশে পিচ-পাথর উঠে গিয়ে গভীর খানাখন্দ তৈরি হলেও কার্যকর কোনো সংস্কার উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে প্রতিনিয়ত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে যানবাহন ও পথচারীরা।

স্থানীয় বাসিন্দা ও নিয়মিত যাতায়াতকারীদের অভিযোগ, ২০১৩ সালে নির্মিত গুরুত্বপূর্ণ এই সেতুটির উত্তর পাশের পূর্ব ও পশ্চিম অংশে কয়েক বছর ধরে ভাঙন ও গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে এসব গর্ত প্রায় মরণফাঁদে রূপ নিয়েছে। বিশেষ করে মোটরসাইকেল, ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অটোরিকশার মতো ছোট যানবাহনগুলো গর্তে পড়ে প্রায়ই উল্টে গিয়ে মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটছে। এতে বেশ কয়েকজন যাত্রী ও চালক আহত হয়ে পঙ্গুত্ববরণ করেছেন বলেও জানান স্থানীয়রা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, একসময় মধ্যনগর উপজেলা ধর্মপাশার অন্তর্ভুক্ত ছিল। পরবর্তীতে হাওরাঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও প্রশাসনিক সেবা সহজ করতে মধ্যনগরকে পৃথক উপজেলা করা হয়। বর্তমানে ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলার অন্তত ১০টি ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ হাওর-বাঁওড় ও গারো পাহাড়ের পাদদেশের মানুষের জেলা সদর ও রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যোগাযোগের একমাত্র নির্ভরযোগ্য মাধ্যম এই সুনই সেতু। স্থানীয় সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী ও রোগীদের পাশাপাশি তাহিরপুর উপজেলার টাঙ্গুয়ার হাওর, শিমুলবাগান, লাউড়েরগড় ও টেকেরঘাটগামী দূর-দূরান্তের পর্যটকেরাও নিয়মিত এই সড়ক ব্যবহার করেন। অথচ সংযোগ সড়কের এই বেহাল দশায় পর্যটকবাহী গাড়ি ও পণ্যবাহী ভারী যানবাহনগুলোও দুর্ঘটনার শঙ্কায় পড়ছে।

এলাকাবাসীর দাবি, ২০১৫ সালের ১১ আগস্ট প্রশাসনিক কারণে ধর্মপাশা সংশ্লিষ্ট সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) কার্যক্রম পার্শ্ববর্তী নেত্রকোনা সড়ক বিভাগের অধীনে ন্যস্ত করা হয়। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সড়কটি অন্য জেলার দপ্তরের অধীনে থাকায় এটি সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণে চরম অবহেলা ও উদাসীনতা দেখা যাচ্ছে। নেত্রকোনা অংশের সড়কে নিয়মিত তদারকি ও সংস্কার হলেও এ অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে উপেক্ষিত রয়েছে।

সুনই গ্রামের বাসিন্দা সোহরাব মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘একসময় বিকেলে সেতুতে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আড্ডা দিতে আসত, বিভিন্ন ভাসমান দোকান বসত। আর এখন সেতুর দুই অংশে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় প্রতিদিন দুর্ঘটনা ঘটছে। ভুক্তভোগীদের এই অবর্ণনীয় দুর্গতি দেখার যেন কেউ নেই।’

এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ) নেত্রকোনার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইলিয়াস ফারুক জানান, সুনই সেতুর সংযোগ সড়কের দুই পাশের গর্ত সৃষ্টির বিষয়ে কর্তৃপক্ষ অবগত রয়েছে। তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেন, ‘আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। আশা করছি, চলতি সপ্তাহের মধ্যেই সংস্কারের জন্য গাড়ি ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পাঠানো হবে এবং দ্রুত সমস্যার সমাধান করা হবে।’


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
amazing-link-zeus.ca