• সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:৪৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম
এনসিপির ১১ দলীয় জোট ছাড়ার বিষয়ে যা জানা গেল শ্রমিক আন্দোলন ঘিরে সতর্ক পুলিশ, যান চলাচল স্বাভাবিক পোশাকখাতে অস্থিরতার পেছনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত মালিক-শ্রমিকরা দায়ী: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোবাইল দিয়ে বিদ্যুতের মিটার মনিটরিং করার নিয়ম (আপডেট) এনপিএলে বোলারদের তুলোধুনো করে, বাংলাদেশকে বার্তা দিলেন আরিফুল মোটরসাইকেলের নম্বরপ্লেটে নতুন নিয়ম, কী পরিবর্তন আনল বিআরটিএ ই-পাসপোর্ট রি-ইস্যু করতে কী করবেন? মেয়াদ শেষ, পাসপোর্ট হারানো বা তথ্য পরিবর্তনের নিয়ম যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন ঘিরেও ভারতের ভাড়াটে অনলাইন প্রচার ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা নিয়ে অনিশ্চয়তা, সতর্ক উপসাগরীয় দেশগুলো দক্ষিণ লেবাননে সামরিক অবস্থানের মধ্যে সড়ক নির্মাণ করছে ইসরাইল

ই-পাসপোর্ট রি-ইস্যু করতে কী করবেন? মেয়াদ শেষ, পাসপোর্ট হারানো বা তথ্য পরিবর্তনের নিয়ম

Reporter Name / ১৬ Time View
Update : সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬

ই-পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে, পাসপোর্টের পাতা পূর্ণ হলে কিংবা ব্যক্তিগত তথ্য পরিবর্তনের প্রয়োজন হলে নতুন করে রি-ইস্যুর আবেদন করতে হয়। আবার পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে বা চুরি হলেও নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে পুনরায় পাসপোর্টের জন্য আবেদন করা যায়। তবে সব ক্ষেত্রে আবেদনের ধরন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এক নয়। তাই রি-ইস্যুর আবেদন করার আগে কোন পরিস্থিতিতে কী করতে হবে, তা জানা জরুরি।

বাংলাদেশের ই-পাসপোর্ট ব্যবস্থায় রি-ইস্যুর আবেদনও অনলাইনে করা যায়। এ ক্ষেত্রে আবেদনকারীকে আগের পাসপোর্টের নম্বর, ইস্যুর তারিখ, মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখ এবং রি-ইস্যুর কারণ উল্লেখ করতে হয়। আবেদন ফরমে রি-ইস্যুর কারণ হিসেবে পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হওয়া, পাতা শেষ হয়ে যাওয়া, তথ্য পরিবর্তন বা অন্য প্রযোজ্য কারণ নির্বাচন করতে হতে পারে।

আগের পাসপোর্টের তথ্য অপরিবর্তিত রেখে রি-ইস্যুর আবেদন করলে প্রক্রিয়াটি তুলনামূলক সহজ হতে পারে। সরকারি আবেদন ফরমের নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো তথ্য পরিবর্তন না থাকলে নির্ধারিত অংশ পূরণ করেই আবেদন করা যায়। তবে নাম, জন্মতারিখ, জন্মস্থান বা বাবা-মায়ের নামের মতো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিবর্তন করতে চাইলে সংশ্লিষ্ট প্রমাণপত্র দিতে হবে।

মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেও প্রয়োজন অনুযায়ী রি-ইস্যুর আবেদন করা যেতে পারে। বিশেষ করে পাসপোর্টের মেয়াদ এক বছরের কম থাকলে নতুন পাসপোর্টের প্রয়োজন হলে আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। বিদেশ ভ্রমণ, ভিসা বা অন্য কোনো প্রয়োজনে পাসপোর্টের পর্যাপ্ত মেয়াদ না থাকলে আগে থেকেই বিষয়টি বিবেচনা করা ভালো।

পাসপোর্টের ব্যক্তিগত তথ্য পরিবর্তনের প্রয়োজন হলে আবেদনকারীকে পরিবর্তনের কারণ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হয়। যেমন, পেশা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক পেশাগত সনদ বা শিক্ষার্থী পরিচয়পত্র প্রয়োজন হতে পারে। বৈবাহিক অবস্থা পরিবর্তন হলে বিবাহের সনদ দিতে হয়। নাম, জন্মতারিখ, জন্মস্থান কিংবা বাবা-মায়ের নাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মনিবন্ধন সনদ এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক সরকারি নথি যাচাই করা হতে পারে।

তবে পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে বা চুরি হলে বিষয়টি আরও গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে। এ ধরনের ঘটনা ঘটলে দ্রুত নিকটস্থ থানায় সাধারণ ডায়েরি বা জিডি করতে হয়। এরপর রি-ইস্যুর আবেদন করার সময় জিডির মূল কপি এবং পুরোনো পাসপোর্টের ফটোকপি বা সংশ্লিষ্ট তথ্য থাকলে তা জমা দিতে হবে। পুরোনো পাসপোর্টের কোনো কপি না থাকলেও আবেদনকারীর পরিচয় ও পাসপোর্টের তথ্য যাচাইয়ের প্রয়োজন হতে পারে।

পাসপোর্ট হারানো বা চুরির বিষয়ে নতুন করে সতর্কতামূলক নির্দেশনাও জারি করেছে সরকার। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত নির্দেশনায় হারানো, চুরি হওয়া কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত পাসপোর্ট পুনরায় ইস্যুর আগে প্রয়োজনীয় যাচাইয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। হারানো বা চুরি হওয়া পাসপোর্টের ক্ষেত্রে থানায় করা জিডি যাচাই করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন পাঠানোর ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

পাসপোর্ট ক্ষতিগ্রস্ত হলে সেটিও গোপন না করে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো উচিত। ক্ষতির ধরন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথি যাচাই করে রি-ইস্যুর আবেদন করতে হবে। ক্ষতিগ্রস্ত পাসপোর্ট ব্যবহার করে ভ্রমণের পরিকল্পনা করার আগে সেটি গ্রহণযোগ্য কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিশ্চিত হওয়া জরুরি।

রি-ইস্যুর আবেদন করার সময় আগের পাসপোর্টের মূল কপি প্রদর্শন করতে হয়। হারানো পাসপোর্টের ক্ষেত্রে মূল জিডির কপি দেখানো বা জমা দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। পাশাপাশি আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধন সনদ এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত রাখতে হবে।

আবেদন জমা দেওয়ার পর আবেদনকারীকে নির্ধারিত পাসপোর্ট অফিসে উপস্থিত হয়ে বায়োমেট্রিক তথ্য দিতে হয়। রি-ইস্যুর ক্ষেত্রেও বায়োমেট্রিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা বাধ্যতামূলক। তাই আগে পাসপোর্ট করা থাকলেও নতুন আবেদনের সময় এই ধাপ এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।

তথ্য পরিবর্তনের আবেদন হলে যাচাইয়ের জন্য অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে। বিশেষ করে নাম, জন্মতারিখ, জন্মস্থান বা বাবা-মায়ের নামের মতো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিবর্তন করা হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত নথি চাইতে পারে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে আরও বিস্তারিত যাচাইয়ের প্রয়োজন হতে পারে। তাই জরুরি ভ্রমণের পরিকল্পনা থাকলে শেষ মুহূর্তে রি-ইস্যুর আবেদন না করাই ভালো।

প্রবাসে থাকা বাংলাদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রেও পাসপোর্ট রি-ইস্যুর সুযোগ রয়েছে। তবে বিদেশে আবেদন করার নিয়ম, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও প্রক্রিয়া সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ মিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী সম্পন্ন করতে হয়। পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে বিদেশে অবস্থানরত আবেদনকারীদের স্থানীয় পুলিশ কর্তৃপক্ষের কাছে প্রয়োজনীয় প্রতিবেদন করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ মিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, রি-ইস্যুর আবেদন করার সময় প্রকৃত কারণ উল্লেখ করা এবং সঠিক তথ্য দেওয়া। পাসপোর্ট হারানো, চুরি, ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া কিংবা তথ্য পরিবর্তনের প্রয়োজন—প্রতিটি পরিস্থিতিতে আলাদা নিয়ম থাকতে পারে। তাই আবেদন জমা দেওয়ার আগে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও সর্বশেষ সরকারি নির্দেশনা যাচাই করে নেওয়া উচিত।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
amazing-link-zeus.ca