• বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:৫৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় ৭২ নম্বরের এমসিকিউ, কোন বিষয়ে কত নম্বর? সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে বিদ্যালয়ে কোচিং, ব্যবহৃত হচ্ছে শ্রেণিকক্ষ-বিদ্যুৎ চোখে জল আনা বার্তায়, পর্তুগালকে বিদায় জানালেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো শেখ হাসিনা শ্বশুরবাড়ি বেড়াতে আসবেন না যে, পাসপোর্ট দিয়ে আনতে হবে : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ১০ মাস পর ৮৩৬ পর্যটক নিয়ে সেন্টমার্টিনের পথে প্রথম জাহাজ শেকৃবি ভিসিকে ১০ মিনিটের সময় দিলেন শিক্ষার্থীরা, এরপর কী হবে? ঢাবির ভর্তি পরীক্ষা শুরু ১২ ডিসেম্বর, জেনে নিন ইউনিটভিত্তিক যোগ্যতা দেশের প্রথম পাতাল মেট্রোরেলে নতুন ধাপ, চার প্যাকেজের চুক্তি স্বাক্ষর মাদ্রাসার ঘর নির্মাণের কথা বলে জমি দখলের অভিযোগ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ার লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণা শেখ হাসিনার, বাস্তবে কতটা সম্ভব?

Reporter Name / ৩৮ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬

আগামী ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণ এবং আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। তবে মৃত্যুদণ্ডের রায়, একাধিক মামলা, পাসপোর্টসংক্রান্ত জটিলতা ও ভারতের অবস্থানের কারণে তাঁর দেশে ফেরা কতটা সম্ভব, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

শেখ হাসিনা ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছেড়ে ভারতে চলে যান। এরপর থেকে তিনি সেখানেই অবস্থান করছেন। চলতি বছরের জুলাইয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ডিসেম্বরের দিকে দেশে ফিরবেন এবং আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতাদের নিয়ে আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন। তবে দেশে ফেরার নির্দিষ্ট দিন বা কীভাবে ফিরবেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি তিনি।

এরপর আগস্টে নয়াদিল্লিতে এক সংবাদ সম্মেলনে ডিসেম্বরকে বাংলাদেশের বিজয়ের মাস উল্লেখ করে দেশে ফেরার ইচ্ছার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, দেশে ফিরলে গ্রেপ্তার বা কারাবাসের ঝুঁকি রয়েছে, সে বিষয়েও তিনি অবগত।

তবে তাঁর ফেরার পথে সবচেয়ে বড় বাধাগুলোর একটি আইনি পরিস্থিতি। ২০২৪ সালের আন্দোলন দমনে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ২০২৫ সালের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেন। শেখ হাসিনা এ রায় প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা ও অন্যান্য অভিযোগেও একাধিক মামলা রয়েছে। দেশে ফিরলে তাঁকে এসব মামলার আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে।

শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ভারত সরকারের কাছে প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ। ২০১৩ সালের বাংলাদেশ-ভারত প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে ভারত এখনো তাঁকে ফেরত পাঠায়নি। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, বাংলাদেশের প্রত্যর্পণের অনুরোধ তারা পরীক্ষা করে দেখছে।

এদিকে দেশে ফেরার আরেকটি সম্ভাব্য পথ নিয়েও আইনি আলোচনা রয়েছে। শেখ হাসিনার কূটনৈতিক পাসপোর্ট বাতিল হওয়ায় বৈধ ভ্রমণ নথি ছাড়া তাঁর দেশে ফেরা নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ট্রাভেল পাস বা দুই দেশের মধ্যে বিশেষ ব্যবস্থার প্রয়োজন হতে পারে বলে কয়েকজন আইনজ্ঞ মত দিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে আইনজ্ঞদের মধ্যে ভিন্নমত রয়েছে।

বাংলাদেশের আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান গত ৩০ জুলাই সাংবাদিকদের বলেন, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে আইন অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাঁর দেশে ফেরার পদ্ধতি কী হবে, সেটি তাঁর নিজের বিষয় বলেও মন্তব্য করেন মন্ত্রী। অন্যদিকে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ গত ২৫ অক্টোবর জানান, প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনতে ভারতের কাছে একাধিকবার চিঠি পাঠিয়েছে বাংলাদেশ।

আওয়ামী লীগের নেতারাও শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ঝুঁকি থাকলেও তিনি ডিসেম্বরেই দেশে ফিরতে চান। তবে তাঁর ফেরার বিষয়ে ভারত সরকারের সঙ্গে কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়েছে কি না, কিংবা দেশে ফেরার প্রয়োজনীয় ভ্রমণ নথি কীভাবে নিশ্চিত হবে, সে বিষয়ে প্রকাশ্যে নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।

সব মিলিয়ে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা থাকলেও তা বাস্তবায়নের বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয়। প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া, ভারতের সিদ্ধান্ত, ভ্রমণ নথি এবং দেশে ফেরার পর আইনি পরিস্থিতি—এসব বিষয়ের ওপরই তাঁর ফেরার পরিকল্পনার বাস্তবায়ন নির্ভর করছে। ডিসেম্বর যত এগিয়ে আসবে, ততই এ বিষয়ে দুই দেশের অবস্থান ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর পরবর্তী পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
amazing-link-zeus.ca