কাদের মির্জার অপকর্মের কথা বলে শেষ করা যাবে না : মিজানুর রহমান বাদলের স্ত্রী

প্রকাশিত: ১০:৫৯ অপরাহ্ণ, মার্চ ১২, ২০২১

কাদের মির্জার অপকর্মের কথা বলে শেষ করা যাবে না : মিজানুর রহমান বাদলের স্ত্রী

মিজানুর রহমানের বাদলের বাড়িতে তার পরিবারের সদস্যরা সংবাদ সম্মেলন করেছেন। আজ শুক্রবার বিকেল ৫টায় বাদলের মুক্তির দাকিতে তারা এ সংবাদ সম্মেলন করেন। সংবাদ সম্মেলনে বাদলের স্ত্রী বিউটি আক্তার, বোন বকুল, শিপন, জোসনা আক্তার, রুমি আক্তার, মাতা, ভাই সলিম উল্যাহ টেলু ও চৌধুরী বিদ্যুৎ উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে বাদলের স্ত্রী বলেন, ‘আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলছি কোম্পানীগঞ্জের অপরাজনীতির হোতা আবদুল কাদের মির্জা ৩ মাস যাবৎ কোম্পানীগঞ্জবাসীকে জিম্মি করে রেখেছেন। তিনি একজন চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজ। তিনি সত্য বচনের নামে মিথ্যাচার করছেন। কাদের মির্জা দুইজন তাজা প্রাণ হত্যা করেছে। তার অপকর্মের কথা বলে শেষ করা যাবে না। তিনি শুধু মুক্তিযোদ্ধা খিজির হায়াতের গায়ে হাত দেননি, সারা দেশের মুক্তিযোদ্ধাদের গায়ে হাত দিয়েছেন।’

বাদলের বোনেরা বলেন, ‘মাননীয় প্রধামন্ত্রী আমার ভাই বাদলকে মুক্ত করে দিন, মুক্তি না দিলে আমরা আত্মহত্যা করব। আমাদের পিতা মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল আলম চৌধুরী আওয়ামী লীগের একজন নিবেদিত নেতা ছিলেন। স্বাধীনতার পরে গণবাহিনী আমার পিতাকে হত্যা করেছে আজও পর্যন্ত এ হত্যার বিচার হয়নি।’

এসময় তারা আরও বলেন, ‘নিহত আলা উদ্দিনের ছোট ভাই এমদাদ হোসেন রাজু গত বৃহস্পতিবার কোম্পানীগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করতে গেলে থানা পুলিশ মামলা নেয়নি। আমরা এর প্রতিবাদ জানাই।’

অপরদিকে বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জাকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে এরকম গুঞ্জন গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর থেকে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলাসহ সারা নোয়াখালীতে ছড়িয়ে পড়ে। অবশেষে গুঞ্জন মিথ্যায় পরিণত হয়েছে। তিনি বৃহস্পতিবার রাতে পৌরসভা কার্যালয়ে কয়েকজন নেতাকর্মীসহ অবস্থান করেছেন। রাত ১০টা পর্যন্ত পৌরসভার পূর্বপাশে বিপুল পরিমান র‌্যাব ও পুলিশ মোতায়েন ছিল। রাত ১০টার পর র‌্যাব চলে যায়।

পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে পৌরসভা ভবনের পূর্ব পাশে ১০-১২ জন পুলিশ, পৌরসভা কার্যালয়ের সামনে মেয়রের নিরাপত্তার জন্য ১০-১২ জন পুলিশ এবং কার্যালয়ের সামনে পুকুরের দক্ষিণ পাশে ১০-১২ জন পুলিশ এখন পর্যন্ত মোতায়েন রয়েছে। রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত নোয়াখালী পুলিশ সুপার মোঃ আলমগীর হোসেন কোম্পানীগঞ্জ থানায় অবস্থান করছিল। এছাড়া বসুরহাট পৌরসভা মেয়রের অফিসের মেইন গেটে চারটি সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে।

আজ শুক্রবার সকাল ১০টায় পৌরসভা কার্যালয়ে হামলা, গুলি ও ককটেল বিষ্ফোরণের ঘটনায় আহত বসুরহাট পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের রাজিব ও আনোয়ার, চরহাজারী ১ নম্বর ওয়ার্ডে আলা উদ্দিন, চরকাঁকড়া ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মাঈন উদ্দিনকে তাদের বাড়িতে দেখতে যান এবং তাদেরকে আর্থিক অনুদান প্রদান করেন আবদুল কাদের মির্জা।

বসুরহাট বাজারে র‌্যাব-১১, ডিবি পুলিশ, অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। চারজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে ২২ প্লাটুন পুলিশ, ৩ প্লাটুন দাঙ্গা পুলিশ, ১ প্লাটুন ডিবি পুলিশ, ২ প্লাটুন র‌্যাব এর পাশাপাশি ৭জন অতিরিক্ত পুলিশ পরিদর্শক মোতায়েন করা হয়েছে।

এছাড়াও পৌরসভার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে র‌্যাব ও পুলিশ মোতায়ন রয়েছে। পুলিশ দাবি করছে, বসুরহাট বাজারে এখন স্বাভাবিক অবস্থান বিরাজমান করছে। আজ আরও ৯ প্লাটুন পুলিশ বিভিন্ন জেলা থেকে আনা হয়েছে। তবে বসুরহাটবাসী আতঙ্কে রয়েছে, পরিস্থিতি এখনও থমথমে।

গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায় নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদলকে নোয়াখালী প্রেসক্লাবের সামনে থেকে গ্রেপ্তার করে সাদা পোশাকদারী গোয়েন্দা পুলিশ। বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা গুলিবিদ্ধ হওয়া আহত নেতাকর্মীদের সঙ্গে দেখা করে এসে পৌরসভা কার্যালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার দলের অনেকেই গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তাদের মধ্যে অনেকেই বাড়িতে আছেন, তাদেরকে দেখার জন্য বাড়িতে গিয়েছিলাম।’

তিনি আরও বলেন, ‘এখানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোটামুটি ভালো। আমি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ধন্যবাদ জানাই। আমি চাই কোম্পানীগঞ্জ থেকে অস্ত্রের রাজনীতি বন্ধ হোক। সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। এখানে মুজাক্কির ও আলা উদ্দিনকে হত্যা করা হয়েছে। আমার ও আমার কর্মীদের ওপর যে নির্বিচারে গুলি চালানো হয়েছে আমি চাই, সরকার সুষ্ঠু তদন্ত করুক। আমরা যাতে ন্যায় বিচার পাই, সেটা নিশ্চিত করুক। সুষ্ঠু তদন্তে যদি আমরা দোষী প্রমাণিত হই তাহলে সরকার আমাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করুক।’