এইচএসসি পরীক্ষায় এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। আগামী ২ ও ৩ ডিসেম্বর এসব পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হবে ২৩ ডিসেম্বর। শিক্ষার্থীদের একটি বা দুটি বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়ার কারণে যেন পুরো এক বছর অপেক্ষা করতে না হয়, সে জন্য এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর ডেমরায় সামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে শিক্ষামন্ত্রী এসব তথ্য জানান।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এইচএসসি পরীক্ষার খাতা পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করা যাবে আগামী ৭ নভেম্বর পর্যন্ত। পুনর্নিরীক্ষণের ফল প্রকাশ করা হবে ২৩ নভেম্বর। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি কার্যক্রমের সময় বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত ফল প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, খাতা পুনর্নিরীক্ষণের পর যেসব শিক্ষার্থীর ফল পরিবর্তন হয়ে পাস হবে, তারা বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিক্যাল কলেজে ভর্তির সুযোগ পাবেন। তবে পুনর্নিরীক্ষণের পরও যারা অকৃতকার্য থাকবেন, তারা ভর্তির সুযোগ পাবেন না।
শিক্ষার্থীদের প্রকৃত ফলাফল নিশ্চিত করতে খাতা পুনর্নিরীক্ষণের পাশাপাশি মূল্যায়নপ্রক্রিয়ার দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করা হচ্ছে বলেও জানান শিক্ষামন্ত্রী। খাতা মূল্যায়নে ভুল বা দায়িত্বহীনতার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষকদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে মূল্যায়নে দক্ষতার ঘাটতি থাকা পরীক্ষকদের প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হবে।
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, এসএসসি পরীক্ষার খাতা পুনর্নিরীক্ষণে বড় ধরনের অসংগতি পাওয়া গেছে। প্রায় ৪৫ হাজার শিক্ষার্থীর গ্রেড পরিবর্তন হয়েছে। তাঁদের মধ্যে প্রায় পাঁচ হাজার শিক্ষার্থী ফেল থেকে পাস করেছেন। নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩ হাজার ৭৯ জন।
এসএসসি পরীক্ষার খাতা পুনর্নিরীক্ষণের অভিজ্ঞতা থেকে এইচএসসির খাতা মূল্যায়নের দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। ভবিষ্যতে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হলে বিশেষ পরীক্ষার ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।