• সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:৪৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম
এনসিপির ১১ দলীয় জোট ছাড়ার বিষয়ে যা জানা গেল শ্রমিক আন্দোলন ঘিরে সতর্ক পুলিশ, যান চলাচল স্বাভাবিক পোশাকখাতে অস্থিরতার পেছনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত মালিক-শ্রমিকরা দায়ী: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোবাইল দিয়ে বিদ্যুতের মিটার মনিটরিং করার নিয়ম (আপডেট) এনপিএলে বোলারদের তুলোধুনো করে, বাংলাদেশকে বার্তা দিলেন আরিফুল মোটরসাইকেলের নম্বরপ্লেটে নতুন নিয়ম, কী পরিবর্তন আনল বিআরটিএ ই-পাসপোর্ট রি-ইস্যু করতে কী করবেন? মেয়াদ শেষ, পাসপোর্ট হারানো বা তথ্য পরিবর্তনের নিয়ম যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন ঘিরেও ভারতের ভাড়াটে অনলাইন প্রচার ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা নিয়ে অনিশ্চয়তা, সতর্ক উপসাগরীয় দেশগুলো দক্ষিণ লেবাননে সামরিক অবস্থানের মধ্যে সড়ক নির্মাণ করছে ইসরাইল

পেনাল্টি নিয়ে অভিযোগের ঝড়, সমালোচকদের একহাত নিলেন মরিনহো

Reporter Name / ২৫ Time View
Update : সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬

পেনাল্টি বিতর্কে সমালোচকদের একহাত নিলেন হোসে মরিনহো। প্রতিটি সিদ্ধান্ত নিয়েই অভিযোগ তোলার প্রবণতা নিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করেছেন পর্তুগিজ এই কোচ। অরেলিয়েন চুয়ামেনির ঘটনায় পেনাল্টি না দেওয়ার সিদ্ধান্তকে সমর্থন করে রেফারির প্রশংসাও করেছেন তিনি। ম্যাচ শেষে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় মরিনহো বলেন, ‘পেনাল্টি নিয়ে তারা সবকিছুতেই অভিযোগ করে।’ তাঁর এই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে পেনাল্টি বিতর্কে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন তিনি। বিশেষ করে চুয়ামেনির ঘটনায় পেনাল্টির দাবি ওঠাকে অযৌক্তিক বলে মনে করেন মরিনহো। তাঁর মতে, রেফারি সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং পুরো ম্যাচ পরিচালনার ক্ষেত্রেও যথেষ্ট ভালো দায়িত্ব পালন করেছেন।

ম্যাচে চুয়ামেনির হ্যান্ডবলকে কেন্দ্র করে পেনাল্টির দাবি ওঠে। প্রতিপক্ষের খেলোয়াড় ও সমর্থকদের দাবি ছিল, বল হাতে লাগায় পেনাল্টি পাওয়া উচিত ছিল তাদের। কিন্তু ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির পর্যালোচনার পর মাঠের রেফারি নিজের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন। ফলে পেনাল্টির সুযোগ পায়নি প্রতিপক্ষ। এই সিদ্ধান্ত নিয়েই ম্যাচের পর আলোচনা শুরু হয়। ফুটবলে হ্যান্ডবলসংক্রান্ত নিয়মের ব্যাখ্যা অনেক সময় পরিস্থিতিভেদে ভিন্ন হতে পারে। বল সরাসরি হাতে লাগলেই সব ক্ষেত্রে পেনাল্টি দেওয়া হয় না। খেলোয়াড়ের হাতের অবস্থান, বলের গতিপথ এবং ঘটনাটির পরিস্থিতি বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। চুয়ামেনির ঘটনাটিও সেই নিয়মের আলোকে পর্যালোচনা করা হয়েছিল।

মরিনহো মনে করেন, চুয়ামেনির ঘটনায় পেনাল্টি দেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা ছিল না। তাঁর বক্তব্য, বলটি চুয়ামেনির শরীর থেকে প্রতিফলিত হয়ে হাতে লেগেছিল। তাই ঘটনাটিকে সরাসরি পেনাল্টি হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। এ বিষয়ে নিজের অবস্থান জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের চুয়ামেনির ঘটনাটি কখনোই পেনাল্টি নয়।’ তাঁর এই বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, তিনি রেফারির চূড়ান্ত সিদ্ধান্তকে সম্পূর্ণ সমর্থন করছেন। একই সঙ্গে প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে তাঁর বক্তব্যে। মরিনহোর মতে, মাঠের উত্তেজনা কিংবা সমর্থকদের আবেগের কারণে কোনো সিদ্ধান্তের যথার্থতা পরিবর্তিত হয় না। বরং নিয়মের ভিত্তিতেই প্রতিটি ঘটনা মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।

রেফারির পারফরম্যান্স নিয়েও ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন মরিনহো। তাঁর মতে, ম্যাচটি পরিচালনা করা সহজ ছিল না। পেনাল্টি নিয়ে বিতর্ক, খেলোয়াড়দের প্রতিক্রিয়া এবং মাঠের উত্তেজনার মধ্যেও রেফারি ভালো দায়িত্ব পালন করেছেন। বিশেষ করে ভিএআরের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়টিকে তিনি ইতিবাচকভাবে দেখেছেন। মরিনহো বলেন, ‘রেফারি খুব ভালো ছিলেন।’ এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি শুধু চুয়ামেনির ঘটনায় রেফারির সিদ্ধান্তকেই সমর্থন করেননি, বরং পুরো ম্যাচ পরিচালনার প্রশংসাও করেছেন। ফুটবলে রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক নতুন কিছু নয়। তবে প্রযুক্তির ব্যবহার চালু হওয়ার পর অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত পুনরায় পর্যালোচনার সুযোগ তৈরি হয়েছে। মরিনহোর বক্তব্যে সেই প্রযুক্তিনির্ভর সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রতিও সমর্থন প্রকাশ পেয়েছে।

অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের সমর্থকদের প্রতিক্রিয়া নিয়েও কথা বলেছেন মরিনহো। তাঁর মতে, ফুটবলে সমর্থকদের আবেগ থাকা স্বাভাবিক। তবে প্রতিটি সিদ্ধান্ত নিয়ে অভিযোগ তোলা কিংবা রেফারির ওপর চাপ সৃষ্টি করা কোনো সমস্যার সমাধান নয়। তিনি মনে করেন, অনেক সময় দর্শকেরা মাঠের ঘটনা একভাবে দেখলেও ভিডিও পর্যালোচনায় ভিন্ন চিত্র সামনে আসে। ফলে শুধু গ্যালারি থেকে দেখা দৃশ্যের ভিত্তিতে রেফারির সিদ্ধান্তকে ভুল বলা ঠিক নয়। চুয়ামেনির ঘটনাটি নিয়েও একই বিষয় তুলে ধরেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্যের মূল সুর ছিল, ফুটবলের নিয়ম সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রাখা জরুরি। কারণ নিয়মের ব্যাখ্যা না বুঝে কোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনা করলে অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক তৈরি হতে পারে। এ কারণেই প্রতিপক্ষের অভিযোগের জবাবে সরাসরি নিজের অবস্থান জানিয়েছেন এই অভিজ্ঞ কোচ।

সব মিলিয়ে পেনাল্টি বিতর্কে মরিনহোর বক্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একদিকে প্রতিপক্ষের অভিযোগ, অন্যদিকে রেফারির সিদ্ধান্তের প্রতি তাঁর দৃঢ় সমর্থন—দুই বিষয়ই ম্যাচ-পরবর্তী আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে। চুয়ামেনির ঘটনায় পেনাল্টি না দেওয়ার সিদ্ধান্তকে সঠিক বলে মনে করেন তিনি। পাশাপাশি রেফারির সামগ্রিক পারফরম্যান্সকে ভালো বলেও উল্লেখ করেছেন। তাঁর মন্তব্যের সবচেয়ে আলোচিত অংশ ছিল, ‘তারা সবকিছু নিয়েই অভিযোগ করে।’ এই বক্তব্যের মাধ্যমে প্রতিপক্ষের প্রতিবাদের প্রতি নিজের বিরক্তি প্রকাশ করেছেন মরিনহো। তবে শেষ পর্যন্ত মাঠের ফলাফলের পাশাপাশি পেনাল্টি বিতর্ক এবং রেফারির সিদ্ধান্তই আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। ফুটবলে এমন বিতর্ক সামনে আরও তৈরি হতে পারে, কিন্তু মরিনহোর অবস্থান পরিষ্কার—চুয়ামেনির ঘটনাটি পেনাল্টি ছিল না এবং রেফারি সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
amazing-link-zeus.ca