• সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:৪৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম
এনসিপির ১১ দলীয় জোট ছাড়ার বিষয়ে যা জানা গেল শ্রমিক আন্দোলন ঘিরে সতর্ক পুলিশ, যান চলাচল স্বাভাবিক পোশাকখাতে অস্থিরতার পেছনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত মালিক-শ্রমিকরা দায়ী: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোবাইল দিয়ে বিদ্যুতের মিটার মনিটরিং করার নিয়ম (আপডেট) এনপিএলে বোলারদের তুলোধুনো করে, বাংলাদেশকে বার্তা দিলেন আরিফুল মোটরসাইকেলের নম্বরপ্লেটে নতুন নিয়ম, কী পরিবর্তন আনল বিআরটিএ ই-পাসপোর্ট রি-ইস্যু করতে কী করবেন? মেয়াদ শেষ, পাসপোর্ট হারানো বা তথ্য পরিবর্তনের নিয়ম যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন ঘিরেও ভারতের ভাড়াটে অনলাইন প্রচার ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা নিয়ে অনিশ্চয়তা, সতর্ক উপসাগরীয় দেশগুলো দক্ষিণ লেবাননে সামরিক অবস্থানের মধ্যে সড়ক নির্মাণ করছে ইসরাইল

এনপিএলে বোলারদের তুলোধুনো করে, বাংলাদেশকে বার্তা দিলেন আরিফুল

Reporter Name / ১৪ Time View
Update : সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬

নেপাল প্রিমিয়ার লিগে (এনপিএল) বাংলাদেশের দুই ব্যাটারকে একসঙ্গে ওপেনিংয়ে নামিয়ে ইনিংস শুরু করে কর্ণালি ইয়াকস। দলটির হয়ে ওপেনার হিসেবে মাঠে নামেন বাংলাদেশের জিসান আলম ও আরিফুল ইসলাম। তবে দুই ওপেনারের মধ্যে ব্যাট হাতে সবচেয়ে বেশি আলো ছড়ান আরিফুল। মাত্র ২২ বলে ৪৪ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলে ক্রিকেটপ্রেমীদের নজর কাড়েন তিনি। তাঁর ইনিংসে ছিল পাঁচটি চার ও তিনটি ছক্কা। স্ট্রাইক রেট ছিল ২০০। তবে এই ইনিংসের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা ছিল বাংলাদেশেরই পেসার রিপন মণ্ডলের এক ওভারে আরিফুলের একাই ২০ রান আদায় করে নেওয়া। একই দেশের দুই ক্রিকেটারের এই লড়াই ম্যাচটিকে বাংলাদেশের সমর্থকদের কাছে বিশেষ আগ্রহের করে তোলে।

কর্ণালি ইয়াকস ও কাঠমান্ডু গুর্খাসের মধ্যকার ম্যাচে টস জিতে প্রথমে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় কাঠমান্ডু গুর্খাস। ফলে ব্যাটিংয়ে নামে কর্ণালি ইয়াকস। ইনিংসের শুরুতেই দুই বাংলাদেশি ওপেনার জিসান আলম ও আরিফুল ইসলাম ক্রিজে আসেন। দুজনের কাছ থেকেই ভালো শুরুর প্রত্যাশা ছিল দলের। কিন্তু দ্বিতীয় ওভারে ব্যক্তিগত ৭ রান করে সাজঘরে ফেরেন জিসান। পাঁচ বল মোকাবিলা করে একটি ছক্কা হাঁকান তিনি। ফলে প্রথম উইকেট হারায় কর্ণালি ইয়াকস। তবে অন্য প্রান্তে থাকা আরিফুল নিজের ব্যাটিং চালিয়ে যান। সতীর্থ ওপেনারের বিদায়ের পরও আক্রমণাত্মক মানসিকতা থেকে সরে আসেননি তিনি। বরং প্রতিপক্ষের বোলারদের ওপর চাপ তৈরি করে দ্রুত রান তুলতে থাকেন।

আরিফুলের ব্যাটিংয়ের অন্যতম আকর্ষণ ছিল তাঁর শট নির্বাচনের দক্ষতা, টাইমিং ও আত্মবিশ্বাস। মাত্র ২২ বলেই ৪৪ রান সংগ্রহ করেন এই বাংলাদেশি ব্যাটার। তাঁর ইনিংসে পাঁচটি চার ও তিনটি ছক্কা ছিল। অর্থাৎ বাউন্ডারি থেকেই আসে ৩৮ রান। স্ট্রাইক রেট ২০০ হওয়ায় বোঝা যায়, কতটা দ্রুত রান তুলেছেন তিনি। সোজা ব্যাটে দৃষ্টিনন্দন ড্রাইভ, উঁচু ফ্রন্ট আর্ম এলবো ব্যবহার করে ইনফিল্ডের ওপর দিয়ে বল পাঠানো এবং আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে পুল শট খেলার মাধ্যমে নিজের ব্যাটিংয়ের সৌন্দর্য তুলে ধরেন আরিফুল। তাঁর ব্যাটিংয়ে ছিল আক্রমণাত্মক মানসিকতা ও শটের ওপর দারুণ নিয়ন্ত্রণ। অল্প সময়ের মধ্যেই বড় রান তুলে দলের ইনিংসকে এগিয়ে নেন তিনি।

তবে আরিফুলের ইনিংসের সবচেয়ে আলোচিত অংশ ছিল বাংলাদেশের পেসার রিপন মণ্ডলের বিপক্ষে তাঁর ব্যাটিং। রিপনের করা এক ওভারে একাই ২০ রান তুলে নেন আরিফুল। একজন বাংলাদেশি ব্যাটার হিসেবে আরেক বাংলাদেশি বোলারের বিপক্ষে এমন আক্রমণাত্মক ব্যাটিং বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। রিপন মণ্ডলের জন্য ওভারটি ছিল বেশ ব্যয়বহুল। স্কোরকার্ড অনুযায়ী, ওই এক ওভারেই ২০ রান খরচ করেন তিনি। কোনো উইকেটও পাননি। অন্যদিকে আরিফুল নিজের আক্রমণাত্মক ব্যাটিং দিয়ে বুঝিয়ে দেন, সুযোগ পেলে প্রতিপক্ষের যেকোনো বোলারের বিপক্ষেই দ্রুত রান তুলতে পারেন তিনি। বিশেষ করে ২০০ স্ট্রাইক রেটে ব্যাটিং এবং এক ওভারে ২০ রান নেওয়ার ঘটনাটি তাঁর ইনিংসকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।

দুর্দান্ত ব্যাটিং করলেও ব্যক্তিগত অর্ধশতকের দেখা পাননি আরিফুল। ২২ বলে ৪৪ রান করার পর শাহাব আলমের বলে ডেভিড ওয়ার্নারের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন তিনি। তখন কর্ণালি ইয়াকসের সংগ্রহ ছিল ৬৬ রান, দুই উইকেট হারিয়ে। এর আগে দ্বিতীয় ওভারে জিসান আলমের বিদায়ের পর আরিফুল একাই দলের রান সংগ্রহের গতি বাড়িয়ে দেন। মাত্র ২২ বলের ইনিংসে পাঁচটি চার ও তিনটি ছক্কা হাঁকিয়ে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দেন তিনি। ৪৪ রানে থামলেও তাঁর ব্যাটিংয়ের প্রভাব ছিল যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে রিপন মণ্ডলের বিপক্ষে এক ওভারে ২০ রান নেওয়ার ঘটনা ম্যাচের অন্যতম আলোচিত মুহূর্ত হয়ে ওঠে।

ম্যাচের স্কোরকার্ড অনুযায়ী, ৭.৪ ওভার শেষে কর্ণালি ইয়াকসের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৭৫ রান, দুই উইকেট হারিয়ে। দলের হয়ে মাইকেল ওয়াট ১৬ বলে ১৬ রান করে অপরাজিত ছিলেন। অন্যদিকে উইকেটরক্ষক ব্যাটার ডি পি দুমরে মাত্র দুই বল মোকাবিলা করে সাত রান করে অপরাজিত থাকেন। কাঠমান্ডু গুর্খাসের হয়ে শাহাব আলম ও করণ কেসি একটি করে উইকেট নেন। বোলিংয়ে শাহাব আলম দুই ওভারে ১৪ রান দিয়ে একটি উইকেট এবং করণ কেসি দুই ওভারে ১৫ রান দিয়ে একটি উইকেট পান। রিপন মণ্ডল এক ওভার বল করে ২০ রান খরচ করেন। সব মিলিয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই কর্ণালি ইয়াকস ৭৫ রানের সংগ্রহ গড়ে তোলে।

বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে এই ম্যাচের বিশেষ আকর্ষণ ছিলেন দুই ওপেনার জিসান আলম ও আরিফুল ইসলাম। একই দলের হয়ে ইনিংস শুরু করা দুই বাংলাদেশি ব্যাটারের মধ্যে জিসান দ্রুত ফিরে গেলেও আরিফুল নিজের ব্যাটিং দিয়ে আলাদা করে নজর কাড়েন। তাঁর ২২ বলে ৪৪ রানের ইনিংস, ২০০ স্ট্রাইক রেট এবং রিপন মণ্ডলের এক ওভারে একাই ২০ রান নেওয়ার ঘটনা প্রমাণ করেছে, আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে তিনি কতটা কার্যকর হতে পারেন। বিশেষ করে দৃষ্টিনন্দন ড্রাইভ, আত্মবিশ্বাসী পুল শট এবং বাউন্ডারি মারার দক্ষতা ক্রিকেটপ্রেমীদের মুগ্ধ করেছে। নেপাল প্রিমিয়ার লিগের এই মঞ্চে আরিফুলের এমন পারফরম্যান্স বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্যও আগ্রহের বিষয় হয়ে উঠেছে। এখন তাঁর কাছ থেকে এমন ধারাবাহিক পারফরম্যান্সই প্রত্যাশা করবেন সমর্থকেরা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
amazing-link-zeus.ca