সিরাজগঞ্জ জেলার বেলকুচিতে গত ১১ মাসে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আনিসুর রহমানের হস্তক্ষেপে ১০০টি বাল্যবিবাহ বন্ধ হয়েছে। তিনি বেলকুচি উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে অপ্রাপ্তবয়স্ক স্কুলগামী মেয়েদেরকে বাল্যবিবাহের হাত থেকে রক্ষা করেছেন। শুক্রবার রাতে বেলকুচি পৌরসভার চালা মধ্যপাড়া এলাকায় অষ্টম শ্রেণির ছাত্রীর বাল্যবিবাহ বন্ধ করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আনিসুর রহমান। কনে বেলকুচি পৌরসভার চালা মধ্যপাড়া এলাকার অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী (১৪) এর সাথে বর পৌরসভার মুকুন্দগাতী এলাকার তাতশ্রমিক (২৩) এর বাল্যবিবাহ আয়োজন করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত বাল্যবিবাহ বন্ধ করে কনের পিতাকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন এবং কনের পিতা তার মেয়েকে ১৮ বছর এর পূর্বে বিবাহ দিবেন না বলে মুচলেকা দেন। বাল্যবিবাহ বন্ধে সহযোগিতা করেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোঃ ইলিয়াস হাসান শেখ, পৌর কাউন্সিলর হাফিজুর রহমান। আর এ বাল্যবিবাহ বন্ধের মধ্য দিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসাবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এ পর্যন্ত ১০০ টি বাল্য বিবাহ বন্ধ করেছেন তিনি।
ইতিপূর্বে তিনি সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলায় দায়িত্ব পালনকালে ৩৪ টি এবং সিরাজগঞ্জ সদরে ২১৬ টিসহ সিরাজগঞ্জ জেলায় মোট ৩৫০ টি বাল্য বিবাহ বন্ধ করেছেন।
এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট আনিসুর রহমান বলেন,” বাল্যবিবাহ একটি সামাজিক অভিশাপ। এতে মাতৃমৃত্যু ও শিশুমৃত্যু বেড়ে যায় এবং নারীর ক্ষমতায়ন কমে যায়। শীঘ্রই বেলকুচি উপজেলাকে বাল্যবিবাহ মুক্ত উপজেলা হিসেবে গড়ে তোলা হবে”।