• শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:২৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম
নাচোলে আদিবাসী ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত ৯৮.৯২% পাসের হার নিয়ে লক্ষ্মীপুরে প্রথম রায়পুরের কাজী ফারুকী কলেজ মেসিকে ব্যালন ডি’অরের ভোট দেননি কেন, জানালেন মিসরীয় সাংবাদিক নদী ভরাটে থমকে বাগলির বাণিজ্য, বিপাকে ৫০ হাজার শ্রমিক মিরপুরে ২৬ বিঘা সরকারি জমি উদ্ধার, টাঙানো হলো লাল পতাকা ট্রেন দুর্ঘটনার ধাক্কায় চাপে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী, অনিশ্চিত পুনর্নির্বাচনের সম্ভাবনা আফগান শরণার্থীদের পাকিস্তানে পাঠানোর পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের মোংলার জয়মনিতে কোস্ট গার্ডের বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ বিতরণ মৃত্যুর আগে তরুণীসহ দেড় ঘণ্টা বারে ছিলেন তাহসিফ, সিসিটিভিতে মিলল নতুন তথ্য হঠাৎ দেশবাসী জন্য সতর্কবার্তা দিল বিমান বাংলাদেশ

মেসিকে ব্যালন ডি’অরের ভোট দেননি কেন, জানালেন মিসরীয় সাংবাদিক

Reporter Name / ১৯ Time View
Update : শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬

লিওনেল মেসিকে ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অরের ভোটের তালিকায় রাখেননি এক মিসরীয় সাংবাদিক। আর্জেন্টাইন মহাতারকাকে বাদ দেওয়ার কারণ হিসেবে তিনি সামনে এনেছেন ফেয়ার প্লে বা খেলোয়াড়সুলভ আচরণের বিষয়টি। সাংবাদিকের মতে, ব্যালন ডি’অরের মতো ব্যক্তিগত পুরস্কারের ক্ষেত্রে একজন ফুটবলারের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের পাশাপাশি মাঠের আচরণ এবং খেলোয়াড়সুলভ মানসিকতাও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন। বিশেষ করে দলের অধিনায়ক হিসেবে একজন খেলোয়াড়ের দায়িত্ব শুধু নিজের পারফরম্যান্সের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না, সতীর্থদের আচরণ নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রেও তাঁর ভূমিকা থাকা উচিত। এই বিবেচনা থেকেই মেসিকে নিজের ভোটের তালিকার বাইরে রেখেছেন বলে জানিয়েছেন ওই সাংবাদিক। তাঁর এই ব্যাখ্যা প্রকাশ্যে আসার পর ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

মিসরীয় সাংবাদিকের এই সিদ্ধান্তের পেছনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে উঠে এসেছে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের কয়েকজন খেলোয়াড়ের আচরণ। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, দলের অধিনায়ক হিসেবে মেসি সতীর্থ এনজো ফার্নান্দেজ ও লিয়ান্দ্রো পারেদেসের আক্রমণাত্মক আচরণ থামাতে কার্যকর ভূমিকা নেননি। সাংবাদিকের দৃষ্টিতে, একজন অধিনায়কের দায়িত্ব কেবল মাঠে নেতৃত্ব দেওয়া কিংবা দলের হয়ে গোল করা নয়; বরং সতীর্থদের শৃঙ্খলা বজায় রাখাও তাঁর দায়িত্বের অংশ। দলের কোনো খেলোয়াড় প্রতিপক্ষের সঙ্গে আগ্রাসী আচরণ করলে অধিনায়কের উচিত পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করা। তাঁর মতে, মেসি সেই জায়গায় প্রত্যাশিত ভূমিকা পালন করেননি। এ কারণেই ফেয়ার প্লের মানদণ্ডে আর্জেন্টাইন অধিনায়ককে পিছিয়ে রেখেছেন তিনি।

নিজের সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যায় সাংবাদিক সরাসরি মেসির নেতৃত্বের বিষয়টি সামনে এনেছেন। তাঁর বক্তব্যের মূল কথা হলো, আর্জেন্টিনার অধিনায়ক হিসেবে মেসির উচিত ছিল সতীর্থদের এমন আচরণ থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করা। বিশেষ করে এনজো ফার্নান্দেজ ও লিয়ান্দ্রো পারেদেসের আচরণ নিয়ে তাঁর আপত্তি রয়েছে। ফুটবলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা, উত্তেজনা এবং শারীরিক লড়াই স্বাভাবিক বিষয় হলেও সেগুলোর মধ্যে একটি নির্দিষ্ট সীমা বজায় রাখা জরুরি। মাঠের উত্তেজনা কখনো কখনো খেলোয়াড়দের আচরণে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে অধিনায়কের উপস্থিতি ও ভূমিকা অনেক সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। সাংবাদিকের মূল্যায়নে, মেসির কাছ থেকে এই দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রত্যাশিত ছিল।

ব্যালন ডি’অরের ভোটে সাধারণত একজন ফুটবলারের পুরো বছরের পারফরম্যান্স, ব্যক্তিগত অর্জন, দলের সাফল্য এবং মাঠের বাইরের বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় আসে। তবে ভোটারদের মূল্যায়নের ধরন সব সময় এক রকম হয় না। কেউ গোল, অ্যাসিস্ট ও ব্যক্তিগত পরিসংখ্যানকে বেশি গুরুত্ব দেন, আবার কেউ দলীয় সাফল্য, গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে অবদান কিংবা খেলোয়াড়সুলভ আচরণকে অগ্রাধিকার দেন। ফেয়ার প্লে এই মূল্যায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে বিবেচিত হয়। ফলে একই ফুটবলারের পারফরম্যান্স নিয়ে ভিন্ন ভোটারের ভিন্ন মত থাকতে পারে। মেসির ক্ষেত্রেও তেমন একটি অবস্থান দেখা গেছে। মিসরীয় সাংবাদিক তাঁর ফুটবলীয় দক্ষতা নিয়ে সরাসরি কোনো প্রশ্ন না তুলে মূলত অধিনায়ক হিসেবে তাঁর দায়িত্ব পালনের বিষয়টিকে ভোটের সিদ্ধান্তের সঙ্গে যুক্ত করেছেন।

লিওনেল মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার বিবেচনা করলে আর্জেন্টিনার হয়ে তাঁর নেতৃত্বের গুরুত্ব আলাদা করে উল্লেখ করার মতো। দীর্ঘ সময় ধরে জাতীয় দলের অধিনায়কত্ব করেছেন তিনি। তাঁর নেতৃত্বে আর্জেন্টিনা ২০২১ সালে কোপা আমেরিকা, ২০২২ সালে ফিনালিসিমা এবং একই বছর কাতার বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেছে। এসব সাফল্যের মাধ্যমে আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেছেন এই তারকা। বিশ্বকাপ জয়ের পর তাঁর নেতৃত্ব নিয়ে প্রশংসাও করেছেন অনেক ফুটবল বিশ্লেষক। তবে একজন খেলোয়াড়ের সামগ্রিক অর্জন যত বড়ই হোক, ব্যক্তিগত পুরস্কারের ভোটে প্রত্যেক ভোটারের নিজস্ব মূল্যায়ন থাকতে পারে। সেই জায়গা থেকেই মিসরীয় সাংবাদিকের সিদ্ধান্তটি আলাদা আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

অন্যদিকে, সাংবাদিকের এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে মেসির সমর্থকদের মধ্যে ভিন্ন প্রতিক্রিয়া তৈরি হওয়ার সুযোগ রয়েছে। তাঁদের কাছে মেসির দীর্ঘ ক্যারিয়ার, ব্যক্তিগত অর্জন এবং আর্জেন্টিনার হয়ে অসাধারণ সাফল্যই তাঁর নেতৃত্বের বড় প্রমাণ। আবার অন্য একটি দৃষ্টিভঙ্গি থেকে অধিনায়কের দায়িত্বের বিষয়টি সামনে আসতে পারে। কারণ ফুটবলে অধিনায়কত্ব শুধু আর্মব্যান্ড পরার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং কঠিন পরিস্থিতিতে দায়িত্বশীল আচরণ করাও এর অংশ। তবে কোনো সতীর্থের প্রতিটি আচরণের জন্য অধিনায়ককে সরাসরি দায়ী করা কতটা যৌক্তিক, সেটিও আলোচনার বিষয়। ফলে সাংবাদিকের বক্তব্য একটি ব্যক্তিগত মূল্যায়ন হিসেবেই বিবেচিত হওয়া প্রয়োজন।

সব মিলিয়ে, ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অরের ভোটে মেসিকে বাদ দেওয়ার পেছনে মিসরীয় সাংবাদিক যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন, তা ফুটবলে অধিনায়কের দায়িত্ব ও ফেয়ার প্লের গুরুত্ব নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। তাঁর মতে, আর্জেন্টিনার অধিনায়ক হিসেবে মেসির উচিত ছিল এনজো ফার্নান্দেজ ও লিয়ান্দ্রো পারেদেসের আক্রমণাত্মক আচরণ থামানোর চেষ্টা করা। সেই প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ায় তিনি মেসিকে ভোট দেননি বলে জানিয়েছেন। তবে এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে মেসির ফুটবলীয় অর্জন কিংবা সামগ্রিক ক্যারিয়ারকে মূল্যায়ন করা হচ্ছে না; এটি একজন ভোটারের নির্দিষ্ট মানদণ্ডের ভিত্তিতে নেওয়া সিদ্ধান্ত। ব্যালন ডি’অরের মতো মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারে এমন ভিন্নমত থাকাটাই ভোটের বৈচিত্র্যকে তুলে ধরে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
amazing-link-zeus.ca