• সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:৪৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম
এনসিপির ১১ দলীয় জোট ছাড়ার বিষয়ে যা জানা গেল শ্রমিক আন্দোলন ঘিরে সতর্ক পুলিশ, যান চলাচল স্বাভাবিক পোশাকখাতে অস্থিরতার পেছনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত মালিক-শ্রমিকরা দায়ী: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোবাইল দিয়ে বিদ্যুতের মিটার মনিটরিং করার নিয়ম (আপডেট) এনপিএলে বোলারদের তুলোধুনো করে, বাংলাদেশকে বার্তা দিলেন আরিফুল মোটরসাইকেলের নম্বরপ্লেটে নতুন নিয়ম, কী পরিবর্তন আনল বিআরটিএ ই-পাসপোর্ট রি-ইস্যু করতে কী করবেন? মেয়াদ শেষ, পাসপোর্ট হারানো বা তথ্য পরিবর্তনের নিয়ম যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন ঘিরেও ভারতের ভাড়াটে অনলাইন প্রচার ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা নিয়ে অনিশ্চয়তা, সতর্ক উপসাগরীয় দেশগুলো দক্ষিণ লেবাননে সামরিক অবস্থানের মধ্যে সড়ক নির্মাণ করছে ইসরাইল

এক গোল এক অ্যাসিস্টে ম্যাচের ভাগ্য গড়লেন মেসি

Reporter Name / ১৯ Time View
Update : সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬

নিউ ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পিছিয়ে পড়েও দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে ২-১ গোলের জয় তুলে নিয়েছে ইন্টার মায়ামি। দলের এই জয়ে সবচেয়ে বড় অবদান রেখেছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসি। একটি গোল ও একটি অ্যাসিস্ট করে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার পাশাপাশি ম্যাচসেরার পুরস্কারও জিতেছেন তিনি। ৯০ মিনিট মাঠে থেকে ৮.৭ রেটিং পেয়েছেন ৩৯ বছর বয়সী এই ফুটবল তারকা। বয়সের হিসাবকে পাশ কাটিয়ে মাঠে নিজের সামর্থ্য ও প্রভাবের প্রমাণ দিয়েছেন মেসি। অন্যদিকে প্রথমে এগিয়ে গিয়েও শেষ পর্যন্ত জয় ধরে রাখতে পারেনি নিউ ইংল্যান্ড।

ম্যাচের শুরুতে দুই দলই নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ফুটবল উপহার দেয়। ইন্টার মায়ামি আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলার চেষ্টা করলেও নিউ ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগের বাধা পেরিয়ে গোলের দেখা পাওয়া সহজ ছিল না। প্রথমার্ধে কোনো দলই স্কোরবোর্ডে এগিয়ে যেতে পারেনি। ফলে গোলশূন্য সমতায় বিরতিতে যায় দুই দল। তবে দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের চিত্র পাল্টে যায়। বিরতির পর নিউ ইংল্যান্ড আক্রমণের গতি বাড়ায় এবং সেই প্রচেষ্টার ফলও পেয়ে যায় তারা। ম্যাচের ৫৩ মিনিটে গাজদাগের গোলে এগিয়ে যায় স্বাগতিক নিউ ইংল্যান্ড। এই গোলের পর ম্যাচে পিছিয়ে পড়ে ইন্টার মায়ামি। তখন জয় পেতে হলে বাকি সময়ে অন্তত দুটি গোল করতে হতো মেসিদের।

গোল হজমের পর ম্যাচে ফেরার জন্য আক্রমণে আরও মনোযোগী হয়ে ওঠে ইন্টার মায়ামি। দলের আক্রমণভাগে মেসির উপস্থিতি প্রতিপক্ষের রক্ষণকে ব্যস্ত রাখে। বলের নিয়ন্ত্রণ ও আক্রমণ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ৬৯ মিনিটে সমতায় ফেরে ইন্টার মায়ামি। মেসির অ্যাসিস্ট থেকে গোল করেন বেরেতেরামে। তার এই গোলেই ১-১ সমতায় ফিরে আসে দলটি। পিছিয়ে পড়ার পর সমতায় ফেরার ফলে ম্যাচে নতুন করে জয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয় মায়ামির সামনে। অন্যদিকে এগিয়ে যাওয়ার পর সমতা মেনে নিতে বাধ্য হওয়া নিউ ইংল্যান্ড আবারও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করে। তবে মায়ামির আক্রমণ থামানো সহজ হয়নি তাদের জন্য।

ম্যাচের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত আসে ৮৩ মিনিটে। সেই সময় নিজের গোলের মাধ্যমে ইন্টার মায়ামিকে এগিয়ে দেন লিওনেল মেসি। তাঁর এই গোলেই ২-১ ব্যবধানে লিড পায় দলটি। মাত্র ১৪ মিনিটের ব্যবধানে পিছিয়ে থাকা অবস্থা থেকে ম্যাচে এগিয়ে যাওয়ার কৃতিত্ব দেখায় ইন্টার মায়ামি। প্রথমে বেরেতেরামের গোলের জন্য সহায়তা এবং পরে নিজেই গোল করে ম্যাচের ফল নির্ধারণে প্রধান ভূমিকা রাখেন মেসি। তাঁর এই পারফরম্যান্স শুধু স্কোরশিটেই নয়, পুরো ম্যাচের পরিসংখ্যানেও প্রতিফলিত হয়েছে। এক গোল ও এক অ্যাসিস্টের মাধ্যমে দলের জয়ের দুই গোলেই সরাসরি অবদান রাখেন তিনি। শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল না হওয়ায় ২-১ ব্যবধানের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে ইন্টার মায়ামি।

পুরো ৯০ মিনিট মাঠে থাকা মেসির ব্যক্তিগত পরিসংখ্যানও ছিল উল্লেখযোগ্য। ম্যাচে ৩৮টি পাসের মধ্যে ৩৩টি সফলভাবে সতীর্থদের কাছে পৌঁছে দেন তিনি। তাঁর পাসের নির্ভুলতার হার ছিল ৮৭ শতাংশ। এ ছাড়া দুটি শট লক্ষ্যে রাখতে সক্ষম হন এবং পাঁচবার প্রতিপক্ষের বক্সে বল স্পর্শ করেন। পাঁচবার ড্রিবল করার চেষ্টা করে তিনবার সফল হন। সতীর্থদের জন্য একটি বড় সুযোগ তৈরি করার পাশাপাশি মোট একটি সুযোগ তৈরির পরিসংখ্যানও রয়েছে তাঁর নামের পাশে। প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের বিরুদ্ধে দুটি ট্যাকল করেন এবং সাতটি গ্রাউন্ড ডুয়েলের মধ্যে পাঁচটিতে জয় পান। আকাশপথের লড়াইয়েও একটি প্রচেষ্টায় সফল হন। সব মিলিয়ে আক্রমণ ও রক্ষণ—দুই ক্ষেত্রেই দলের প্রয়োজনে অবদান রাখেন তিনি।

ম্যাচ শেষে ৮.৭ রেটিং নিয়ে ম্যাচসেরা নির্বাচিত হন লিওনেল মেসি। তাঁর ধারেকাছেও ছিলেন না অন্য কোনো খেলোয়াড়ের প্রদর্শিত রেটিং। ম্যাচের ফলাফলের পাশাপাশি ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সেও নিজের শ্রেষ্ঠত্ব তুলে ধরেছেন আর্জেন্টাইন তারকা। বিশেষ করে ৩৯ বছর বয়সে এসেও পুরো ৯০ মিনিট মাঠে থেকে গোল ও অ্যাসিস্ট করার সক্ষমতা তাঁর ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের দিকটি সামনে এনেছে। ইন্টার মায়ামির জন্য এই জয় গুরুত্বপূর্ণ হলেও সমর্থকদের কাছে ম্যাচটির সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক ছিল মেসির সরাসরি দুই গোলে অবদান। একদিকে দলকে সমতায় ফেরানোর পথ তৈরি করেছেন, অন্যদিকে নিজেই গোল করে জয় নিশ্চিত করেছেন।

সব মিলিয়ে নিউ ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ইন্টার মায়ামির ২-১ গোলের জয় ছিল ঘুরে দাঁড়ানোর দারুণ একটি উদাহরণ। ম্যাচের ৫৩ মিনিটে পিছিয়ে পড়েও ৬৯ মিনিটে সমতা এবং ৮৩ মিনিটে এগিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে জয় নিশ্চিত করে দলটি। এই জয়ের নেপথ্যে সবচেয়ে বড় ভূমিকা ছিল লিওনেল মেসির। গোল, অ্যাসিস্ট, সফল পাস, ড্রিবল ও আক্রমণ তৈরির মাধ্যমে ম্যাচজুড়েই নিজের প্রভাব দেখিয়েছেন তিনি। ৮.৭ রেটিং নিয়ে ম্যাচসেরা হওয়ার মধ্য দিয়ে সেই পারফরম্যান্সের স্বীকৃতিও পেয়েছেন। নিউ ইংল্যান্ডের জন্য এটি হতাশার হার হলেও ইন্টার মায়ামির জন্য জয়টি হয়ে থাকল মেসির অসাধারণ ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে স্মরণীয় একটি ম্যাচ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
amazing-link-zeus.ca