শফিকুল ইসলাম :চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার সুর্যনারায়নপুর গ্রাম থেকে পাঁকা ইউনিয়নে নতুন বর-বউকে আনতে যাওয়ার সময় বজ্রপাতে মারা গেছেন বরের বাবা, পরিবারের সদস্য, আত্মীয়-স্বজন, নৌকার মাঝিসহ ১৭ জন।। আহত হয়েছেন অনেকেই। বুধবার বেলা ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ফলে স্বজনদের আহাজারি গোটা পরিবেশ যেন ভারী হয়ে উঠেছে।
নিহত ব্যক্তিরা হচ্ছেন- সূর্য নারায়নপুর কালু হোসেন ছেলে মোঃ আলম (৪৫), একই এলাকার মোস্তফা কামাল (৪৪), টিপু মিয়া (৪০), টিপুর স্ত্রী বেলি বেগম (৩৫), সাহা লাল বাবু স্ত্রী মৌসুমী (২৫), ধুলু মিয়ার ছেলে সজীব (২২), চরবাগডাংগা গোটাপাড়া মৃত সাত্তার আলী ছেলে সহবুল আলী (৩২), মহারাজপুর ডালপাড়া মোঃ রফিকুল ছেলে বাবলু (২৭), একই এলাকার মৃত তফজুল স্ত্রী জমিলা(৭০), তমাজুল ছেলে সাদরুল(৩০), জামালেন ছেলে লেচল(৫০), ফাটা পাড়া সাদেকুল ইসলামের স্ত্রী টকি বেগম (৩০), তবজুল (৭০), পাঁচু আলী (৬০), আশিকুল ইসলাম (২৪) ও মাঝি রফিকুল (৬০)।
স্থানীয়দের মাধ্যমে জানা যায়, সোমবার রাতে সদর উপজেলার নারায়নপুর ইউনিয়নের জনতার হাট গ্রামের পাঁচু আলীর ছেলে মো. মিজানুর রহমান মামুনের সাথে বিয়ে হয় হোসেন আলীর মেয়ের। ছেলে ও ছেলের বউকে আনতে বুধবার দুপুরের দিকে যাচ্ছিলেন একটি নৌকায় বরপক্ষের লোকজন। দুপুর ১২টার দিকে বৃষ্টি শুরু হলে পদ্মা নদীর দক্ষিণ পাঁকা ঘাটের একটি ছাউনিতে আশ্রয় নেয় বরের লোকজন। এসময় বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই ১৭জন মারা যায়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাকিব আল রাব্বি জানান, বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই ১৫ জন মারা যান এবং হাসপাতালে নেয়ার পথে আরও দু’জন মারা যান। নিহতদের মধ্যে ১৩ জন পুরুষ এবং ৪ জন মহিলা। নিহত ব্যক্তিরা বেশিরভাগই সদর উপজেলার বাসিন্দা। আহতদের চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. নুরুন্নাহার নাসু জানান, হাসপাতালে ১২টি মৃতদেহ এবং ৪ জন আহত ব্যক্তিকে আনা হয়েছে। তিনি বলেন, আহত চারজনের অবস্থা খুবই সংকটজনক এবং তাদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হতে পারে।
এদিকে আহত ব্যক্তি সকলের চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছেন জেলা প্রশাসন বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মোঃ মঞ্জুরুল হাফিজ।